ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

রাবিতে সেই হামলার ঘটনায় তিন সাংবাদিক সংগঠনের বয়কটের ডাক

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচী বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ৩টি সংগঠন।

রোববার (৪ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করা এবং শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহির নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বয়কটের অংশ হিসেবে সংগঠনটির কোনো কার্যক্রম সংবাদমাধ্যমে প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এ ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তিন সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, গত ৪ অক্টোবর শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চার সাংবাদিকের ওপর হামলা চালান।

নেতাদের অভিযোগ, হামলার স্পষ্ট ভিডিও প্রমাণ থাকার পরও ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের রক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

বিবৃতিতে রাবি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব।

পৃথক বিবৃতিতে রাবিসাস পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিচার এবং সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি শাখা ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বর্জন করা হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হবে না।

পৃথক বিবৃতিতে রাবি রিপোটার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিচার এবং সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি শাখা ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বর্জন করা হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হবে না।

একইসঙ্গে বিবৃতিতে তিন সংগঠনের নেতারা আগামী সিন্ডিকেট সভায় অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করে হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আহসান হাবিবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবের স্থায়ী বহিষ্কার, ছাত্রত্ব না থাকায় বিশাল চক্রবর্তীর ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং অন্য সব দোষীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে রাবি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের মধ্যে ৪ জনকে সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিল, ৪ জনকে অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ৩ জনকে সর্তক করার সুপারিশ করা হয়েছে। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ৫৫০ তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় ৫ অক্টোবর রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল অভিযুক্ত ৩ জনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার ও ৬ জনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাবি মহিলা ক্লাবের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মহিলা ক্লাবের উদ্যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ‘রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ২০২৬’ উদযাপন করা হয়েছে। 
রাবি মহিলা ক্লাবের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্যাগসা’র যাত্রা শুরু
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড গভর্ন্যান্স স্টাডিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (প্যাগসা)।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্যাগসা’র যাত্রা শুরু
কুবি প্রেস ক্লাবের দুই দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ‘তারুণ্যের ক্যানভাসে আগামীর সাংবাদিকতা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
কুবি প্রেস ক্লাবের দুই দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা
ক্যাম্পাসে কুকুরের উৎপাতে আতঙ্ক, আহত রুয়েট শিক্ষার্থী
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ক্যাম্পাসে কুকুরের উৎপাতে আতঙ্ক, আহত রুয়েট শিক্ষার্থী
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
ভুয়া মনে করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যকে মারতে মারতে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।  বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়। এসময় পুলিশের এক সোর্সকেও মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন— কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন বাস ধরার জন্য। এসময় পুলিশ পরিচয়ে তিনজন তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। ওই শিক্ষার্থীরা পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলায় তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে তাদের মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে ফেলেন।  দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে মারতে মারতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় দুজন পুলিশ এবং একজন তাদের সোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। মারধরের শিকার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা বলেন, আমরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আমাদের সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি না শুনেই মব সৃষ্টি করে আমাদের তুলে নিয়ে যান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আরটিভি/এসআর  
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
আরও পড়ুন
পূজার দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কা, আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
ঘুমের মধ্যেই রাবি শিক্ষার্থীকে সাপের ছোবল, অতঃপর... 
রাবিতে ছাত্রদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান