
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাতে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুই ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ক্যাম্পাসে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও এমন ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী সবুজ আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে সিসিটিভি ফুটেজসহ একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। এ ছাড়া ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপেও ঘটনাটি নিয়ে পোস্ট দেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
ভুক্তভোগীর পোস্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জরুরি প্রয়োজনে হবিবুর রহমান হল থেকে হেঁটে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের পেছনের সড়ক দিয়ে খালেদা জিয়া হলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ফোন বের করে এক বন্ধুকে কল করার চেষ্টা করলে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে এসে এক ব্যক্তি তার হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেয়।
সবুজ আহমেদ জানান, মোটরসাইকেলটির পেছনের লাইট জ্বলে থাকায় নম্বর প্লেট শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ছিনতাইকারীর পরনে হলুদ গেঞ্জি ছিল।
ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তিনি মোটরসাইকেলটির পেছনে ধাওয়া করেন এবং চিৎকার করে সাহায্য চান। এ সময় মেয়েদের হলের বাজারের পাশে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিনতাইকারীকে আটকানোর চেষ্টা করলেও মোটরসাইকেলটি দ্রুত চলে যায়।
ভুক্তভোগী আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সংগ্রহ করা আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেলটিকে কাজলা গেট দিয়ে তালাইমারীর দিকে চলে যেতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
ছিনতাই হওয়া ফোনে তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত ছিল বলেও জানান তিনি।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ছিনতাইয়ের সময় সড়কে ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ ছিলেন। তাদের সামনেই মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যান। ক্যাম্পাসে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই শিক্ষার্থী। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলো খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থীর মতে, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলো খোলা থাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। গেটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা মিলতে পারে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হলসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।’
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা নাজিম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। শুধু আশ্বাস নয়, সিসিটিভি নজরদারি ও নিরাপত্তা টহল বাড়িয়ে ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করে মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
আরটিভি/এসএস




