
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে নিহত ১০ জনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন করে রয়েছেন। তারা একই পরিবারের।
শনিবার (১৬ অক্টোবর) এ ঘটনায় তিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শোক জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে মো. নাফিস তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। লায়লা জাহান নাবিলা নামে আরেকজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আর মিলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস এর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জাকারিয়া হাবিব।
প্রাণহানির ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
লায়লা জাহান নাবিলার মৃত্যুর খবরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শরমীনও শোক প্রকাশ করেছেন।
তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, টুপটুপ রিসোর্টে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগে; দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ১০টি লাশ পাওয়া যায়। লাশগুলো পুড়ে অঙ্গার হওয়ায় চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।
নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। ওই পরিবারের স্বজনরা বলছেন, ঘটনার পর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকার রামপুরা-বনশ্রী এলাকার আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, তার শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি ও ফারিহা কবির, পরিবারের সদস্য নাফিস তেহামী ও পাঁচ বছরের শিশু ফায়িজান আহমদ।
স্বজনরা বলছেন, পরিবারটি বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। শনিবার তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। সেভাবেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার আগে অগ্নিকাণ্ড সব তছনছ করে দেয়।
আরটিভি/এসআর




