
ক্যানসার, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া ও সড়ক দুর্ঘটনায় চার মাসে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) চার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে দুজন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এবং অন্য দুজন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে, কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানসহ নিখোঁজ রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে পাঁচ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীকে ঘিরে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে।
ক্যানসারে মারা যান দুই শিক্ষার্থী
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত ২৯ আগস্ট মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সোহান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর ক্যানসারের কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পা অপসারণ করতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তার ফুসফুসেও ক্যানসার শনাক্ত হয়। নিজের ২২তম জন্মদিনে তার মৃত্যু হয়। তিনি মাভাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতিরও সদস্য ছিলেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ দুই বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত ৩ অক্টোবর জার্মানিতে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদ ফারাবি। তিনি ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি জার্মানিতে উচ্চশিক্ষারত ছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ যায় মনিরের
গত ২৩ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন আরিফনগর এলাকার খাজা ছাত্রাবাসের তৃতীয় তলার বারান্দায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনির। পরে তাকে টাঙ্গাইলের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক শিক্ষার্থী এসআই মিজানুর
গত ২৩ অক্টোবর গাজীপুরের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জের তুমুলিয়া এলাকায় সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের একটি গাড়িকে অজ্ঞাত একটি যানবাহন ধাক্কা দিলে মিজানুর গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারসহ নিখোঁজ নাহিদুর
গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (সিপিএস) বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদুর রহমান তুহিন। তার সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি এবং তাদের দুই কন্যাসন্তান রুজাইনা ইনায়া ও সুনাইনা ইহানা।
ওই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। তবে নাহিদুর ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিণতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া কয়েকটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নাহিদুর ও তার পরিবারের নিখোঁজের ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের সন্ধান এবং মরদেহের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।
চার সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর পরিবারসহ নিখোঁজের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাদের মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনাগুলো আবারও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও পারস্পরিক সংযোগের গুরুত্ব সামনে এনেছে।
আরটিভি/এসএস



