
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম কালু মালিথা (৬০)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া মহল্লার লাইব্রেরি বাজার এলাকার বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ ও ৩-এর বিভিন্ন বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির ঘটনা ঘটছিল। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কালু মালিথাকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) একাডেমিক ভবন-৩-এর নবম তলায় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনা তদন্তে বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে সরবরাহ করা হয় এবং পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির সুযোগে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে অভিযুক্ত কালু মালিথা পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আটক করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. হান্নান বলেন, ট্যাপ চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা হাসিব স্যার আমাদের নিরাপত্তা জোরদার এবং সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। আনসার সদস্যদের নিয়ে আমাদের যে গ্রুপ রয়েছে, সেখানে অভিযুক্তের ছবি শেয়ার করি এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে বলি। আজ তাঁকে গেটে আটক করার পর নিরাপত্তা কর্মকর্তা হাসিব স্যারকে ফোনে বিষয়টি জানাই। পরে তিনি এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম হাসিবুর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগ পাচ্ছিলাম। বিষয়টি তদন্ত করে আমরা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। আজও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে আমাকে ফোন দিলে আমি ক্যাম্পাসে আসি। পরে ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, আমি এই মুহূর্তে পাবনায় নেই। তবে কিছুক্ষণ আগেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এর আগেও বেশ কয়েকবার ট্যাপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরটিভি/এসআর




