
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হচ্ছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি পালনের প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা।
পতাকা উত্তোলন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে হলে এর প্রেক্ষাপট আলোচনা করা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, পরবর্তীতে সেই চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকায় মানুষের মনে ঘোর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিক্ষুব্ধ সেনাসদস্যের হাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। বিক্ষুব্ধ সেই সেনাসদস্যরা অন্তরালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন। তখন দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ভেঙে যায় এবং চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কিছু সেনাসদস্যের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। সেই অবস্থায় এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ দেশের প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছিল না। এ বিষয়ে গণমাধ্যমেও কোনো সংবাদ প্রকাশ হচ্ছিল না। পরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী ও জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত জনপ্রিয়তা ছিল। আন্দোলনরত সিপাহী-জনতা সেদিন তাকে মুক্ত করে মাথায় নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছিল।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে চাইলে দেশের বাঁক পরিবর্তন করতে সক্ষম। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েও তা ঘটেছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও ২০২৪ সালে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েও ঘটেছিল। এখন আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই দেশকে সুন্দরভাবে গড়তে পারলেই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ফলপ্রসূ হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিবসটি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স), অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, এছাড়া বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মামুন সরকার।
উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) বৃহৎ পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ



