ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান বাশার গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫, ০২:৩৫ এএম
‘বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের’ চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার বাহারকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ‘বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের’ চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার বাহারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রলোভনে কয়েক শত শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার খায়রুল বাশার ও তার পরিবারের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতেন এবং সেখান থেকে অর্থ উত্তোলন করে স্থাবর সম্পদ ক্রয়, ব্যবসা পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেছেন। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি দল দুপুরে অভিযান চালিয়ে খায়রুল বাশারকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে খায়রুল বাশার তাঁর স্ত্রী খন্দকার সেলিমা রওশন ও ছেলে আরশ ইবনে বাশারকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন। চক্রটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ, স্কলারশিপ এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। ভুয়া ভিসা প্রসেসিং, মনগড়া প্রতিনিধিত্ব এবং চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হতো। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের অনেকের নামে বিদেশি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনই করা হয়নি। আবার অনেকে বিদেশে গিয়ে নানাভাবে প্রতারিত হয়েছেন।

সিআইডি আরও জানায়, ৪৪৮ জন ভুক্তভোগী প্রতারিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা করেছেন।

আরটিভি/কেএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষার প্রার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। শুরুতে দুটি ধাপে পরীক্ষার কথা বলা হলেও নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে দুই ধাপের পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। দুই ধাপে আবেদন করা সব প্রার্থীর পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। পার্বত্য তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) বাদে দেশের সব জেলায় এদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টানা ৯০ মিনিট এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নুর শামসুজ্জামানের সই করা এক জরুরি নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচির পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের জন্য কঠোর পালনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থীদের অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর কোনো প্রার্থীকে আর কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহের বিষয়ে বলা হয়েছে— আগামী ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড অথবা এসএসসির তথ্য দিয়ে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। প্রার্থীদের ফোনে ০১৫১১-৬৬২২৬৬ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়েও এ বিষয়ে জানানো হবে। তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রঙিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র এবং মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি বা স্মার্টকার্ড) সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আরও পড়ুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য জরুরি নির্দেশনা পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অধিদপ্তর। কেন্দ্রগুলোতে মোবাইল ফোন, বই, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ভ্যানিটি ব্যাগ বা কোনো ধরনের কাগজপত্র সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি কোনো ডিজিটাল বা কমিউনিকেটিভ ডিভাইস পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার জন্য প্রার্থীদের বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আরটিভি/একে
প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
আজ থালা-বাটি নিয়ে শিক্ষা ভবনে যাবেন শিক্ষকরা
বাড়িভাড়া বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে আজ রোবাবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরে যাবেন আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে এই ঘোষণা দেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী।  শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজী আরও বলেন, ‘যতক্ষণ দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ সারা দেশের শিক্ষকরা রাজপথ ছাড়বেন না। মন্ত্রণালয় থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আর কোনও আলোচনার প্রয়োজন নেই। প্রজ্ঞাপন জারি করুন, তা না হলে উপদেষ্টাকে আমাদের প্রয়োজন নেই। দাবি আদায় যত প্রলম্বিত হবে তত সংকট তৈরি হবে। আমরা শহীদ মিনারেই কাটিয়ে দেবো।  এর আগে, শনিবার অবস্থান কর্মসূচি, অনশন ও কর্মবিরতি পালনের মধ্যেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কালো পতাকা মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কদম ফোয়ারা চত্বরে পৌঁছালে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে হাজারের বেশি শিক্ষক–কর্মচারী অংশ নেন। অনশনে অংশ নেন প্রায় ১০০ জন শিক্ষক। তাদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী। শহীদ মিনারে আবস্থান কর্মসূচিতে রয়েছেন অন্য শিক্ষকরা। অন্যদিকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, এক হাজার ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা ও কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন শুরু করেন। পরে পুলিশি নির্যযাতনের পর লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। একইসঙ্গে সারাদেশে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। আরটিভি/কেএইচ
আজ থালা-বাটি নিয়ে শিক্ষা ভবনে যাবেন শিক্ষকরা
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবস্থান
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে লাগাতর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।  রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের আয়োজনে এতে সারাদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন। এতে পল্টন থেকে হাইকোর্টের সামনের কদম ফোয়ারা অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষকরা।  আয়েজক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের এ কর্মসূচিতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তসহ এনসিপির কয়েকজন নেতা অংশ নেবেন। এর আগে, গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের জাতীয় প্রেস ক্লাবের শিক্ষক সমাবেশে কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা ও কর্মচারীদের উৎসবভাতা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ২ মাস পার হলেও তাদের দাবি পূরণ না করায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ।  এর মধ্যেই গত ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষকরা। এবার মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা ও উৎসবভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি করছেন তারা।  জানতে চাইলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেন, ১৩ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়নি। উল্টো ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষকদের দাবি শিক্ষরাই আদায় করে নেবেন।  আরটিভি/কেএইচ/এস
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবস্থান
‘জুলাইয়ে ছিন্নমূল মানুষরাই সবার আগে গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছে’
জুলাই-আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেছেন, সমাজে যারা কিশোর গ্যাং, বখাটে এবং যাদের সঙ্গে চলতে ফিরতে বসতে আমরা অস্বস্তি অনুভব করি, সেই সকল ছিন্নমূল মানুষরাই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সবার আগে পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছে। রোববার (২২ জুন) ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ-এর (আপ বাংলাদেশ) আয়োজনে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা এই দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে নিজের রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সরকার। আমরা জুলাইয়ে দেখেছি, এ দেশের ছাত্র-জনতা সকল ধরনের রাজনৈতিক আদর্শকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যেভাবে ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছে, ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশের পুনর্গঠনে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই অভ্যুত্থানকে যতক্ষণ না বিপ্লবে পরিণত করা যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সমাজের সচেতন মানুষদের জীবন দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। সমাজের সচেতন নাগরিকদের রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এবং প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও ভাবতে হবে। আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বলেন, জুলাইয়ের স্বীকৃতি না পেলে আমরা ‘জুলাই যোদ্ধারা’ কেউই নিরাপদ নই। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিবেদিত সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে যেন কোনো প্রকার বিভাজন সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সকল দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং আহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন জুলাই বিপ্লবকে ‘মবোক্রেসি’ (Mobocracy) বলে অপপ্রচার চালানো না হয়, সে লক্ষ্যে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই স্বীকৃতি আদায় করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের উত্থানের মূল কারণ বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ নির্বাচনের হোতা ও বিচারব্যবস্থা ধ্বংসকারীরাই ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন পুনরায় ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য একটি জবাবদিহিতামূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কেবল তাহলেই কেউ ফ্যাসিবাদী শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারবে না। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব হোসেন লিমন বলেন, বিগত ১১ মাস পার হয়ে গেলেও জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র প্রকাশ হয়নি—এটা ভাবতেই অবাক লাগে। অথচ এই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতেই তো সরকার গঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঘোষণাপত্র প্রকাশ না হওয়ার দায় যেমন সরকারের, তেমনি জুলাইয়ে অংশ নেওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরও রয়েছে। আর দেরি নয়—অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে শহিদ পরিবার ও আহতদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে এই ঘোষণাপত্রের আলোকে সংবিধান সংস্কার এখন সময়ের দাবি। ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানার সঞ্চালনায় আরও আলোচনা করেন আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা, জবি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বিলাল হোসাইন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল হক, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আসাদুল ইসলাম, ‘জাস্টিস ফর জুলাই’-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সজিবুর রহমান এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদসহ আরও অনেকে। আরটিভি/এমকে/এআর
‘জুলাইয়ে ছিন্নমূল মানুষরাই সবার আগে গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছে’
৪৪তম বিসিএসের ২২২ জনের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত
চলমান ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় ২২২ জন প্রার্থীর পরীক্ষা স্থগিত করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (ক্যাডার শাখা) চলতি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মাসুমা আফরীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ এবং কারিগরি বা পেশাগত উভয় ক্যাডারের ৪৫ জন এবং সাধারণ ক্যাডারের পদসমূহের ১৮৭ জন রেজিস্ট্রেশন নম্বরধারী প্রার্থীর ইমেইলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। এ পরীক্ষার প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রার্থী। তারা আগে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে চান। এ জন্য তাদের ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার আবেদন করেন ২২২ জন চাকরিপ্রার্থী। এসব চাকরিপ্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুধুমাত্র তাদের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে পিএসসি। স্থগিতকৃত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার তারিখ যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইটে অথবা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে bpsc.teletalk.com.bd প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে পিএসসি। এদিকে, ৮ মে ঢাকাসহ দেশের ৮ বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষার অনেক প্রার্থী ৪৪তম বিসিএসের ভাইভা দিচ্ছেন। ফলে তারা ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ দাবি নিয়ে তারা টানা আন্দোলনও করেছেন প্রার্থীরা। যাদের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে জানতে ক্লিক করুন। আরটিভি/এএইচ-টি
৪৪তম বিসিএসের ২২২ জনের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত
আরও পড়ুন
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন
সেই মানিক মিয়াতেই শেষ বিদায় নিচ্ছেন খালেদা জিয়া
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার
রাষ্ট্রীয় শোকের ৩ দিন যেসব নির্দেশনা দিল ডিএমপি