
দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কওমি মাদরাসাভিত্তিক সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানে আগামী সাত দিনের মধ্যে ‘ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির ৬৯তম সভা এবং জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সাবকমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের শাসনের উদ্দেশ্য হতে হবে তাদের সংশোধন ও আত্মিক কল্যাণ কোনোভাবেই প্রতিশোধ নয়। লাঠি, বেত বা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত, মুখমণ্ডল ও স্পর্শকাতর অঙ্গে প্রহার, রক্তপাত বা দাগ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকাশ্যে অপমান, গালিগালাজ, কটূ ভাষা, ঘৃণাসূচক নামে ডাকা কিংবা যেকোনো ধরনের মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাসনের ক্ষেত্রে প্রথমে নম্রভাবে সতর্ক করা, প্রয়োজনে মৃদু ভর্ৎসনা ও রাগ-ধমকের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি একান্তভাবে গুরুতর হলে সর্বশেষ ধাপে অভিভাবককে লিখিতভাবে অবহিত করে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্যকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে শরিয়ত ও প্রচলিত আইন উভয় দৃষ্টিতেই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করেছে আল-হাইআতুল উলয়া।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি মাদরাসায় অবিলম্বে ‘ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি’ কার্যকর করতে হবে। কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিগ্রহ কিংবা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে দূরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনো মাদরাসায় সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় প্রমাণিত হলে কিংবা অভিযোগ পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ওই প্রতিষ্ঠানের ইলহাক বা অধিভুক্তি স্থগিত কিংবা বাতিল করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত হলে তার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে প্রশ্রয় না দেওয়াই তাদের মূলনীতি। তবে কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষকসমাজ বা উলামায়ে কেরামের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অপপ্রচার ও জালিয়াতি প্রতিরোধে প্রতিটি কওমি মাদরাসা বোর্ডকে পৃথক ‘মাদরাসা মনিটরিং সেল’ ও হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা অপবাদ ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর শিকার নিরপরাধ শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বোর্ডগুলোর আইনজীবী প্যানেল আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
প্রয়োজনে আল-হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৭০০-৭৬৩১৭৮-এ যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এসকে




