ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব ছাত্র দিবস আজ: শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
শিক্ষার্থীদের অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরার দিন বিশ্ব ছাত্র দিবস। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার সুযোগ ও মানোন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরার দিন বিশ্ব ছাত্র দিবস আজ (১৫ অক্টোবর)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। এদিন শিক্ষার্থীদের অবদান, সমস্যা, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শিক্ষার্থীরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি জাতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্ব ছাত্র দিবস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা যেতে পারে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব।

এ ছাড়া শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার ব্যয় কমানো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিস্তার এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি।

বিশ্ব ছাত্র দিবসের মূল তাৎপর্য হলো শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিক্ষার মাধ্যমে সুন্দর, বৈষম্যহীন ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা। দিবসটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের শিক্ষার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানায়।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে, গলায় ঝুলছে আইডি কার্ড’
রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখার ক্যাম্পাসে বাসচাপায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮) নিহতের ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা সাজু আহমেদ সেলিম। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন নিহত শিশুটির বাবা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে সায়নের মরদেহ নিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৌঁছান স্বজনরা। পরে সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুল ক্যাম্পাসে বাসচাপায় প্রাণ হারায় শিশু সায়ন। সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সি’ শাখার শিক্ষার্থী ছিল। সায়নের বাবা সাজু আহমেদ সেলিম ঢাকার খিলক্ষেতের বটতলা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার স্ত্রী শারমিন খাতুন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে সায়ন ছিল বড়। ছোট মেয়ে শাহরিনের বয়স চার বছর। নিহত সায়নের চাচা সোহেল রানা জানান, আগামী ১২ নভেম্বর সায়নের নবম জন্মদিন উদ্‌যাপনের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুটিকে হারিয়ে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘সবাই খুব ভেঙে পড়েছে। সায়নের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। বাসচালকের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ ছেলের মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বাবা সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, প্রতিদিন বেলা ৩টায় সায়নের ক্লাস শেষ হতো। এরপর ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে স্কুলবাস ছাড়ত। দুর্ঘটনার সময় তিনি ধানমন্ডিতে নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে আমাকে ফোন দিয়ে দ্রুত স্কুলে যেতে বলা হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে ৪০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বাসের নিচে আমার ছেলে সায়ন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্কুলড্রেস পরা, গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো। আমার দুনিয়া যেন অন্ধকার হয়ে গেল।’ সাজু আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তিনি ছেলের মরদেহ বুঝে নেন। পরে স্কুলব্যাগ ও স্কুলড্রেসও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, পরে স্কুলের অধ্যক্ষের সহায়তায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। তার দাবি, ফুটেজে একটি বাসকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেখা যায়। ওই বাসে কোনো সহকারী ছিলেন না। এ সময় তার ছেলে হয়তো খেলাধুলা করছিল। বাসটি বাম দিকে বাঁক নেওয়ার সময় সায়ন বাম পাশের চাকার নিচে চাপা পড়ে। সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, ‘এত বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ২০টি বাস এবং কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সেখানে এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। ক্যাম্পাসের ভেতরে চালক বাস চালাচ্ছেন, অথচ তার সঙ্গে কোনো হেলপার বা সহকারী নেই। হাজারো শিশুর উপস্থিতিতে চালক কীভাবে সতর্কতা ছাড়া বাস চালান? এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বাসচালকের গাফিলতি রয়েছে।’ ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য সন্তানের মরদেহ কাটাছেঁড়া করা, মামলা পরিচালনার ঝামেলা, চাকরির ব্যস্ততা ও সময়ের অভাব সব মিলিয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চান না। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতিও তার আস্থা নেই বলে জানান তিনি। সাজু আহমেদ বলেন, ‘তাই লিখিত দিয়ে সন্তানের মরদেহ নিয়ে এসেছি। তবে ওই লিখিতপত্রে দাবি জানিয়েছি, এ ঘটনা তদন্ত করে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যেন স্কুল কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’ সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেও সায়নের মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আরটিভি/এসকে
‘স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে, গলায় ঝুলছে আইডি কার্ড’
তিন দিনের সফরে চীন গেলেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তিন দিনের সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।
তিন দিনের সফরে চীন গেলেন শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘বড় পরিকল্পনা’ সরকারের
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘বড় পরিকল্পনা’ সরকারের
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি নীতিমালায় যা আছে
আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি নীতিমালায় যা আছে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল, কিশোর গ্যাং রোধ, ইভটিজিং ও ‘র‌্যাগ ডে’-র নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধ এবং রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা