
তুমুল ঝগড়া করছেন দুই বান্ধবী। একজনের হাতে লাঠি, অন্যজনের হাতে হাতপাখা। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বান্ধবীকে মারতে মাথার ওপর লাঠি তোলেন অন্যজন। তাদের সেই ঝগড়ার ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।
ভিডিওতে থাকা দুজনকে ‘বান্ধবী’ সম্বোধন করেছেন রুদ্রনীল। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমার বান্ধবীরা।’ সঙ্গে হাসিতে লুটিয়ে পড়ার ইমোজি।
রসিকতা করেই অভিনেতা দাবি করেছেন, প্রেমিকের অধিকার নিয়েই লড়ছেন তার এই দুই বান্ধবী। অভিনেতা লিখেছেন, ‘তুই কেন আমার বয়ফ্রেন্ডকে টেক্সট করবি?’
দুই বৃদ্ধা কী বলছেন, ঝগড়ার তোড়ে তা বোঝা যাচ্ছে না। তাদের ঝগড়ার ধরন দেখেই হেসে খুন রুদ্রনীল। এমনকি অভিনেতার শেয়ার করা এই ভিডিও দেখে অনেকেই হাসিতে লুটিয়ে পড়ার ইমোজি দিয়েছেন। একই ইমোজি ব্যবহার করেছেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী। অনেকে আবার এই দৃশ্যকে রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। একজন লিখেছেন ‘গ্রামীণ বিগ বস’।
পশ্চিমবঙ্গের গেল বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন রুদ্রনীল ঘোষ। নির্বাচনে দাঁড়িয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু ভোট গণনা শেষ হতেই ফলাফল বলে দিয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন বিজেপির তারকা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভন দেবকে হারাবেন একথা বহুবার বলেছিলেন। কিন্তু শোভন দেবের কাছে ২৮ হাজার ৫০৭ ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হয়েছেন।
অথচ, তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের কটাক্ষ করে এই অভিনেতা বলেছিলেন, ‘ভুল করেও যদি জয়ী হোন তাহলে মানুষের চাল চুরি, ডাল চুরিই করতে হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘যেকোনো পেশার মানুষ রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু আমার যেসব অভিনেতা বন্ধুরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, তারা বোধহয় জানতেন না, ওই দলের নেতারা চাল চুরি, ডাল চুরি, কাটমানি এসব করেছেন। যদি জানতেন, তাহলে হয়তো যোগ দিতেন না।’
এদিকে নির্বাচনে হেরে রুদ্রনীল জানান, ‘আশা করব প্রথা পাল্টে তৃণমূল এদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবে। এই নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি হেরে গেছেন শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। যে কেউ হারুন বা জিতুন, নতুন সরকারে যেন ফের দুর্নীতি না জেতে সেটাই কাম্য। জিতুক বাংলার সাধারণ মানুষের সত্যিকারের উন্নয়ণ, জিতুক বাংলার বেকারদের চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন, জিতুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও পুলিশের শিরদাঁড়া। হারুক ক্ষমতার আস্ফালন আর গুণ্ডামি। জিতুক বাংলার শরীর ও মন।
এনএস/টিআই




