
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকটা হঠাৎ করেই সাবেক স্বামী হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন অভিনয়শিল্পী শবনম ফারিয়া। এ নিয়ে যখন চলছে জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনা ঠিক তখনই এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। যদিও তিনি আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বড় একটি লেখা লিখেছিলেন। এবার সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বিচ্ছেদের এতদিন পর আপনার সাবেক স্ত্রী এ ধরনের অভিযোগ কেন সামনে আনলেন?
এ প্রশ্নর উত্তরে তিনি বলেন, ‘একটা ঘটনা এক বছর আগে যেখানে শেষ হয়ে গেছে, সেটা এখন কেন সেনসেশনালাইজড করা হচ্ছে! কেউ যদি অন্য কোনো ইস্যুতে তোপের মুখে থাকেন, এটাকে দিয়ে কনসেনট্রেশন হয়তো অন্যদিকে ডাইভার্ট করা উদ্দেশ্য হতে পারে। যদিও আমি নিশ্চিত নই। আই ডোন্ট নো, এটা আমার ধারণা। আমি ডমেস্টিক ভায়োলেন্স কখনোই সাপোর্ট করি না। স্বামী বা স্ত্রী যেই হোক, কেউ কারও গায়ে কখনও হাত তুলতে পারবে না। ডমেস্টিক ভায়োলেন্সে জড়িত থাকতে পারবে না। আমি কখনোই এসব সাপোর্ট করি না। এখানে (শবনম ফারিয়া) যে অভিযোগ এনেছে, তা সত্যিই খুব দুঃখজনক। তা ছাড়া (ফারিয়া) কিন্তু সরাসরি কোথাও বলেনি, আমি মেরে হাত ভেঙে দিয়েছি। ভাসা–ভাসাভাবে লিখেছে, যেটার মিনিং দাঁড়ায় যে হাতটা আমি ভেঙে দিয়েছি।
হাত ভাঙার অভিযোগ মিথ্যা?
প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি এটা স্বীকার করছি না। এটা একদম মিথ্যা। হতে পারে মানসিকভাবে সে ডিস্টার্বড আছে। নয়তো অন্য কোনো ব্যাপারে কনসেনট্রেশন অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে চাইছে। এটা হয়তো হতে পারে, যা আমি আগেও বলেছি।
তাহলে এতদিন পর এমন একটি ইস্যু সামনে এলো কেন?
তিনি বলেন, এটা নিয়ে এভাবে সংবাদমাধ্যমে লেখালেখির কারণে আমার পরিবার অকোয়ার্ড একটা পরিস্থিতিতে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নিউজ আসছে, আমি বউ পিটিয়েছি, এই ইমেজ আমি নিজেও কখনও চাইনি। কিন্তু ও (শবনম ফারিয়া) তো এত দিন পর্যন্ত অন্য অনেকের কাছে আমাকে রেসপেক্ট করেছে বলে শুনেছি। আমার পয়েন্টটা হচ্ছে, আমার প্রতি যদি ওর এতই বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকত, তাহলে দয়া করে এসব বলত না। হঠাৎ এতটা তিক্ত হচ্ছে কেন, এটা আমারও প্রশ্ন। ওর (ফারিয়ার) স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আমার প্রথম স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম, হতে পারে সে তার জীবনে হ্যাপি না। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে আমি কিন্তু জানি না, সবই আমার ধারণা। হতে পারে সে ইদানিং ইভ্যালি বা অন্যান্য জায়গায় অকোয়ার্ড পরিস্থিতিতে পড়েছে, তাই এমন কথা বলেছে। আবারও বলছি, সবই আমার ধারণা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে ডিভোর্স নিয়েছি, আলাদা হয়েছি। আমাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। যদি এমন হতো যে ও আমাকে কোনো উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে বা আমার বাসা থেকে ওর কাছে নোটিশ গেছে। এ রকম কিছুই কিন্তু হয়নি। আমরা কিন্তু দুজন একসঙ্গে কাজি অফিসে গিয়ে তালাক নিয়েছি। ওইখানেও আমরা কোনো কারণে নেতিবাচক মনোভাব দেখাইনি। বনিবনা হয়নি বলা ছাড়া আর তো কিছু নেই। আমি হয়তো সামনে আমার জীবন নিয়ে এগিয়ে যাব, অকারণ এসব নিয়ে কাদা-ছোড়াছুড়ি’র তো মানে হয় না।’
তাহলে আপনার দাবি অনুযায়ী আপনি নির্দোষ। এখন আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, এ নিয়ে আপনি বা আপনার পরিবার কিছু ভাবছেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছুই ভাবিনি। ঘটনাটা তো মাত্র ঘটল। এ ব্যাপারে আমার পরিবার ও কাছের বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলার দরকার আছে। সত্যি কথা বলতে, ও (ফারিয়া) খুব তাড়াহুড়া করে স্ট্যাটাস দিয়ে আবার ডিলিটও করে দেয়, আমি এ ধরনের তাড়াহুড়া করে কিছু করতে চাইছি না। আমি পারিবারিক ছেলে, পরিবার যেভাবে বলে, সেভাবেই পদক্ষেপ নেব। কদিন পর এ ধরনের অভিযোগ আসাটা তো অস্বস্তিকর।’
কেইউ/এসকে




