
কলকাতার ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা এখনও ভেন্টিলেশনে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তার সুস্থতা কামনা করছে গোটা টালিউড। এদিকে তার সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তার প্রেমিক সব্যসাচী (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন।
সেখানে তিনি লিখেছেন, হাসপাতালে ছয় দিন পূর্ণ হলো আজ, ঐন্দ্রিলার এখনও পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তবে ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, শ্বাসক্রিয়া আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে, রক্তচাপও মোটামুটি স্বাভাবিক। জ্বর কমেছে। ওর মা যতক্ষণ থাকে, নিজের হাতে ওর ফিজিওথেরাপি করায়, যত্ন নেয়। বাবা আর দিদি ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করে। সৌরভ আর দিব্য রোজ রাতে আমার সঙ্গে হাসপাতালে থাকতে আসে। আর আমি দিনে তিনবার করে গল্প করি ঐন্দ্রিলার সঙ্গে। গলা চিনতে পারে, হার্টরেট ১৩০-১৪০ পৌঁছে যায়, দরদর করে ঘাম হয়, হাত মুচড়িয়ে আমার হাত ধরার চেষ্টা করে। প্রথম প্রথম ভয় পেতাম, এখন বুঝি ওটাই ফিরিয়ে আনার এক্সটার্নাল স্টিমুলি।
তিনি আরও লেখেন, আমার আজকাল কিছুই লিখতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু আজ কিছু মানুষের বর্বরতার নমুনা দেখে লিখতে বাধ্য হলাম। ইউটিউবের কল্যাণে কয়েকটা ভুয়া ভিডিও আর ফেক থাম্বনেল বানিয়ে পয়সা রোজগার করা অত্যন্ত ঘৃণ্য মানসিকতার কাজ বলে আমি মনে করি, সেটা যে ওর বাড়ির লোকের মনে কেমন প্রভাব ফেলে তা হয়তো আপনারা বুঝবেন না। আমার চোখে ওর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেনি, অবনতি ঘটেছে মানবিকতার। ‘ভালো আছে’ বলতে আমার ভয় লাগে, কিন্তু ঐন্দ্রিলা আছে। প্রচণ্ডভাবে আছে। আমার সামনে শুয়ে থেকেও হয়তো কয়েক সহস্র মাইল দূরে আছে, কিন্তু ঠিক ফিরে আসবে। ওর একা থাকতে বিরক্ত লাগে।
জানা যায়, ‘ভাগাড়’ সিরিজ়ের পর নতুন একটি সিনেমার শুটিংয়ে গোয়ায় যাওয়ার কথা ছিল ঐন্দ্রিলার। কিন্তু হঠাৎ স্ট্রোক করায় তার সবকিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রীতিমতো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ফলে অসুস্থতার কারণে আর গোয়া যাওয়া হলো না ঐন্দ্রিলার।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) রাতে স্ট্রোক করেন ঐন্দ্রিলা। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাওরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয় ঐন্দ্রিলার। এরপর থেকেই অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।




