
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীতে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে মাইলস। ১৯৭৯ সালে শুরু হয় দলটির যাত্রা। দলগঠনের তিন মাস পর মাইলসে যুক্ত হন শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদ। এর তিন বছর পর দলটির সঙ্গে যুক্ত হন মানাম আহমেদ।
সেই হিসেবে মাইলসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য শাফিন ও হামিন। এবার তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। সেই রেশ ধরে ভাঙনের মুখে পড়েছে ব্যান্ডদল মাইলস। শাফিন আহমেদকে বাদ দিয়ে মাইলস গত কয়েক মাসে একাধিক স্টেজ শো করেছে। এরপরই বিষয়টি মাইলস ভক্তদের সামনে আসে। এ বছরের এপ্রিল থেকে মাইলস ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শাফিনের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
এবার মাইলসের মালিকানা শাফিন আহমেদের নিজস্ব দাবি করে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন শাফিন। নোটিশে কাউকে অভিযুক্ত করা না হলেও মাইলস নাম ব্যবহার করে কেউ যেন গান করতে না পারেন তার জন্য ১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইন মোতাবেক মাইলস ব্যান্ডের মালিকানা নিজের নামে করে নিয়েছেন শাফিন।
এই বিষয়ে শাফিন বলেন, তিন দশকে কখনোই প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেনি মাইলস। ব্যক্তিগত উদারতার জায়গা থেকে ব্যান্ড চলেছে। কিন্তু এই সময়ে এসে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক রাখতে গেলে কোম্পানী আইনে নিবন্ধন করাটা জরুরি বলে মনে করছি। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে আমি এই নিবন্ধন করেছি।
মাইলস ব্যান্ড নিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার একটি রেস্তুঁরোয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন শাফিন। এসময় তিনি দাবি করেন, মাইলস ব্যান্ড এখন ‘মাইলস ব্যান্ড লিমিটেড’- এর সম্পত্তি। যার একক অধিকার শুধু শাফিন আহমেদের।
শাফিন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মাইলসের আজকের অবস্থান তৈরির পেছনে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। দলের প্রত্যোকটি গান, অ্যালবাম তৈরির সময় কাজ করেছি। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে মাইলসে আমার কোনো অবদান নেই। আমাকে বাদ দিয়ে মাইলস কিছুদিন আগে কানাডায় একটি শো করেছে। ৮০০ দর্শকের মিলনায়তনে ২০০ দর্শকও হয়নি। ফ্লপ একটি শো করেছে তারা। কারণ সবাই জানেন মাইলস মানে শাফিন আহমেদ।
মাইলস ব্যান্ডে থাকাকালীন শাফিন ব্যক্তিগতভাব কিছু কাজ করেছেন বলে হামিনের দাবির প্রেক্ষিতে শাফিন আহমেদ বলেন, আমি নাকি ব্যান্ডে থাকার সময় নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে এককভাবে মিউজিকের কিছু কাজ করেছি। এখনো নিজের একক কাজ নিয়ে বেশি ব্যস্ত। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মানাম আহমেদ ১৯৯১ সাল থেকে সলো কাজ করছেন। জুয়েল আলাদা ব্যান্ড করেছেন, সলো গান করেছেন। হামিন আহমেদ নিজেও সলো কাজ করেছেন।
আলাদাভাবে মাইলস ব্যান্ডকে লিমিটেড কোম্পানীতে রূপ দেয়ার কারণ জানিয়ে শাফিন আহমেদ বলেন, মাইলসের সকল গান মাইলস ব্যান্ডের সম্পত্তি। কিন্তু হামিন আহমেদ অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গানগুলো দিয়ে ব্যক্তিগত সাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ তুলেছেন। সেই গানের রয়্যালিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
সবাইকে উদার হবার আহ্বান জানান শাফিন। তিনি বলেন, সবাই চাইলে মাইলস লিমিটেডে আসতে পারেন। সবার জন্য দরজা খোলা আছে। আলোচনার হতে পারে।
নিজের বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শাফিন আহমেদ। এসময় এক প্রশ্নের উত্তরে শাফিন জানান, ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর মাইলস লিমিটেডের নিবন্ধন নেয়া হয়েছে। এখন থেকে মাইলস লিমিটেডের মালিকানা শাফিন আহমেদের।
৩৬ বছরের পুরনো ব্যান্ড মাইলসকে নিজের নামে মাইলস লিমিটেড করার ক্ষেত্রে অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাফিন আহমেদ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সেই ধারবাহিকতায় এই নিবন্ধন নেয়া হয়েছে।
এখন থেকে মাইলস নাম ব্যবহার করে কেউ গান তৈরি ও স্টেজ শো করলে কি ধরণের পদক্ষেপ নেবেন? জানতে চাইলে শাফিন বলেন, শাফিন আহমেদের অনুমতি ছাড়া মাইলস নাম ব্যবহার করে কেউ গান করতে পারবে না। এরই মধ্যে আমি আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ দিয়েছি। কেউ যদি মাইলস নাম ব্যবহার করে গান করে তখন আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পিআর/এম




