
‘স্পাইডার ম্যান’ মার্ভেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সুপারহিরোদের একজন। সনি থেকে শুরু করে এমসিইউর যৌথ প্রযোজনায়, তিনি ইতিমধ্যে গ্রিন গবলিন, ডক অক, স্যান্ডম্যান, ভেনম, ইলেকট্রো, ভালচার, লিজার্ড ও মিস্টেরিও- এমন বহু আইকনিক ভিলেনের মুখোমুখি হয়েছেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক খলনায়ককে বড় পর্দায় দেখা যেতে পারে। তবে স্পাইডার ম্যানের ইতিহাসে এমন কিছু ভিলেনও আছেন, যাদের গল্প এতটাই অন্ধকার, নির্মম বা বিকৃত যে এমসিউর পরিবার-বান্ধব টোনে তাদের দেখানো প্রায় অসম্ভব। খবর কমিকবুকের।
চলুন দেখে নেই নরক থেকে আগত দানবীয় চরিত্র থেকে শুরু করে বিকৃত দেহভক্ষণকারী ভিলেন, যাদের এমসিইউতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
৩) কাইন্ড্রেড

কমিকসে বেশ নতুন হলেও কাইন্ড্রেড দ্রুতই ‘স্পাইডার ম্যান’র অন্যতম জটিল ভিলেনে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিচয় ছিল রহস্যময়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল এটি হ্যারি ওসবোর্ন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের পরিচয় ছিল এক চমকপ্রদ হলেও কিছুটা হতাশাজনক মোড়।
কাইন্ড্রেড মূলত নরক থেকে ফিরে এসেছিল স্পাইডার ম্যান ও নরমান ওসবোর্নের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে। পুরো গল্পজুড়ে সিন-ইটারের দৌরাত্ম্য, নরমানের ‘পাপমোচন’, এবং অদ্ভুত মোড় ঘুরে গল্প এগোয়।
সমস্যা হলো- এমসিইউর পারিবারিক টোনে নরক থেকে আগত এক দানবীয় ভিলেনকে কেন্দ্র করে এত ভারী গল্প বলা কঠিন। মেফিস্টো থাকলেও, কাইন্ড্রেডের লোর এত বিশাল যে এমসিইউর সিনেমায় তা বাস্তবায়ন করা কার্যত অসম্ভব।
২) ফ্রিক

এ ভিলেন এমসিইউর জন্য অন্য মাত্রায় ‘অতি অন্ধকার’। ফ্রিক মূলত একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি, যে কার্ট কনার্সের ল্যাব থেকে মাদক খুঁজতে গিয়ে ভুল করে ‘অ্যানিমাল স্টেম সেল’ ইনজেক্ট করে। নেশাগ্রস্তের শরীরে ইনজেকশন নেওয়া-এটিই এমসিইউর জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর।
তারপর শুরু হয় প্রকৃত দুঃস্বপ্ন। স্টেম সেল তার শরীরকে বিকৃত করে চামড়াহীন দানবে পরিণত করে। সে মারা যায়, আবার ফিরে আসে-প্রতিবার আরও বেশি বিকৃত ও শক্তিশালী হয়ে। ডিসির ডুমসডের মতো, মৃত্যুর পর আবার বেঁচে ওঠাই তার ক্ষমতা। সে সবসময় আরও নেশার খোঁজে থাকে।
এ ধরনের বডি-হরর এমসিইউর স্পাইডার ম্যান মুভিতে কখনোই মানাবে না।
১) দ্য থাউজেন্ড

‘স্পাইডার ম্যান’র অন্যতম বিকৃত ও অবজ্ঞাত ভিলেন ‘দ্য থাউজেন্ড’। কার্ল কিং নামের এক বুলির গল্প এটি, যে পিটারের স্পাইডার-বাইটের মুহূর্তটি দেখেছিল। সমান ক্ষমতা পাওয়ার আশায় সে রেডিওঅ্যাকটিভ মাকড়সাটিকে গিলে ফেলে।
ফলাফল ভয়াবহ। স্পাইডার ম্যানের মতো ক্ষমতা পাওয়া তো দূরের কথা- সে পরিণত হয় হাজারো মাকড়সার এক হাইভে। সে মানুষের শরীরের ভেতর ঢুকে তাদের খেয়ে ফেলে এবং তাদের ত্বক পরে ঘুরে বেড়ায়। নিজের বান্ধবী থেকে শুরু করে বাবা-মা, অপরিচিত মানুষ সবাই তার শিকার। বহু বছর ধরে সে পিটারকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।
এরকম দেহভক্ষণকারী, ত্বক-পরা ভিলেন এমসিইউতে আনা তো দূরের কথা, একটি আর-রেটেড হরর মুভিতেও এমন ভয়ঙ্কর চরিত্র রাখা সাহসের ব্যাপার।
আরটিভি/কেআই




