ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোথায় আছেন ‘আয় খুকু আয়’-এর সেই খুকু

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
কোথায় আছেন ‘আয় খুকু আয়’-এর সেই খুকু। ছবি: সংগৃহীত

একসময় রেডিও বা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন এলেই মানুষ চ্যানেল বদলাত। কিন্তু একটি কণ্ঠ ছিল, যে কণ্ঠে বিরক্তিকর বিজ্ঞাপনও হয়ে উঠত শ্রুতিমধুর, মনে থেকে যাওয়ার মতো। সেই কণ্ঠই শ্রাবন্তী মজুমদার।

‘আয় খুকু আয়’- এই একটি গানেই বাঙালি বুঝে গিয়েছিল, এটি শুধু সংগীত নয়, সম্পর্কের গল্প। বাবার আদর, সন্তানের অপেক্ষা, দূরত্ব আর স্মৃতির মায়া-সবকিছু একসঙ্গে ধরা পড়েছিল তার কণ্ঠে।

বর্তমানে তিনি থাকেন আইরিশ সাগরের ছোট্ট দ্বীপ আইল অব ম্যান-এ। কিন্তু তার কণ্ঠ, তার স্মৃতি, তার গান রয়ে গেছে বাংলার ঘরে ঘরে-কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত। পাঁচ দশক পেরিয়েও শ্রাবন্তী মজুমদার তাই কেবল একজন শিল্পী নন, বাঙালির আবেগের ইতিহাস।

প্রায় পাঁচ দশক আগে প্রকাশিত ‘আয় খুকু আয়’ গানটি আজও বাঙালির আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ভি বালসারার সুরে গানটি গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদার।

শ্রাবন্তীর ভাষায়, গানটি মূলত তার পূজার অ্যালবামের জন্যই তৈরি হয়েছিল। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গান গাওয়ার ইচ্ছা থেকেই এই ঐতিহাসিক যুগলবন্দি।

মজার বিষয়, মুক্তির পর প্রথম দুই বছর গানটি তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। পরে মঞ্চে এককভাবে গানটি গাইতে শুরু করলে ধীরে ধীরে শ্রোতাদের আবদারে পরিণত হয় ‘আয় খুকু আয়’।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র দ্য ফাদার-এ গানটি ব্যবহারের পর নতুন প্রজন্মের কাছেও গানটি নতুনভাবে পরিচিত হয়। অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের বিষয়টি দুঃখ দিলেও, মানুষের আবেগে গানটির প্রভাব শ্রাবন্তীকে আবেগাপ্লুত করে।

বাবাকে হারানোর পর গানটির অর্থ আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেন তিনি। বিদেশে বসে গানটি গাইতে গাইতে বহুবার চোখের জল ফেলেছেন-সে কথাও অকপটে স্বীকার করেন।

একসময় প্রসাধনী বা হেয়ার অয়েলের বিজ্ঞাপনে গান গাওয়াকে ‘লঘু’ কাজ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু শ্রাবন্তীর কণ্ঠ সেই ধারণা বদলে দেয়। গোপনে অডিশন দিয়ে জিঙ্গেল গাওয়া শুরু, সেখান থেকেই এইচএমভিতে গান রেকর্ড-তার কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্যই তাকে আলাদা করে তোলে।

সমালোচকদের মতে, শ্রাবন্তীর কণ্ঠে স্বাভাবিকভাবেই ছিল ‘ফিউশন’-আধুনিক, লোকগান, রোমান্টিক বা বিজ্ঞাপন-সবখানেই সাবলীল।

‘তুমি আমার মা… আমি তোমার মেয়ে’, ‘নাম বোলো না’, ‘মন আমার দেহঘড়ি’, ‘কলকাতার বউ ঢাকার জামাই’, ‘বনমালী তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা’-বিভিন্ন ধারার গানে শ্রাবন্তীর কণ্ঠ রেখে গেছে নিজস্ব ছাপ।

২৫ বছর আগে কলকাতা ছেড়ে আইল অব ম্যানের রাজধানী ডগলাসে স্থায়ী হলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিই তার শিকড়। নিজেকে পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, আমি প্রথমত বাঙালি, দ্বিতীয়ত বাঙালি, শেষ পর্যন্তও বাঙালি।

আরও পড়ুন

আলী যাকের, ফকির আলমগীর, আসাদুজ্জামান নূর, রুনা লায়লা-বাংলাদেশের বহু শিল্পীর সঙ্গে কাজের স্মৃতি আজও উজ্জ্বল।

চট্টগ্রামে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা, সোলসের গান গাওয়া, আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণে শোক-সবই এখনো তার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। বিশেষভাবে ফেরদৌসী রহমানের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে তিনি বলেন, তার গান আজও নিয়মিত শোনেন এবং দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ঢাকায় গান গাওয়া, মানুষের ভালোবাসা-সবই আজও তার কাছে জীবন্ত স্মৃতি। আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশে আবার যেতে চাই খুব।

আরটিভি/কেআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৬০ লাখ ডলারের গয়না লুট, কার্দাশিয়ানকে আদালত ক্ষতিপূরণ দিল মাত্র ১ ইউরো
২০১৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ান।
৬০ লাখ ডলারের গয়না লুট, কার্দাশিয়ানকে আদালত ক্ষতিপূরণ দিল মাত্র ১ ইউরো
বাবা হারালেন কণ্ঠশিল্পী সালমা
সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার বাবা ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে বাবার মৃত্যুর খবরটি নিজেই জানিয়েছেন সালমা।
বাবা হারালেন কণ্ঠশিল্পী সালমা
ক্যানসারে মারা গেলেন অভিনেত্রী নাকামুরা ইউরি
মলাশয়ের ক্যানসারে (রেকটাল ক্যানসার) আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জাপানি-কোরিয়ান অভিনেত্রী নাকামুরা ইউরি। গত ১ সেপ্টেম্বর ৪৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৪ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে অভিনেত্রীর এজেন্সি আলফা।
ক্যানসারে মারা গেলেন অভিনেত্রী নাকামুরা ইউরি
নতুন সুখবর দিলেন ওমর সানী-মৌসুমী
দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় প্রবাসজীবন কাটালেও ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী কাজের সুবাদে বা নানা কারণে মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনাম হন। পারিবারিক কারণে দূরে থাকলেও ভক্তদের মাঝে তিনি হঠাৎ এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হাজির হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিত্রনায়ক ওমর সানী তার ফেসবুক পেজে মৌসুমীর এই ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। মূলত নিজেদের পারিবারিক রেস্টুরেন্ট ব্যবসার নতুন উদ্যোগের খবর জানাতেই এই ভিডিও বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। ভিডিওতে মৌসুমী জানান, তাদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি রেস্টুরেন্ট’-এর প্রথম শাখা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বেশ সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার সাভারের হেমায়েতপুরে চালু হতে যাচ্ছে রেস্টুরেন্টটির নতুন শাখা। আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করা হবে। ঐতিহ্যবাহী ‘চাপ’-এর পাশাপাশি সব ধরনের বাঙালি খাবার এই নতুন শাখায় পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। এদিকে, এই ভিডিও বার্তার মধ্য দিয়ে আরেকটি বিষয় বেশ স্পষ্ট হয়েছে। এর আগে প্রায়ই ওমর সানী ও মৌসুমীর দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানা বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা যেত। তবে সম্প্রতি একটি ভিডিও কলে তাদের সাবলীল কথোপকথন এবং এবার রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রচারে মৌসুমীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সব গুঞ্জনকে এক প্রকার উড়িয়ে দিয়েছে। এতেই স্পষ্ট হয় যে, সমস্ত গুঞ্জন পেছনে ফেলে এই তারকা দম্পতির মধ্যকার সম্পর্ক ও বোঝাপড়া এখনো বেশ সুমধুর ও অটুট রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
নতুন সুখবর দিলেন ওমর সানী-মৌসুমী
পরিচালকের সঙ্গে প্রেম, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন অভিনেত্রী রামায়া!
প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করে আসা রামায়া কৃষ্ণানের গোপন প্রেম এখনও চর্চিত সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। বাহুবলির মা হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী বিয়ের আগেই এক পরিচালকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। যা গড়ায় গর্ভপাতের মতো ঘটনাতে।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৯৯ সালে দক্ষিণী পরিচালক কে এস রবিকুমারের সঙ্গে প্রথম সিনেমায় কাজ করেন রামায়া। এরপর একটা সময় ঘণিষ্ঠতা বাড়ে দু’জনের। বিবাহিত পরিচালকের সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্কের খবর গোপন ছিল না অন্দরমহলে।  সকলেই জানতেন তাদের প্রেমের কথা। কে এসের অনেক সিনেমাতেই কাজ করেন রামায়া। সেখান থেকেই দুজনের সম্পর্ক গড়ায় পরিণয়ে। এরপর একসময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। বিষয়টি জানতে পারেন রবিকুমারের স্ত্রী। হুমকি দেন রামায়াকে।  যে কারণে সন্তানের জন্ম ও পরিচয় দিতে অস্বীকার করেন পরিচালক। ফলে একপর্যায়ে এসে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন রামায়া। আর সেজন্য নাকি কে এস রবিকুমারের থেকে ৭৫ লক্ষ টাকাও চেয়ে নেন অভিনেত্রী। যদিও গণমাধ্যমের কাছে বিভিন্নসময় প্রেম-গর্ভপাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দুজনেই। তবে দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের এই ‘গোপন সম্পর্কের’ খবর এখনও চর্চিত হয় বিভিন্ন সময়ে।  পরবর্তীতে ২০০৩ সালে পরিচালক কৃষ্ণা বামসির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন অভিনেত্রী। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। যার নাম হৃত্বিক কৃষ্ণান। বর্তমানে কৃষ্ণা বামসির সঙ্গেই সুখের সংসার এই অভিনেত্রীর।  উল্লেখ্য, রামায়া কৃষ্ণান দক্ষিণের জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী। দক্ষিণের এই অভিনেত্রী দুই যুগের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। নিজের ক্যারিয়ারে প্রায় ২৬০টি সিনেমা করে ফেলেছেন তিনি। রামায়াকে সর্বশেষ দেখা গেছে রজনীকান্তের সঙ্গে ‘জেলার’ চলচ্চিত্রে। আরটিভি/এসআর
পরিচালকের সঙ্গে প্রেম, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন অভিনেত্রী রামায়া!