ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোথায় আছেন ‘আয় খুকু আয়’-এর সেই খুকু

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
কোথায় আছেন ‘আয় খুকু আয়’-এর সেই খুকু। ছবি: সংগৃহীত

একসময় রেডিও বা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন এলেই মানুষ চ্যানেল বদলাত। কিন্তু একটি কণ্ঠ ছিল, যে কণ্ঠে বিরক্তিকর বিজ্ঞাপনও হয়ে উঠত শ্রুতিমধুর, মনে থেকে যাওয়ার মতো। সেই কণ্ঠই শ্রাবন্তী মজুমদার।

‘আয় খুকু আয়’- এই একটি গানেই বাঙালি বুঝে গিয়েছিল, এটি শুধু সংগীত নয়, সম্পর্কের গল্প। বাবার আদর, সন্তানের অপেক্ষা, দূরত্ব আর স্মৃতির মায়া-সবকিছু একসঙ্গে ধরা পড়েছিল তার কণ্ঠে।

বর্তমানে তিনি থাকেন আইরিশ সাগরের ছোট্ট দ্বীপ আইল অব ম্যান-এ। কিন্তু তার কণ্ঠ, তার স্মৃতি, তার গান রয়ে গেছে বাংলার ঘরে ঘরে-কলকাতা থেকে ঢাকা পর্যন্ত। পাঁচ দশক পেরিয়েও শ্রাবন্তী মজুমদার তাই কেবল একজন শিল্পী নন, বাঙালির আবেগের ইতিহাস।

প্রায় পাঁচ দশক আগে প্রকাশিত ‘আয় খুকু আয়’ গানটি আজও বাঙালির আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ভি বালসারার সুরে গানটি গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদার।

শ্রাবন্তীর ভাষায়, গানটি মূলত তার পূজার অ্যালবামের জন্যই তৈরি হয়েছিল। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গান গাওয়ার ইচ্ছা থেকেই এই ঐতিহাসিক যুগলবন্দি।

মজার বিষয়, মুক্তির পর প্রথম দুই বছর গানটি তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। পরে মঞ্চে এককভাবে গানটি গাইতে শুরু করলে ধীরে ধীরে শ্রোতাদের আবদারে পরিণত হয় ‘আয় খুকু আয়’।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র দ্য ফাদার-এ গানটি ব্যবহারের পর নতুন প্রজন্মের কাছেও গানটি নতুনভাবে পরিচিত হয়। অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের বিষয়টি দুঃখ দিলেও, মানুষের আবেগে গানটির প্রভাব শ্রাবন্তীকে আবেগাপ্লুত করে।

বাবাকে হারানোর পর গানটির অর্থ আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেন তিনি। বিদেশে বসে গানটি গাইতে গাইতে বহুবার চোখের জল ফেলেছেন-সে কথাও অকপটে স্বীকার করেন।

একসময় প্রসাধনী বা হেয়ার অয়েলের বিজ্ঞাপনে গান গাওয়াকে ‘লঘু’ কাজ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু শ্রাবন্তীর কণ্ঠ সেই ধারণা বদলে দেয়। গোপনে অডিশন দিয়ে জিঙ্গেল গাওয়া শুরু, সেখান থেকেই এইচএমভিতে গান রেকর্ড-তার কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্যই তাকে আলাদা করে তোলে।

সমালোচকদের মতে, শ্রাবন্তীর কণ্ঠে স্বাভাবিকভাবেই ছিল ‘ফিউশন’-আধুনিক, লোকগান, রোমান্টিক বা বিজ্ঞাপন-সবখানেই সাবলীল।

‘তুমি আমার মা… আমি তোমার মেয়ে’, ‘নাম বোলো না’, ‘মন আমার দেহঘড়ি’, ‘কলকাতার বউ ঢাকার জামাই’, ‘বনমালী তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা’-বিভিন্ন ধারার গানে শ্রাবন্তীর কণ্ঠ রেখে গেছে নিজস্ব ছাপ।

২৫ বছর আগে কলকাতা ছেড়ে আইল অব ম্যানের রাজধানী ডগলাসে স্থায়ী হলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিই তার শিকড়। নিজেকে পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, আমি প্রথমত বাঙালি, দ্বিতীয়ত বাঙালি, শেষ পর্যন্তও বাঙালি।

আরও পড়ুন

আলী যাকের, ফকির আলমগীর, আসাদুজ্জামান নূর, রুনা লায়লা-বাংলাদেশের বহু শিল্পীর সঙ্গে কাজের স্মৃতি আজও উজ্জ্বল।

চট্টগ্রামে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা, সোলসের গান গাওয়া, আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণে শোক-সবই এখনো তার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। বিশেষভাবে ফেরদৌসী রহমানের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে তিনি বলেন, তার গান আজও নিয়মিত শোনেন এবং দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ঢাকায় গান গাওয়া, মানুষের ভালোবাসা-সবই আজও তার কাছে জীবন্ত স্মৃতি। আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশে আবার যেতে চাই খুব।

আরটিভি/কেআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দুটো টাকার জন্য কত কী করতে হয়: কৌশানী
ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় ও আবেদনময়ী অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জি ‘বহুরূপী’র সাফল্যের পর কিছুটা আড়ালের দুবছর পর আবার ঝিমলি চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি।
দুটো টাকার জন্য কত কী করতে হয়: কৌশানী
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ যা দেখবেন
কোনো দিনই আপনার ঋণ শোধ করতে পারব না বাবা: মিশা সওদাগর
ঢালিউডের জনপ্রিয় আইকনিক খলঅভিনেতা মিশা সওদাগর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন। বর্তমানে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী খলঅভিনেতা। নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন তিনি।  দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক শিল্পী ও নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন এ অভিনেতা। এখনো নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন মিশা সওদাগর। নতুন সিনেমার কাজ, শুটিংসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেও তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।  দীর্ঘ পথচলার এই সময়ে নিজের ক্যারিয়ারে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসছেন এ খলঅভিনেতা। এবার ঠিক তেমনই এক নির্মাতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মিশা সওদাগর। এবার সামাজিক মাধ্যমে বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন মিশা সওদাগর। সেই পোস্টে ছটকু আহমেদকে ‘বাবা’ সম্বোধন করে নিজের জীবনে তার অবদানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।  মিশা সওদাগরের এই আবেগঘন পোস্ট পরিচালক ছটকু আহমেদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল একজন পরিচালক কিংবা অভিনেতার ছিল না। তার ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার পেছনে পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেই মনে করেন এ খলঅভিনেতা। তাই প্রিয় এ মানুষটির জন্মদিনে নিজের দীর্ঘদিনের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার কথাই প্রকাশ করেছেন মিশা সওদাগর। সামাজিক মাধ্যমে তার পোস্টে এ খলঅভিনেতা লিখেছেন— ‘কোনো দিনই আপনার ঋণ শোধ করতে পারব না বাবা। আমি সারাজীবন আপনার কাছে ঋণী।’ শুভ জন্মদিন জানিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন এবং আনন্দে থাকুন। শুভ জন্মদিন বাবা।’ তিনি বলেন, ‘এ মিশা সওদাগর হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আপনার। আপনার কাছে  আমি কৃতজ্ঞ।’ আরটিভি/এসআর
কোনো দিনই আপনার ঋণ শোধ করতে পারব না বাবা: মিশা সওদাগর
বিজয়কে রোজ ১৫ বার ‘ভালোবাসি’ বলেন রাশমিকা
দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্কের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার তারকা বিজয় দেবারাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা।
বিজয়কে রোজ ১৫ বার ‘ভালোবাসি’ বলেন রাশমিকা
জামদানি শাড়ি ও খোঁপায় বেলি ফুলের সাজে নজর কাড়লেন মায়াবতী পূর্ণিমা
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। বিশেষ করে রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা হিসেবে একসময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।
জামদানি শাড়ি ও খোঁপায় বেলি ফুলের সাজে নজর কাড়লেন মায়াবতী পূর্ণিমা