
অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল জনপ্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদকে ঘিরে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র পেলে আবারও অভিনয়ে ফিরতে প্রস্তুত এই অভিনেতা।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হাসান মাসুদ জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি নাটক বা সিনেমায় কাজ করছেন না। হজ সম্পন্ন করার পর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হয়েছেন বলেও জানান তিনি। তার এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ধারণা করেন, অভিনয় থেকে হয়তো স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
তবে পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি পরিষ্কার করেন হাসান মাসুদ। তিনি জানান, অভিনয় ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। মূলত ভালো কনটেন্ট না পাওয়ায় দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে ছিলেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাসান মাসুদের ভাষ্য, গল্প পছন্দ হলে এবং মনের মতো কোনো কাজের প্রস্তাব পেলে তিনি আবারও অভিনয়ে ফিরতে আগ্রহী। অর্থাৎ অভিনয়কে বিদায় জানানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
ধর্মচর্চা ও অভিনয় দুটিকে কখনোই পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেন না এই অভিনেতা। ২০০০ সাল থেকেই নিয়মিত নামাজ পড়েন উল্লেখ করে তিনি জানান, শুটিংয়ের সময়ও পরিচালকরা তাকে নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিরতি দিতেন।
তার মতে, কাজের পাশাপাশি ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনেও চলা সম্ভব। এরই উদাহরণ হিসেবে হজ থেকে ফেরার পর ইতোমধ্যে দুটি বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন হাসান মাসুদ। পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি। ২০০৩ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার।
এরপর ‘হাউসফুল’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান হাসান মাসুদ। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় তার একটি একক গানের অ্যালবামও।
আরটিভি/এসকে




