ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের প্রয়াণ দিবস আজ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। ছবি: সংগৃহীত

‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না চলে না’ কিংবা ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গানের রচিয়তা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ সেপ্টেম্বর।

আজকের এই দিনে তিনি নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও বাংলা ভাষাভাষী ও বাঙালির হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে আছেন এবং তার সুরের মূর্ছনা আজও বাজছে পৃথিবীর নানা কোণে।

কিংবদন্তি এই বাউলের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে, যা বরাম হাওর ও কালনী নদীর তীরে অবস্থিত। দরিদ্র দিনমজুর ইব্রাহিম আলী ও নাইওরজান বিবি দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র ছিলেন তিনি। অভাবের সংসারে ছোটবেলা থেকেই তাকে শ্রম দিয়ে উপার্জন করতে হয়েছে এবং কোনো বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাননি।

পেটের দায়ে গ্রামের মোড়ল বাড়িতে গরু রাখালির কাজ করতে হতো তাকে। ছুটির দিনেও রেহাই না পাওয়ায় ছোটবেলায় তিনি লিখেছিলেন— মাঠে থাকি গরু রাখি, ঈদের দিনেও ছুটি নাই, এই দুঃখ কার কাছে জানাই।

মাঠে গরু চরানোর সময় হাতে থাকা দুই তারা বাজিয়ে তিনি মনের সুখে গান গাইতেন এবং নিজেই গান রচনা ও সুর করতেন। গ্রামের গানপাগল করম উদ্দিনের কাছে তিনি গানের তালিম নেন। পরবর্তীতে করম উদ্দিনের পুত্র ও পৌত্রদের সঙ্গেও তিনি মালজোড়া গানের আসর করেছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও জীবদ্দশায় তিনি দেড় হাজারেরও বেশি গান রচনা ও সুর করেছেন। তার লেখা গান নিয়ে প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আপ্তাব সংগীত’, ‘গণসংগীত’, ‘কালনীর ঢেউ’, ‘জাতির চিঠি’, ‘কালনীর তীরে’ ও ‘দোলমালা’। এছাড়াও বাংলা একাডেমি তার দশটি গান ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেছে।

শাহ আব্দুল করিম শুধু বাউল গানই নয়, গণমানুষের অধিকার ও সুন্দরের পক্ষেও কলম ধরেছেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি গণআন্দোলনে তার গান দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেছে। জীবদ্দশায় তিনি একুশে পদক ও চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে পুরস্কার বা সম্মানের কখনও তোয়াক্কা করেননি এই নির্মোহ বাউল।

বাউল সম্রাটের একমাত্র ছেলে শাহ নূর জালাল জানান, বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে শত শত বাউল ভক্ত ও সাধক আসেন। আজ তাদের বাড়িতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত থাকবেন। সন্ধ্যার পর থেকে ভক্তরা গানে গানে স্মরণ করবেন বাউল সম্রাটকে। তবে ভক্তদের থাকার জায়গা সংকট দূর করতে দশ বছর আগে প্রতিশ্রুত ‘শাহ আব্দুল করিম সংগীতালয় ও কমপ্লেক্স’ প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়িত না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও গায়ক আবু জাহিদ ওরফে অন্তুর বিরুদ্ধে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও মডেল জান্নাতুন তাজরি অরাকে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ।  প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি, আবু জাহিদ অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।  এদিকে, মিথ্যা মামলা দায়ের করায় জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার নথি অনুযায়ী, আবু জাহিদ ওরফে অন্তু পেশায় একজন গায়ক, মডেল ও গিটার প্রশিক্ষক। বাদী জান্নাতুন তাজরি অরা ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে টিএসসিতে গিটার শেখার সূত্রে তাদের পরিচয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়।  এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২ মে বিকেলে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। পরে ৩১ মে জান্নাতুন তাজরি অরা বাদী হয়ে গুলশান থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১০ ধারায় (যৌন পীড়ন) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন গুলশান থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে. এম. রাশিদুর রহমান। তদন্তে উঠে এসেছে, জান্নাতুন তাজরি অরা জাহিদ অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হননি। এরপর দুজনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হঠাৎ একদিন অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব দিলে অরা রাজি হন। ২ মে সকালে সেখানে গিয়ে অন্তুকে পাননি তিনি। একই দিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়।  পরে বাসার অফিসরুমে গিয়ে বসেন তারা। কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাসার নিচে যান অন্তু। এ সময় অন্তুর ফোনে কল এলে অরা ফোন রিসিভ করে নিজেকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে কেন এমন মিথ্যাচার করেছেন, তা অরার কাছে জানতে চান অন্তু। ঘটনাস্থলে মামলার সাক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় জান্নাতুন তাজরি অরা চরম লজ্জিত ও অপমানিত বোধ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার জের ধরেই অন্তুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। তদন্তকালে বাদী জান্নাতুন অরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবাদী ও বাদীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বাদীর শারীরিক পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকের প্রতিবেদনে কোনো আঘাত বা নিপীড়নের আলামত পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। গত ৩১ জুলাই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আবু জাহিদ অন্তুকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানায়। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে জাহিদ অন্তু জানান, মিথ্যা মামলার কারণে সামাজিকভাবে তার সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে যে তিনি নির্দোষ। কিন্তু তাঁর যে ক্ষতিটা হয়ে গেল, কোনো কিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই তাকে যেভাবে গ্রেফতার করা হলো, সেই ক্ষতির দায় কে নেবে? তদন্ত কর্মকর্তা কে. এম. রাশিদুর রহমান বলেন, তিনি তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাননি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন, এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের। আরটিভি নিউজ/এসআর  
গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
আরটিভি লিটল স্টার সিজন-২ এর সম্প্রচার শুরু
দেশের শিশু-কিশোরদের সংগীত প্রতিভা তুলে ধরার লক্ষ্যে আরটিভির আয়োজনে শুরু হয়েছে মিউজিক্যাল রিয়েলিটি শো এসএমসি মনিবিস্কুট প্রেজেন্টস “আরটিভি লিটল স্টার সিজন ২ – আগামীর কণ্ঠস্বর”, পাওয়ার্ড বাই স্মাইল বেবি ডায়াপার। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার প্রতিযোগীর ভিডিও জমা পড়ে এই আয়োজনে সেখান থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫০০০ প্রতিযোগীর ভিডিও বিচারকরা বিশ্লেষণ করেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত ১৫০ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে আরটিভি বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতার পথচলা। আয়োজনে বিচারক হিসেবে আছেন, ফেরদৌস ওয়াহিদ, সানিয়া সুলতানা লিজা, জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া। আরজু আহমেদ প্রযোজিত অনুষ্ঠানটি আরটিভির পর্দায় দেখবেন প্রতি বৃহস্পতিবার এবং শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে। আরটিভি/এমএইচজে
আরটিভি লিটল স্টার সিজন-২ এর সম্প্রচার শুরু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে মঞ্চ মাতাবেন জেমস
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজনে গান শোনাতে আসছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২ নভেম্বর (সোমবার) ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে মঞ্চ মাতাবেন জেমস
আমাকে কি নেশাখোরের মতো লাগে: আনুশেহ
বাংলা ব্যান্ডের মাধ্যমে দেশীয় লোকসংগীতকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সংগীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল। তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা, ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা, কৃষ্ণপক্ষ ও আমি অপার হয়েসহ বেশ কিছু গানের মাধ্যমে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি।
আমাকে কি নেশাখোরের মতো লাগে: আনুশেহ
ফিডব্যাকের ৫০ বছর, বছরব্যাপী আয়োজন
বাংলা ব্যান্ডসংগীতের জনপ্রিয় নাম ফিডব্যাক। দীর্ঘ পাঁচ দশকের সংগীতযাত্রা পেরিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে ব্যান্ডটি। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের পাশাপাশি দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছে ফিডব্যাক।
ফিডব্যাকের ৫০ বছর, বছরব্যাপী আয়োজন