ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সংগীত পরিচালক ইবরার টিপু

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনপ্রিয় সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইবরার টিপু দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত। প্রায় দুই বছর ধরে মরণব্যাধি এই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন এই সংগীতশিল্পীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ।

সম্প্রতি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইবরার টিপু। পরে তাকে বাসায় নেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ইবরার টিপুর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় গীতিকার কবির বকুল।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইবরার টিপু এখন ‘জীবন-মৃত্যুর’ সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন’।

কবির বকুল লিখেছেন, ‘আমার ভাই, আমাদের সবার প্রিয় সংগীত পরিচালক ইবরার টিপু খুব অসুস্থ। গত প্রায় দুই বছর ধরে কিডনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা চলছে। কিছুদিন আগে তার ব্রেইন সার্জারিও হয়েছে। বেশ অনেক দিন হাসপাতালে থাকার পর এখন তিনি বাসায় ফিরেছেন।’

ইবরার টিপুর স্ত্রী সংগীতশিল্পী বিন্দু কণার বরাত দিয়ে কবির বকুল জানান, হাসপাতাল থেকে অনেকটা জোর করেই তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের ধারণা, হাসপাতালে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছিল না।

কবির বকুল লেখেন, ‘তার স্ত্রী বিন্দু কণা জানালেন হাসপাতাল থেকে অনেকটা জোর করেই বাসায় নিয়ে এসেছেন টিপুকে। কারণ সেখানে তার সঠিক চিকিৎসাটা হচ্ছিল না বলেই পরিবার মনে করেছেন। একটু আগে ভিডিও কলে আমার সহধর্মিণী দিনাত জাহান মুন্নী কথা বলিয়ে দিলেন টিপুর সঙ্গে। তার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল এ বছর রোজার ঈদে।’

স্মৃতিচারণা করে কবির বকুল জানান, এ বছরের রোজার ঈদের সময় অসুস্থ শরীর নিয়েই নিউইয়র্কে তাদের বাসায় এসেছিলেন ইবরার টিপু।

দীর্ঘ দিন পর ভিডিও কলে কথা বলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লেখেন, মারাত্মক অসুস্থ অবস্থাতেও মানুষটির চোখে-মুখে সেই চিরপরিচিত মায়া লেপ্টে আছে। বহু দূরে অবস্থান করায় তার জন্য বিশেষ কিছু করতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, ভেতরের অনুভূতিতে তার বুক ভেঙে আসছে।

ইবরার টিপুর সংগীতজীবনের অবদানের কথা উল্লেখ করে কবির বকুল বলেন, তার সুর ও সংগীতায়োজনে তৈরি হয়েছে বহু জনপ্রিয় গান। এর মধ্যে রয়েছে ‘তুমি আমার ঘুম, তবু তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি না’, ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ এবং ‘বেশ বেশ বেশ, সাবাস বাংলাদেশ’।

নিজের সংগীতজীবনে তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল বলেও জানান প্রখ্যাত এই গীতিকার।

প্রিয় সহকর্মীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাকে ব্যথিত করেছে উল্লেখ করে কবির বকুল পোস্টের শেষাংশে লেখেন, ‘আমার সংগীত জীবনে তার সঙ্গে অনেক কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার দেখা একজন মৃদুভাষী, সদাহাস্য সজ্জন মানুষ- হঠাৎ যেন তার পৃথিবী উলটে গেল। সবাই আমার ভাইটার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। আল্লাহ ভরসা।’

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও গায়ক আবু জাহিদ ওরফে অন্তুর বিরুদ্ধে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও মডেল জান্নাতুন তাজরি অরাকে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ।  প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি, আবু জাহিদ অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।  এদিকে, মিথ্যা মামলা দায়ের করায় জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার নথি অনুযায়ী, আবু জাহিদ ওরফে অন্তু পেশায় একজন গায়ক, মডেল ও গিটার প্রশিক্ষক। বাদী জান্নাতুন তাজরি অরা ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে টিএসসিতে গিটার শেখার সূত্রে তাদের পরিচয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়।  এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২ মে বিকেলে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। পরে ৩১ মে জান্নাতুন তাজরি অরা বাদী হয়ে গুলশান থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১০ ধারায় (যৌন পীড়ন) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন গুলশান থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে. এম. রাশিদুর রহমান। তদন্তে উঠে এসেছে, জান্নাতুন তাজরি অরা জাহিদ অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হননি। এরপর দুজনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হঠাৎ একদিন অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব দিলে অরা রাজি হন। ২ মে সকালে সেখানে গিয়ে অন্তুকে পাননি তিনি। একই দিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়।  পরে বাসার অফিসরুমে গিয়ে বসেন তারা। কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাসার নিচে যান অন্তু। এ সময় অন্তুর ফোনে কল এলে অরা ফোন রিসিভ করে নিজেকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে কেন এমন মিথ্যাচার করেছেন, তা অরার কাছে জানতে চান অন্তু। ঘটনাস্থলে মামলার সাক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় জান্নাতুন তাজরি অরা চরম লজ্জিত ও অপমানিত বোধ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার জের ধরেই অন্তুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। তদন্তকালে বাদী জান্নাতুন অরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবাদী ও বাদীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বাদীর শারীরিক পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকের প্রতিবেদনে কোনো আঘাত বা নিপীড়নের আলামত পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। গত ৩১ জুলাই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আবু জাহিদ অন্তুকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানায়। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে জাহিদ অন্তু জানান, মিথ্যা মামলার কারণে সামাজিকভাবে তার সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে যে তিনি নির্দোষ। কিন্তু তাঁর যে ক্ষতিটা হয়ে গেল, কোনো কিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই তাকে যেভাবে গ্রেফতার করা হলো, সেই ক্ষতির দায় কে নেবে? তদন্ত কর্মকর্তা কে. এম. রাশিদুর রহমান বলেন, তিনি তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাননি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন, এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের। আরটিভি নিউজ/এসআর  
গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
আরটিভি লিটল স্টার সিজন-২ এর সম্প্রচার শুরু
দেশের শিশু-কিশোরদের সংগীত প্রতিভা তুলে ধরার লক্ষ্যে আরটিভির আয়োজনে শুরু হয়েছে মিউজিক্যাল রিয়েলিটি শো এসএমসি মনিবিস্কুট প্রেজেন্টস “আরটিভি লিটল স্টার সিজন ২ – আগামীর কণ্ঠস্বর”, পাওয়ার্ড বাই স্মাইল বেবি ডায়াপার। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার প্রতিযোগীর ভিডিও জমা পড়ে এই আয়োজনে সেখান থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫০০০ প্রতিযোগীর ভিডিও বিচারকরা বিশ্লেষণ করেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত ১৫০ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে আরটিভি বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতার পথচলা। আয়োজনে বিচারক হিসেবে আছেন, ফেরদৌস ওয়াহিদ, সানিয়া সুলতানা লিজা, জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া। আরজু আহমেদ প্রযোজিত অনুষ্ঠানটি আরটিভির পর্দায় দেখবেন প্রতি বৃহস্পতিবার এবং শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে। আরটিভি/এমএইচজে
আরটিভি লিটল স্টার সিজন-২ এর সম্প্রচার শুরু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে মঞ্চ মাতাবেন জেমস
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজনে গান শোনাতে আসছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২ নভেম্বর (সোমবার) ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে মঞ্চ মাতাবেন জেমস
আমাকে কি নেশাখোরের মতো লাগে: আনুশেহ
বাংলা ব্যান্ডের মাধ্যমে দেশীয় লোকসংগীতকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সংগীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল। তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা, ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা, কৃষ্ণপক্ষ ও আমি অপার হয়েসহ বেশ কিছু গানের মাধ্যমে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি।
আমাকে কি নেশাখোরের মতো লাগে: আনুশেহ
ফিডব্যাকের ৫০ বছর, বছরব্যাপী আয়োজন
বাংলা ব্যান্ডসংগীতের জনপ্রিয় নাম ফিডব্যাক। দীর্ঘ পাঁচ দশকের সংগীতযাত্রা পেরিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে ব্যান্ডটি। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের পাশাপাশি দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছে ফিডব্যাক।
ফিডব্যাকের ৫০ বছর, বছরব্যাপী আয়োজন
আরও পড়ুন
ক্যানসার জয় করে সুস্থতার পথে ইবরার টিপু, আশার বার্তা দিলেন স্ত্রী বিন্দু কণা