
জিনিয়া জাফরিন লুইপা বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের একটি পরিচিত নাম। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো "কমিটমেন্ট" বা কথা রাখা, কিন্তু এই কমিটমেন্ট যে ঠিক কী তা হয়তো তিনি জানেনই না অথবা জানলেও তার কোনো তোয়াক্কা করেন না।
আরটিভি আয়োজিত শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় মিউজিকাল রিয়েলিটি শো ‘আরটিভি লিটল স্টার’-এর প্রথম সিজনেও তিনি বিচারকদের একজন ছিলেন। শিশু-কিশোরদের এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে তিনি দারুণভাবে অবগত যে, এখানে প্রতিযোগী শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের কোমল আবেগ এবং কী পরিমাণ কষ্ট ও পরিশ্রম জড়িত থাকে।
সম্প্রতি আরটিভিতে আবারও শুরু হয়েছে এই রিয়েলিটি শো-র দ্বিতীয় সিজনের কার্যক্রম। প্রোমো শুট, পোস্টার শুট এবং প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া—সব কিছুতেই লুইপা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি প্রোমো ভিডিও, পোস্টারসহ অন্যান্য প্রচারণামূলক কাজে অংশ নিয়ে তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকেও তা শেয়ার করেছিলেন।
রিয়েলিটি শো-র প্রথম থেকে সকল পরিকল্পনা, সিডিউল, এডভান্স গ্রহণ এবং নিয়মকানুন জেনেই তিনি সবার সাথে কথা বলে কাজ শুরু করেছিলেন । স্টুডিও অডিশন রাউন্ডের শুটিং এ অংশগ্রহণ করেন। তবে শুটিং শেষে হুট করে ভিসা পাওয়ার অজুহাতে তিনি আয়োজক কর্তৃপক্ষকে জানান, “আমি আমেরিকার ভিসা পেয়ে গিয়েছি, তাই আগামীকালই আমেরিকা চলে যাবো; ফলে লিটল স্টার সিজন-২-এ আর থাকতে পারছি না।”
ভিসা পাওয়ার সাথে সাথেই ন্যূনতম দায়িত্বজ্ঞানের তোয়াক্কা না করে, কোনো কিছু না ভেবেই তিনি পরের দিনই চলে যাওয়ার প্ল্যান তৈরি করে ফেললেন! আমেরিকা যাওয়ার তীব্র লোভ এবং অতিরিক্ত হুজুগেপনা একজন শিল্পীর কতটা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রকাশ ঘটাতে পারে, তা এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমনকি শিশু প্রতিযোগীদের প্রতিও তার ন্যূনতম নৈতিকতাবোধের ঘাটতি এখানে ফুটে উঠেছে।
তাকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, এভাবে হঠাৎ মাঝপথে শো ছেড়ে চলে গেলে শিশুরা, তাদের অভিভাবকেরা এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান চরম আর্থিক ও নানামুখী ক্ষতির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানও বিশাল আকারে ক্ষতির মুখে পড়বে। কিন্তু আমেরিকার ভিসা পাওয়ার সাথে সাথেই অবিলম্বে চলে যেতে হবে—এই বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
একজন শিল্পী আমেরিকার ভিসা পেলেই চলমান একটি রিয়েলিটি শো এভাবে মাঝপথে ফাঁসিয়ে দিতে পারেন না এবং এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এটি যেমন একদিক থেকে দায়িত্বহীনতা, অন্যদিকে ঘোরতর অন্যায়ও বটে।
শিল্পের মূল্যায়ন না করে এবং দেশের এই আয়োজনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করে এ ধরনের আচরণ পুরো রিয়েলিটি শো টিম এবং শিশু-কিশোরদের কাছে একটি অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা কোনোভাবেই শিল্পীদের জন্য সম্মানজনক নয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান এবং অনুষ্ঠানটি এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পুরো বিষয় নিয়ে আরটিভি কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।
আরটিভি/এআর


