ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই দিনব্যাপী সেলিম আল দীন জন্মোৎসব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী সোমবার (১৮ আগস্ট)। এই উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন জন্মোৎসব-২০২৫’ আয়োজন করেছে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল। ‘সেলিম আল দীন-রবীন্দ্রনাথ মোদের শিল্পে রয়, বাঙলা নাট্যের জয়যাত্রা অনন্ত-অক্ষয়’—স্লোগানকে সামনে রেখে আজ সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবের পর্দা উঠবে। আগামীকাল মঙ্গলবার সমাপনী।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বপ্নদল জানিয়েছে, উৎসবে নাট্যাচার্যের কালজয়ী নাটক ‘হরগজ’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাঙ্গদা’র বিশেষ প্রদর্শনী করবে নাট্যসংগঠনটি। প্রযোজনা দুটির নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যাচার্যের ছাত্র নির্দেশক জাহিদ রিপন।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে সেলিম আল দীনের কালজয়ী সৃষ্টি হরগজ’র ৪৯তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জ জেলার হরগজে সংঘটিত প্রলয়ংকারী টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে নাটকটি রচনা করেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন।

সোমবার সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিভিন্ন নাট্যসংগঠন।

আগামীকাল সমাপনী দিন সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে চিত্রাঙ্গদা’র ১১৯তম মঞ্চায়ন হবে। ‘মহাভারত’ অবলম্বনে রচিত এই নাট্যকাহিনিতে মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা মহাবীর অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন ও যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। অর্জুনকে লাভ করলেও চিত্রাঙ্গদা অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হয়—অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসে, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? নাটকটি পৌরাণিক কাহিনির আড়ালে এ যুগের নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পারস্পরিক সম্মানাবস্থার প্রেরণা হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

এদিকে, আজ সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধি অভিমুখে স্মরণ-শোভাযাত্রা ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিভিন্ন নাট্যসংগঠন।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সেলিম আল দীন। একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করলেও পরে বাকি জীবন তিনি শিক্ষকতাই করেছেন। ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং আমৃত্যু এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ছিলেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।

তার রচিত নাটকের মধ্যে ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘বনপাংশুল’, ‘চাকা’, ‘ধাবমান’, ‘স্বর্ণবোয়াল’, ‘পুত্র’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় মারা যান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকার মঞ্চে বেগম রোকেয়া
বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত, প্রথম বাঙালি নারীবাদী সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুদিবস উপলক্ষে ঢাকায় মঞ্চস্থ হলো ব্যতিক্রমী কাব্যনাটক ‘রোকেয়ার স্বপ্নে আজকের সুলতানারা’। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে আয়োজিত এই কাব্যনাটকটি দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই পরিবেশনায় হলভর্তি দর্শক পিনপতন নীরবতায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন অনুষ্ঠানটি। যে যুগে ভারতবর্ষের নারীরা ছিল অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া, সেই অন্ধকার সময়ে বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলেন। নারীদের স্বশিক্ষায় শিক্ষিত, আধুনিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার যে বিপ্লবী কল্পনা তিনি করেছিলেন, তা-ই কাব্য, ছন্দ, সুর ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে তুলে ধরা হয় এই প্রযোজনায়। কাব্যনাটকটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দেন নার্গিস সুলতানা। পোশাক পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানেও ছিলেন তিনি। আবহসংগীত করেছেন আরেফিন নিপুন ও মাজহারুল তুষার। অনুষ্ঠান সম্পর্কে নির্দেশক নার্গিস সুলতানা বলেন, বেগম রোকেয়ার সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনী এবং তার দূরদর্শী চিন্তা-চেতনাই আমাদের এই প্রযোজনার মূল ভিত্তি। তার বাণীকে পাথেয় করে আমরা সমাজে নারীর বর্তমান অবস্থান এবং তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন, আজ শত বছর পর তথাকথিত প্রগতিশীল সমাজে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রশ্ন-আজকের সুলতানারা কেমন আছেন? রোকেয়ার স্বপ্ন কি বাস্তবে রূপ নিয়েছে, নাকি নারীরা এখনও নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্বের লড়াইয়ে ব্যস্ত? এই কাব্যনাটকের মাধ্যমে কবিতার বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও শ্রুতিঅভিনয়ের মাধ্যমে বেগম রোকেয়ার ভাবনার প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, যেসব নারী আজও রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, এই আয়োজন তাদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতির সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম ‘লেখার পোকা’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই কাব্যনাটকে আবৃত্তি, শ্রুতিকথন ও অভিনয়ে অংশ নেন নার্গিস আক্তার, রেজিনা খন্দকার, জয়া হাওলাদার, আবুল ফজল, তোফাজ্জল হোসেন তপু, সুজন রেহমান, নূরাইশা হাসান সামিয়া, মীর উমাইয়া হক পদ্ম, উম্মে হাবিবা শিবলী, অদ্রিতা ভদ্র এবং নার্গিস সুলতানা। নার্গিস সুলতানা আরও বলেন, কবিতার বলিষ্ঠ উচ্চারণ আর শ্রুতিঅভিনয়ে আমরা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি- বেগম রোকেয়ার সুলতানারা সমাজকে নতুন আলোর প্রান্তে আনতে পেরেছেন কি না! নাকি শত প্রতিকূলতায় তারা স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্নে বাঁচতে ভুলে গেছেন?  আরও পড়ুন ২০২৫ সালে যেসব তারকাদের বিয়ের খবর ছিল আলোচনায় যেসব নারীরা মহিয়সীর সেই স্বপ্নের পৃথিবীকে বাস্তবে পরিণত করতে লড়াই-সংগ্রামে সোচ্চার রয়েছেন, সেই সব রোকেয়া-অনুরাগীদের জন্য এ অনুষ্ঠানটি উৎসর্গকৃত বলে জানান নির্দেশক। সাহিত্য-সংস্কৃতির সৃজনশীল প্লাটফরম 'লেখার পোকা'র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত কাব্যনাট্যে আবৃত্তি, শ্রুতিকথন আর অভিনয়ে অংশ নেন নার্গিস আক্তার, রেজিনা খন্দকার, জয়া হাওলাদার, আবুল ফজল, তোফাজ্জল হোসেন তপু, সুজন রেহমান, নূরাইশা হাসান সামিয়া, মীর উমাইয়া হক পদ্ম, উম্মে হাবিবা শিবলী, অদ্রিতা ভদ্র ও নার্গিস সুলতানা। আরটিভি/কেআই
ঢাকার মঞ্চে বেগম রোকেয়া
‘ভাসানে উজান’র প্রদর্শনী, মধ্যমণি ফেরদৌসী মজুমদার
নাট্যশিল্পী মো. এরশাদ হাসান-এর একক অভিনীত নাটক ‘ভাসানে উজান’র উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে। দীর্ঘদিন পর শিল্পকলার মঞ্চে ফিরছেন একক নাটকের পথিকৃৎ, মঞ্চ-টিভি ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। তিনি থাকছেন এ আয়োজনের উদ্বোধক ও মধ্যমণি হিসেবে। যুব নির্ভর নাট্যসংগঠন বিবেকানন্দ থিয়েটার-এর ২৫তম প্রযোজনা ‘ভাসানে উজান’ নির্মিত হয়েছে দস্তয়ভস্কির ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে। নাট্যরূপ দিয়েছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু, নির্দেশনায় রয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নাটকের নির্মাণে মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনায় পলাশ হেন্ড্রি সেন অল্প উপকরণে বৃহত্তর দৃশ্যকল্প ফুটিয়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করেছেন। সংগীতে হামিদুর রহমান পাপ্পু, পোশাকে এনাম তারা সাকি ও আশরাফ বোয়ারী আধুনিক ও এন্টিক নন্দনের মিশ্রণ তৈরি করেছেন। আরও পড়ুন ফের মা হচ্ছেন সোনম, ‘ঝামেলা’ বললেন স্বামী কোরিওগ্রাফিতে রবিন বসাক থিয়েটার ও যাত্রার আঙিকের ফিউশনে গুরুত্ব দিয়েছেন। রূপসজ্জায় নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় চেষ্টা করেছেন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র আশরাফ বোয়ারীর অভ্যন্তরীণ মানসিক রূপটিকে দৃশ্যমান করতে। বিবেকানন্দ থিয়েটারের নতুন এই প্রযোজনাকে ঘিরে নাট্যজগতে ইতিমধ্যেই উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আজকের প্রদর্শনীতে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে একক অভিনয়ের এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। আরটিভি/কেআই
‘ভাসানে উজান’র প্রদর্শনী, মধ্যমণি ফেরদৌসী মজুমদার
অভিনয় করতে করতে মঞ্চেই মারা গেলেন অভিনেতা
ভারতের হিমাচল প্রদেশের ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মঞ্চে অভিনয় করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বরেণ্য মঞ্চ অভিনেতা অমরেশ মহাজন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।  ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাচল প্রদেশের চাম্বা চৌগানে রাজা দশরথের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার পাশে বসে থাকা সহ-অভিনেতার গায়ে ঢলে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্রী রামলীলা ক্লাব, চাম্বার সভাপতি স্বপন মহাজন বলেন, উনি মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। আমরা দ্রুতই হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা সবাই শোকাহত। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে চাম্বা চৌগানে রামলীলা মঞ্চায়ন হচ্ছিল। অমরেশ মহাজন রাজা দশরথের সিংহাসনে বসে ডায়লগ বলছিলেন। তার পাশে একজন ঋষির চরিত্রে অভিনেতা ছিলেন। ডায়লগের মাঝখানে হঠাৎ করে তিনি বাঁদিকে হেলে পড়েন এবং তাঁর মাথা পাশে বসে থাকা অভিনেতার কাঁধে পড়েন। প্রথমে সবাই ভাবেন অভিনয়েরই অংশ। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর সবাই আঁচ করতে পারেন কোন একটা সমস্যা হয়েছে।  আরও পড়ুন মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে যা করেছিলেন জুবিন, ভিডিও ভাইরাল অভিনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া শোকপ্রকাশ করেছেন অমরেশের ভক্তরা। একজন লিখেছেন, আমি টিভিতে সরাসরি মৃত্যুত ভিডিওটি দেখেছি। ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ভিন্ন বিষয়। অন্য একজন লিখেছেন, তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। আরটিভি/এএ 
অভিনয় করতে করতে মঞ্চেই মারা গেলেন অভিনেতা
স্থগিত হলো ‘চীন-বাংলাদেশ নাট্য উৎসব’
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘চীন-বাংলাদেশ নাট্য উৎসব’ আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর)। কিন্তু হঠাৎ করেই উৎসবটি স্থগিত বলে ঘোষণা করেছে শিল্পকলা একাডেমি।  বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‌‘অনিবার্য কারণবশতঃ আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় চীন দূতাবাস ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ‘চীন-বাংলাদেশ নাট্য উৎসব’টি স্থগিত করা হয়েছে। সবশেষে বলা হয়, পরবর্তীতে এই উৎসবের সময়সূচি আবারও জানানো হবে। এর আগে, বুধবার (১৭ পেস্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একদিনের এই নাট্য উৎসব সম্পর্কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছিল, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। আরও জানানো হয়েছিল, এই নাট্য উৎসবে দুই দেশের (বাংলাদেশ ও চীন) বিশেষ পরিবেশনা ও নাটক প্রদর্শিত হবে। প্রথমে চীনের কোয়ানঝো থেকে আসা একটি বিশেষ পারফর্মিং আর্ট গ্রুপ ৪০ মিনিটের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করবে। এরপর প্রখ্যাত চায়নিজ লেখক লু স্যুনের বিখ্যাত রচনা ‘দ্য ওয়াইজ ম্যান, দ্য ফুল অ্যান্ড দ্য স্লেভ’-এর নাট্য রূপান্তর উপস্থাপন করবে বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান, চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওফেং এবং চীন ও বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এবার উৎসবটি স্থগিত করা হয়েছে। আরটিভি/এএ 
স্থগিত হলো ‘চীন-বাংলাদেশ নাট্য উৎসব’
‘বাসর ঘরে’ ফুটে উঠল ফ্যাসিবাদী শাসনের চিত্র
ফ্যাসিবাদী শাসনের আমলের নির্মম নির্যাতনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি নিয়ে যশোরে মঞ্চস্থ হলো ‘বাসর ঘর’। শনিবার (২ আগস্ট) রাতে যশোর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আয়োজনে এই নাটক মঞ্চস্থ হয়।  গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে জেলা বিএনপির গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসাবে এই হৃদয়স্পর্শী নাটকটি পরিবেশিত হয়। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মাসউদ জামান। ফ্যাসিবাদী সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ কীভাবে তাদের এই ফ্যাসিবাদী হতে সহযোগিতা করেছে, এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে দমনের জন্য লোমহর্ষক নির্যাতন চালিয়েছে, তারই এক জ্বলন্ত বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে ‘বাসর ঘর’ নাটকে। নাটকটি ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ১৭ বছরের ভয়ংকর ক্রাসের রাজত্বের বাস্তব প্রতিচ্ছবি অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। নাটকের প্রতিটি পরতে মিশে আছে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার অবৈধ শাসনামলে রাজনৈতিক দল বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম নিজেও দর্শক সারিতে বসে নাটকটি উপভোগ করেন। নাটকটি দেখতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও শিল্পকলা একাডেমিতে ভিড় জমান।  নাটকের প্রতিটি দৃশ্যের সাথে বিগত ১৭ বছরে তাদের নিজেদের জীবনের ওপর দিয়ে ঘটে যাওয়া বাস্তবতার মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। অনেকেই নিজেদের অজান্তেই চোখের নোনা জলে ভিজিয়েছেন চোখ। নাটকে অভিনয় করেন সোহেল রানা, মাসউদ জামান, রুকাইয়া আলম, স্বপন দাস, মারুফ হোসেন, শামসুদ্দিন হোসাইন, আলমগীর হোসেন, ইফতেখার তাহসিন, হাসিবুর রহমান, রিফাত মাহমুদ, আনিসুর রহমান, পিয়াস মণ্ডল, ইব্রাহিম খলিল, তানভীর হাসান ও শাহিদুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নাটকটি শুরু হয় একটি নবদম্পতির নতুন জীবনের স্বপ্ন বোনা হয়, সেখানেই নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। নববিবাহিত স্ত্রীর সামনে থেকে তুলে নেওয়া হলো এক ছাত্রনেতাকে। থানায় গিয়ে নববধূর আকুল আবেদনও কোনো কাজে এলো না; কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে তালিয়ে দেয়। এরপর বছরের পর বছর আয়না ঘরে চলে নির্যাতন। এটি নাটক হলেও ছিলো বিগত সরকারের শাসনব্যবস্থা। বছরের পর বছর এভাবেই ছাত্র জনতা বিশেষ করে ভিন্নমতের রাজনীতি করার কারণে হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম খুনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা ছাত্র জনতার গণঅভ্যুন্থানে একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। সবাইকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করতে হবে। এই চেতনার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন জাতি গঠনে আমাদের সকলের প্রত্যয় থাকবে। জানতে চাইলে নাটকটির নির্দেশক মাসউদ জামান বলেন, নাটকটিতে বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনব্যবস্থার বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুঁটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে দমনের জন্য লোমহর্ষক নির্যাতন চালিয়েছে সেটা তুলে ধরা হয়েছে। আরটিভি/এএ 
‘বাসর ঘরে’ ফুটে উঠল ফ্যাসিবাদী শাসনের চিত্র
আরও পড়ুন
সেলিম আল দীনের জিনিসপত্র ফেরত দিতে তিনজনকে নোটিশ
সেলিম আল দীন স্মরণে নানা আয়োজন