ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:২০ পিএম
ফাইল ছবি

মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে-

১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি।

২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে।

৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের।

৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর।

৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা।

৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে।

৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা।

৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের।

৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা।

১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে।

এসআর/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্বের দর্শনীয় ১১ স্থান
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা কারণে পর্যটকদের কাছে টেনে থাকে। ভৌগলিক কারণে প্রতিটি দেশ অন্যান্য দেশের থেকে পৃথক। এ কারণেই প্রতিটি দেশের রয়েছে পৃথক পৃথক ইতিহাস এবং দর্শনীয় স্থান। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য বিশ্বের কয়েকটি দেশের শহর সম্পর্কে ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হল। ১. বেইজিং, চীন : বেইজিং হচ্ছে চীনের রাজধানী। প্রাচীন সংস্কৃতি এবং আধুনিক সভ্যতার শহর বলা হয়ে থাকে এ শহরকে। ইতিহাস সংবলিত এ শহরে রয়েছে বিস্ময়কর দ্যা গ্রেট ওয়াল। বিশ্বের সাম্রাজ্যময় প্রাসাদগুলির চমৎকার নিদর্শনও রয়েছে শহরটিতে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক মিলিয়ন দর্শনার্থী এবং পর্যটক এসে থাকেন শহরটি দেখার জন্য। ২. সান মিগুয়েল ডি অ্যালেন্ড, মেক্সিকো : পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এক নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে সান মিগুয়েল ডি অ্যালেন্ড। সৃজনশীল মানুষদের খুব টেনে থাকে নিদর্শনটি। এটি গুয়ানাজোয়াটো প্রদেশের কেন্দ্রীয় উচ্চভূমিতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। মেক্সিকোর মুকুট রত্নগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে এই শহরটি। ৩. সিডনি অপেরা হাউজ, অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রধান সংস্কৃতি এবং পর্যটন স্থান হচ্ছে সিডনি অপেরা হাউজ। এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় মানব সৃজনশীল প্রতিভা এবং বিশ্বমানের পারফর্মিং আর্টস হিসাবে অন্তলিখিত হয়েছে। ৪. টোকিও, জাপান : টোকিও শহর জাপানের একটি পৌরসভা এবং টোকিও-ফু-এর অংশ ছিল। ১ মে, ১৮৮৯ সাল থেকে ১ জুলাই, ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত প্রিফেকচারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। টোকিও শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো টোকিও’র ২৩টি বিশেষ ওয়ার্ডের দখলে। ৫. সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়া : সেন্ট পিটার্সবার্গ মস্কোর উত্তর পশ্চিমে প্রায় ৪০০ মাইল (৬৪০ কি.মি) এবং আর্কটিক সার্কেলের প্রায় ৭° দক্ষিণে অবস্থিত। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান শহর এটি। ঐতিহাসিক, সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যের নিদর্শনগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হচ্ছে এই সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর। ৬. বার্সেলোনা, স্পেন : বার্সেলোনা শহর, সমুদ্রবন্দর এবং প্রোভিন্সিয়া (প্রদেশ) এর রাজধানী এবং কাতারোনিয়ার কমুনিদাদ অটোনোমা (স্বায়ত্তশাসিত সম্প্রদায়) এর ফরাসী সীমান্তের ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। শহরটি মূলত স্পেনের প্রধান ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং এর নিজস্বতা, সাংস্কৃতিক এবং ভৌগলিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। ৭. ব্যাংকক, থাইল্যান্ড : ব্যাংকক হচ্ছে থাইল্যান্ডের থাই ক্রুং থিপ, শহর, রাজধানী এবং দেশটির প্রধান বন্দর। এটি দেশটির অসাম্প্রদায়িক একটি ছোট শহর। এই শহরই থাইল্যান্ডের সাংস্কৃতিক এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ৮. কার্টেজেনা, কলম্বিয়া: কার্টেজেনা হচ্ছে অত্যন্ত সুন্দরভাবে রক্ষিত একটি ঐতিহাসিক শহর। কার্টেজেনার এই পুরাতন শহরটি নিজস্ব সৌন্দর্যতার জন্য ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে স্থান পেয়েছে। ৯. দুবাই, আরব আমিরাত : আরব আমিরাতের রাজধানীর নাম দুবাই। ১৯৭১ সালে গ্রেট ব্রিটেনদের থেকে স্বাধীন হয়েছে দেশটি। শহরটির নামকরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। সম্প্রতি এ শহরটি বিশ্বের অন্যান্য অগ্রগতির দেশগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ১০. শিকাগো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জনবহুল শহর হচ্ছে শিকাগো শহর। এটি মিশিগান লেকের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭৬ মিটার উপরে ৬০ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। প্রতিবছর আনুমানিক ৮৬ মিলিয়ন পর্যটক এসে থাকেন শহরটির বিভিন্ন দর্শনার্থী জায়গা পরিদর্শন করার জন্য। ১১. এডিনবার্গ, স্কটল্যান্ড : স্কটল্যান্ডের এই শহরটি উঁচু উঁচু প্রাচীন ভবনে ভরা। স্কটল্যান্ডের রাজধানী ১৩’শ বছরের পুরনো এবং এ শহরটি সংস্কৃতি ও ইতিহাস সংবলিত। এডিনবার্গে থাকা বিভিন্ন জাদুঘর পর্যটকদের কাছে স্কটল্যান্ডের সর্বাধিক জনপ্রিয় স্থানে জায়গা করে দিয়েছে।
বিশ্বের দর্শনীয় ১১ স্থান
দুর্গম ও অনিন্দ্য সুন্দরী এক পাহাড়ি রাণী ‘খৈয়াছড়া ঝরনা’ 
গহীন প্রকৃতির মাঝে সবার মধ্যমণি হয়ে বাস করেন এক রাণী। সবার থেকে আলাদা, সবার থেকে বড়, সবার থেকে সুন্দরী এই রাণীর নাম খৈয়াছড়া ঝরনা। বাংলাদেশের অন্যান্য ঝরনাগুলো থেকে আলাদা হওয়ায় ভ্রমণপ্রেমীরা আদর করে একে ‘ঝরনা রাণী’ বলে ডাকে। আর ডাকবে না বা-ই কেন? খৈয়াছড়ার রূপ আর আভিজাত্যের ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো ঝরনা।  পরিচিতি খৈয়াছড়া ঝরনা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। বড় তাকিয়া বাজার থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার ভিতরে গেলে এর দেখা পাওয়া যাবে। বড় তাকিয়া বাজার থেকে খৈয়াছড়া ট্রেইল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার, বাকি আড়াই বা তিন কিলোমিটার পর্যন্ত খৈয়াছড়া ট্রেইল। খৈয়াছড়া ঝরনা মোট নয়টি ক্যাসকেড নিয়ে গঠিত। ট্রেইল ধরে সোজা এগিয়ে গেলে বড় এই ঝরনাটার দেখা পাওয়া যাবে। বাকি আটটি ঝরনা দর্শনে আপনাকে ঝরনাগুলোর পাশের পিচ্ছিল পাহাড় বেয়ে উঠে যেতে হবে উপরে। যার জন্য লাগবে সাহস, প্রবল উদ্যম আর জয় করার অদম্য ইচ্ছা। কী আছে খৈয়াছড়ায় খৈয়াছড়া ঝরনা বিখ্যাত এর ক্যাসকেডগুলোর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের কারণে। বড় তাকিয়া বাজার থেকে মূল ঝরনা পর্যন্ত জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটা পথ, যার অর্ধেকের বেশি ঝরনার পানি চলাচলের কারণে পিচ্ছিল এবং কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। যেতে যেতে চোখে পড়বে পাহাড়ি আদিবাসি এবং ওই এলাকার বাসিন্দাদের ছোট ছোট ঘরগুলো। পথে দেখা মিলতে পারে দোকানপাটের। ভাগ্য ভালো হলে পেয়ে যেতে পারেন ছোট ছোট পাহাড়ি বানরের। ট্রেইল যেখানে শুরু, সেখান থেকে প্রায় দেড়ঘণ্টা হেঁটে গেলে প্রথম ঝরনাটার দেখা পাবেন। প্রথম ঝরনাটায় যাওয়া যেহেতু কম কষ্টসাধ্য, সেহেতু সেখানে প্রচুর পর্যটকের দেখা পাওয়াই স্বাভাবিক। ৯০ শতাংশ মানুষ সেখান থেকেই ফেরত চলে যান। কিন্তু ট্রেকিং প্রিয় পর্যটকরা? আপনি যদি মনস্থির করে ফেলেন আপনি উপরে উঠবেনই, তাহলে সেখান থেকেই আপনার অ্যাডভেঞ্চার শুরু। প্রথম ঝরনা থেকে দ্বিতীয় ঝরনায় যাওয়ার জন্য পাহাড়ে কয়েকটা দড়ি বেঁধে দেওয়া আছে। দড়ি ধরে ধরে উপরে উঠবেন। কিন্তু সাবধান! পাহাড়ের ঢাল কিন্তু প্রচণ্ড পিচ্ছিল। উপরে উঠতে খুবই সাবধান। দ্বিতীয় ঝরনা থেকে উপরে আর কোনো দড়ি নেই। পাহাড়ের খাঁজে পা রেখে বা পাহাড়ি গাছের লতা ধরে উঠে যেতে হবে উপরে। ঝরনার তৃতীয় ধাপটি অন্য ধাপগুলোর চেয়ে স্বতন্ত্র। এই ধাপ থেকে নিচের দুই ধাপের প্রবাহ দেখা যায়। এভাবে উপরে মোট নয়টি ধাপ পাবেন। মোট নয়টি ধাপের কয়েকটি ধাপে পাবেন নয়নাভিরাম ক্যাসকেডের। যেরকম বাংলাদেশের অন্য কোনো ঝরনায় এখনও পর্যন্ত দেখা যায়নি। নবম ধাপে পাবেন পানির স্রোতে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক লেকের। একে খৈয়াছড়া লেক বলে অনেকে। এটাই খৈয়াছড়া ঝরনার পানির মূল উৎস। এই হলো এক নজরে খৈয়াছড়া ঝরনা। আর আপনি যদি ক্যাম্পিং করতে ভালোবাসেন, তাহলে কোনো এক পূর্ণিমার দিন বেছে চলে যান খৈয়াছড়া। খাবারদাবার নিয়ে উঠে যান পাহাড়ের উপরে। সমতল জায়গায় তাঁবু বিছিয়ে উপভোগ করুন পূর্ণিমার চাঁদে রহস্যময়ীর রূপ ধারণ করা, ভয়ঙ্কর সুন্দরী রাণী খৈয়াছড়াকে।  কীভাবে যাবেন  যদি ঢাকা থেকে আসতে চান তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম অথবা ঢাকা-ফেনীগামী কোনো রাতের বাসে উঠে পড়ুন। ভোরে ফেনী নেমে গেলে নাস্তা সেরে ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যায় এমন বাসে উঠুন। হেল্পারকে বললে আপনাকে একেবারে খৈয়াছড়া রাস্তার মাথায় নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে বা হেঁটে হেঁটে চলে যেতে পারেন ট্রেইলের কাছে। চাইলে দুপুরের খাবার নিয়ে নিতে পারেন। কারণ সবগুলো ঝরনা ঘুরে দেখতে চাইলে নামতে নামতে সন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।  কোথায় থাকবেন বড় তাকিয়া বাজারে থাকার হোটেল নেই। যদি রাত থাকতে চান তাহলে কাছের মিরসরাই পৌরসভায় বা ফেনী চলে যেতে পারেন। আর যদি থাকতে না চান তাহলে লেগুনা করে মিরসরাই চলে যান। সেখান থেকে ঢাকার বাস পেয়ে যাবেন।  সতর্কতা  খৈয়াছড়া ঝরনা খুবই দুর্গম ও বিপজ্জনক। উপরে উঠতে চাইলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। সাপোর্টের জন্য একটি শক্ত মুলি বাঁশ নিয়ে নিন। ট্রেইল শুরু হবার আগেই পেয়ে যাবেন বাঁশের দোকান। পিস ১০ টাকা করে নেবে।  মনে রাখবেন খৈয়াছড়া বাংলাদেশের অনন্য ঝরনাগুলোর মধ্যে একটি। এর রূপ-বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ঝরনার পানিতে কোনো ধরনের প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলবেন না। কোনো বন্য প্রাণীর ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকবেন। একে অপরকে সাহায্য করবেন।  পি  
দুর্গম ও অনিন্দ্য সুন্দরী এক পাহাড়ি রাণী ‘খৈয়াছড়া ঝরনা’ 
পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক শিশুটি প্রায় মায়ের সমবয়সী
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের এক শিশু জন্ম নিয়েই ইতিহাস রচনা করেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর কন্যা শিশুটিকে ভ্রূণ অবস্থাতেই জমাট রাখা হয়েছিল। ১৯৯২ সালের অক্টোবর মাসে থেকে। তারপর ২৯ বছর বয়সী এক মার্কিন তরুণী টিনা গিভসনের গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয় এ বছরেই। সবশেষ গেলো ২৬ অক্টোবর তার গর্ভেই পূর্ণতা লাভ করে জন্ম নেয় শিশুটি। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মলি গিভসন। জানা গেছে, এতো পুরোনো ভ্রূণ প্রথমবার সফলভাবে মাতৃদেহে বেড়ে উঠে জন্মলাভ করলো। অবাক করা ব্যাপার হলো শিশুটির জন্মদাত্রী টিনা জন্মেছিলেন মলিকে ভ্রূণ অবস্থায় সংরক্ষণ রাখায় মাত্র ১৮ মাস আগে।    এটি সহজে ভুলে থাকার মতো বিষয় নয়। কিন্তু, আমাদের কাছে মলি হলো ছোট বিস্ময়কর সোনামণিটি। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই বলছিলেন টিনা। এর আগে ২৪ বছর বয়সী এক ভ্রূণ থেকে ২০১৭ সালে এমা ওয়ারেন গিভসন নামের এক শিশুর জন্ম হয়। এমা আসলে মলির বড় বোন। অর্থাৎ, একই মা জন্ম দিয়েছেন সবচেয়ে বয়সী দুই শিশুকে! যা পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেছে কিনা জানা যায়নি। বাস্তবের প্রয়োজনীয়তা গিভসন পরিবারকে এভাবে শিশু জন্মদানে বাধ্য করে। কারণ হলো স্বামী-স্ত্রী'র একক পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই অনুর্বরতার কারণে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময়ে দুটি জমাট ভ্রূণের কথা জানতে পারেন তারা। আরও একটি বিষয় হলো বাস্তবেও ভ্রূণ দুটি ছিল দুই বোন। মলি ও এমার প্রকৃত পিতামাতাই ওদের দান করেন নিঃসন্তান দম্পত্তিদের জন্য। গোপনীয়তার শর্ত থাকায় প্রকৃত মাতা-পিতার নাম গোপন রাখা হয়েছে। এম
পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক শিশুটি প্রায় মায়ের সমবয়সী
ভারতে মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় নতুন নির্ভরতা ‘আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি’
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের মুদাসসির নজর। প্রতি নির্বাচনেই বিরোধী সমাজতান্ত্রিক দলকে ভোট দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এবারের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তার পরিবারের সবাই ভোট দিয়েছে ইন্ডিয়ান মজলিশ ই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিনকে। কারণ, এ দলটি মুসলিমদের স্বার্থ সংরক্ষণে সব সময়ই তৎপর রয়েছে। মুদাসসির নজর বলেন, ‘কিশানগঞ্জ জেলার সিমাচলে আমাদের গ্রামটির মোটামুটি সবাই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিনকেই ভোট দিয়েছে।’  দলটি বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ৫ টি আসনে জয়লাভ করে। সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, গত এক দশক ধরে বিহারের ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলগুলো সেখানকার চরম দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলকে ব্যাপক অবজ্ঞা করেছে।  মুদাসসির নজর আল জাজিরাকে বলেন, ‘ভারতীয় কংগ্রেস কিংবা অন্য ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করেছে। এমনকি তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায়, এমন সব সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলতে ইচ্ছুক নয়। তাদেরকে তাদের কাজই করতে দিন।’ কিন্তু অপরদিকে, ইন্ডিয়ান মজলিশ ই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিন তারা মুসলিমদের পক্ষে সব সময় কণ্ঠ সোচ্চার করে থাকে। মনে হচ্ছে, দলটি সমাজের মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।  ভারতে মুসলিমদের শতকরা হার ১৪ ভাগ হলেও ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে মুসলিমদের প্রভাব কমে যাচ্ছে। বিহারের মন্ত্রিসভায় এবারই প্রথম কোনো মুসলিম ধর্মাবলম্বীর ঠাঁই মেলেনি।  ভারতের বিধানসভায় ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে এবারে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ২৭ জন মুসলিম জনপ্রতিনিধি। যেটি বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।  অপরদিকে, ২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এমন কিছু আইন পাশ করেছেন, যা মুসলিমদের প্রতি প্রচন্ড বৈষম্যমূলক। গত বছর পাশ হয় তীব্র বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন। আর এসবই প্রমাণ দেয়, দেশটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পথ থেকে বহুদূর সরে গেছে। আর এর বিদ্বেষমূলক আইন প্রণয়নের প্রতিবাদে মুসলিমদের নেতৃত্বে ভারতজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ।  মোদি সরকার কাশ্মীরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনেক বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। সংকুচিত করা হয়েছে সেখানকার নাগরিকদের স্বাধীনতা। রাজ্যটিতে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে আরোপ করা হয় কেন্দ্রীয় অবরোধ।  এ অবস্থায় বিরোধী দল ন্যাশনাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলিমদের অভিযোগ, দলটি মুসলিমদের ইস্যুতে কোনো ভূমিকাই পালন করেনি। অথচ ঐতিহ্যগতভাবে দলটিকে ভোট দিয়ে আসছিলেন কাশ্মীরের মুসলিমরা।  বিগত এক দশক ধরে ইত্তেহাদ উল মুসলেমিন দলটি কেবল দক্ষিণাঞ্চলের তেলেঙ্গানা ও হায়দ্রাবাদে সীমাবদ্ধ থাকলেও সম্প্রতিকালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেক অঞ্চলেই প্রসারিত হয়েছে।  দলটির প্রধান আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি এ পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদ থেকে শুরু করে টেলিভিশন টকশো, সব ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় তিনি। মুসলিমদের অধিকারের প্রশ্নে সর্বত্রই সোচ্চার রয়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।  তিনি বরাবরই অভিযোগ করে থাকেন, ভারতের প্রধান বিরোধী দল সব সময় মুসলিমদের অধিকারের প্রশ্নে নিরব। তার অভিযোগ, মোদির ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। ভারতীয় সংবিধানের মূলনীতি রক্ষায় কখনোই সামনের সারিতে আসেনি ভারতের প্রধান বিরোধী দল।  ভারতের বিহার রাজ্যের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল মুসলিম সম্পর্কিত ইস্যু এড়িয়ে গেছে। দল দুটি নির্বাচনী প্রচারণায় কেবল গুরুত্ব দিয়েছে কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়কে। মাজজাদ আলম নামের বিহারের স্থানীয় এক সাংবাদিক আল জাজিরাকে বলেন, দল দুইটি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।  এ অবস্থায় মুসলিম ভোটারদের বেশিরভাগ অংশ আসাদ উদ্দিন ওয়াইসির দলকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, তারা মুসলিমদের পক্ষে কথা বলার জন্য এই দলটিকেই উপযুক্ত মনে করে।  ভারতীয় বিশ্লেষকদের ধারণা,  স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের রাজনীতিতে ইন্ডিয়ান মজলিশ ই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিনই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে।    দলটির মূখপাত্র ওয়ারিস পাঠান আল জাজিরাকে বলেন, ‘ভারতের মুসলিমসহ সংখ্যালঘু মানুষদের অধিকার ও ন্যায়বিচার রক্ষার ইস্যুতে আমরা সব সময়ই জোরালো ভূমিকা পালন করবো।’ বিহারের সবশেষ নির্বাচনে দলটি ৫ লাখ ভোট পেয়েছে। জয়ী হয়েছে ৫ আসনে। কিন্তু ২০১৫ সালে নির্বাচনে পেয়েছিল মাত্র ৮০ হাজার ভোট। তখনকার সময়ে একটি আসনেও জয়ী হতে পারেনি। আগেরকার ভোটের সাথে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোটের তুলনা করলেই দলটির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ধারণা করা যায়।  দলটির আরেক সিনিয়র নেতা ওয়াকার বলেন, ভারতের রাজনীতিতে কেবল মুসলিমদের ইস্যুতেই নয়, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিয়েই সার্বজনীন রাজনীতি করবে ইন্ডিয়ান মজলিশ। তিনি বলেন, আমরা কখনো কেবল মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করবো না। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলেও বিজয়ী হয়েছে তাদের দল।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়ান মজলিশের জনপ্রিয়তার বড় কারণ- দলটির প্রধান আসাদ উদ্দিন ওয়াইসির রাজনৈতিক ক্যারিশমা। তিনি ভারতের নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশকে প্রভাবিত করতে পেরেছেন।  কলকাতার আলীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজের মতে, ওয়াইসির কথা বলার ধরণ, জীবন প্রনালী এবং ভাষাগত ব্যবহার, সবই মানুষকে আকৃষ্ট করে। সংসদে তিনি গুছিয়ে এবং তথ্যভিত্তিক কথা বলেন।  তবে এরপরও মুসলিমদের মধ্যেই রাজনীতিতে ওয়াইসির কিছু সমালোচক রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, মুসলিমদের বিভাজন করছেন আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি। কখনো কখনো ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সহায়তারও অভিযোগ তোলেন কেউ কেউ।  সূত্র- আল জাজিরা। এমএস 
ভারতে মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় নতুন নির্ভরতা ‘আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি’
দেশে এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুরগির চাষ হচ্ছে
দেশে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি পাওয়া খেলেও হাঁটে বাজারে হাতের নাগালে কয়েক প্রজাতির মুরগির দেখা মেলে। নিত্য দিনের মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পাকিস্তানি কক কিংবা পোল্ট্রি মুরগি বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে এসবের বাইরেও যে অনেক মুরগি আছে তা হয়তো দেখা মেলে না। এমনই একটি প্রজাতির নাম কালো মুরগি।  দেশের অনেক মানুষের কাছে কালো মুরগি পরিচিত নয়। কালো মুরগিকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুরগি। দেশে এই মুরগি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।  কালো মুরগির বৈশিষ্ট্য হলো- মাথার ঝুঁটি থেকে পা পর্যন্ত সব অঙ্গের রং কালো। এমনকি পালক, চামড়া, ঠোঁট, নখ, ঝুঁটি, জিভ, মাংস, হাড়ও কালো।  এই মুরগির আসল নাম আয়্যাম কেমানি, ইন্দোনেশীয় ভাষায় আয়্যাম মানে মুরগি এবং কেমানি অর্থ পুরোপুরি কালো। ভারতের মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এই মুরগির নাম কাদাকনাথ বা কালোমাসি। ভারতের মধ্য প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে কালো মুরগি। কালো মুরগি বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা কালো মুরগিকে কেদারনাথ ব্রিড বা কালোমাসি নামে চেনেন। এটি প্রথম দেশে আসে ২০১৬ সালে।  বাংলাদেশে নরসিংদী জেলার কামরুল ইসলাম মাসুদ এটির উৎপাদন শুরু করেন। কাজের সূত্রে ভারতে গিয়ে কালো মুরগি খেয়ে তিনি অবাক হন। এরপর তিনি দেশে নিয়ে এসে উৎপাদন শুরু করেন। তিনি বলেন, এর গুনাগুণ সম্পর্কে জানতে পেরে উৎপাদনের কথা ভাবি। শুরুতে ৩০০ মোরগ ও মুরগি নিয়ে আসি। এখন  খামারে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার কালো মুরগির বাচ্চা ফোটে। এই মুরগি বা মোরগের ওজন দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে। একটি মুরগি ডিম পাড়ার উপযোগী হতে ছয় মাসের মত সময় লাগে।  একজোড়া কালো মুরগি ও মোরগের দাম চার হাজার টাকা। ২০১৬ সালে একজোড়া মুরগি ও মোরগের দাম ছিল দশ হাজার টাকা। কালো মুরগির পুষ্টিগুণ অনেকে মনে করেন কালো মুরগি নানা ধরণের রোগ সারায়। ঔষধি গুনাগুণের জন্য দেশে এই মুরগির অনেক কদর। অধ্যাপক মাকসুদা বেগম বলেন, দেশি মুরগির চেয়ে এই মুরগির মাংসের স্বাদ বেশি। খাদ্যগুণের বিচারে কালো মুরগির মাংসে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আয়রন রয়েছে। সাধারণ মুরগির তুলনায় এই মুরগির মাংসে কোলেস্টরেলের মাত্রাও অনেক কম থাকে। এই মুরগি রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এই মুরগির মাংসে ফ্যাটি অ্যাসিড উপাদান অনেক বেশি থাকে। কিন্তু প্রোটিনের মাত্রা অন্য সব মুরগির মাংস থেকে কয়েক গুণ বেশি। সূত্র- বিবিসি বাংলা জিএ/ এমকে
দেশে এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুরগির চাষ হচ্ছে
আরও পড়ুন
তারকা সমারোহে শেষ হলো আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ড (ভিডিও)
আরটিভির আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন বরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ
আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেলেন যারা
আরটিভির জন্মদিনে ক্রীড়া তারকাদের শুভেচ্ছা