ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় নতুন নির্ভরতা ‘আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি’

মাইনুল ইসলাম শোভন

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০৫ পিএম
আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের মুদাসসির নজর। প্রতি নির্বাচনেই বিরোধী সমাজতান্ত্রিক দলকে ভোট দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এবারের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তার পরিবারের সবাই ভোট দিয়েছে ইন্ডিয়ান মজলিশ ই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিনকে। কারণ, এ দলটি মুসলিমদের স্বার্থ সংরক্ষণে সব সময়ই তৎপর রয়েছে।

মুদাসসির নজর বলেন, ‘কিশানগঞ্জ জেলার সিমাচলে আমাদের গ্রামটির মোটামুটি সবাই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিনকেই ভোট দিয়েছে।’

দলটি বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ৫ টি আসনে জয়লাভ করে। সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, গত এক দশক ধরে বিহারের ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলগুলো সেখানকার চরম দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলকে ব্যাপক অবজ্ঞা করেছে।

মুদাসসির নজর আল জাজিরাকে বলেন, ‘ভারতীয় কংগ্রেস কিংবা অন্য ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করেছে। এমনকি তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায়, এমন সব সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলতে ইচ্ছুক নয়। তাদেরকে তাদের কাজই করতে দিন।’

কিন্তু অপরদিকে, ইন্ডিয়ান মজলিশ ই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিন তারা মুসলিমদের পক্ষে সব সময় কণ্ঠ সোচ্চার করে থাকে। মনে হচ্ছে, দলটি সমাজের মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

ভারতে মুসলিমদের শতকরা হার ১৪ ভাগ হলেও ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে মুসলিমদের প্রভাব কমে যাচ্ছে। বিহারের মন্ত্রিসভায় এবারই প্রথম কোনো মুসলিম ধর্মাবলম্বীর ঠাঁই মেলেনি।

ভারতের বিধানসভায় ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে এবারে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ২৭ জন মুসলিম জনপ্রতিনিধি। যেটি বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অপরদিকে, ২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এমন কিছু আইন পাশ করেছেন, যা মুসলিমদের প্রতি প্রচন্ড বৈষম্যমূলক। গত বছর পাশ হয় তীব্র বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন। আর এসবই প্রমাণ দেয়, দেশটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পথ থেকে বহুদূর সরে গেছে। আর এর বিদ্বেষমূলক আইন প্রণয়নের প্রতিবাদে মুসলিমদের নেতৃত্বে ভারতজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ।

মোদি সরকার কাশ্মীরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনেক বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। সংকুচিত করা হয়েছে সেখানকার নাগরিকদের স্বাধীনতা। রাজ্যটিতে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে আরোপ করা হয় কেন্দ্রীয় অবরোধ।

এ অবস্থায় বিরোধী দল ন্যাশনাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলিমদের অভিযোগ, দলটি মুসলিমদের ইস্যুতে কোনো ভূমিকাই পালন করেনি। অথচ ঐতিহ্যগতভাবে দলটিকে ভোট দিয়ে আসছিলেন কাশ্মীরের মুসলিমরা।

বিগত এক দশক ধরে ইত্তেহাদ উল মুসলেমিন দলটি কেবল দক্ষিণাঞ্চলের তেলেঙ্গানা ও হায়দ্রাবাদে সীমাবদ্ধ থাকলেও সম্প্রতিকালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেক অঞ্চলেই প্রসারিত হয়েছে।

দলটির প্রধান আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি এ পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদ থেকে শুরু করে টেলিভিশন টকশো, সব ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় তিনি। মুসলিমদের অধিকারের প্রশ্নে সর্বত্রই সোচ্চার রয়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

তিনি বরাবরই অভিযোগ করে থাকেন, ভারতের প্রধান বিরোধী দল সব সময় মুসলিমদের অধিকারের প্রশ্নে নিরব। তার অভিযোগ, মোদির ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। ভারতীয় সংবিধানের মূলনীতি রক্ষায় কখনোই সামনের সারিতে আসেনি ভারতের প্রধান বিরোধী দল।

ভারতের বিহার রাজ্যের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল মুসলিম সম্পর্কিত ইস্যু এড়িয়ে গেছে। দল দুটি নির্বাচনী প্রচারণায় কেবল গুরুত্ব দিয়েছে কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়কে। মাজজাদ আলম নামের বিহারের স্থানীয় এক সাংবাদিক আল জাজিরাকে বলেন, দল দুইটি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

এ অবস্থায় মুসলিম ভোটারদের বেশিরভাগ অংশ আসাদ উদ্দিন ওয়াইসির দলকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, তারা মুসলিমদের পক্ষে কথা বলার জন্য এই দলটিকেই উপযুক্ত মনে করে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের রাজনীতিতে ইন্ডিয়ান মজলিশ ই ইত্তেহাদ উল মুসলেমিনই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে।

দলটির মূখপাত্র ওয়ারিস পাঠান আল জাজিরাকে বলেন, ‘ভারতের মুসলিমসহ সংখ্যালঘু মানুষদের অধিকার ও ন্যায়বিচার রক্ষার ইস্যুতে আমরা সব সময়ই জোরালো ভূমিকা পালন করবো।’

বিহারের সবশেষ নির্বাচনে দলটি ৫ লাখ ভোট পেয়েছে। জয়ী হয়েছে ৫ আসনে। কিন্তু ২০১৫ সালে নির্বাচনে পেয়েছিল মাত্র ৮০ হাজার ভোট। তখনকার সময়ে একটি আসনেও জয়ী হতে পারেনি। আগেরকার ভোটের সাথে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোটের তুলনা করলেই দলটির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

দলটির আরেক সিনিয়র নেতা ওয়াকার বলেন, ভারতের রাজনীতিতে কেবল মুসলিমদের ইস্যুতেই নয়, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিয়েই সার্বজনীন রাজনীতি করবে ইন্ডিয়ান মজলিশ। তিনি বলেন, আমরা কখনো কেবল মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করবো না। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলেও বিজয়ী হয়েছে তাদের দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়ান মজলিশের জনপ্রিয়তার বড় কারণ- দলটির প্রধান আসাদ উদ্দিন ওয়াইসির রাজনৈতিক ক্যারিশমা। তিনি ভারতের নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশকে প্রভাবিত করতে পেরেছেন।

কলকাতার আলীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজের মতে, ওয়াইসির কথা বলার ধরণ, জীবন প্রনালী এবং ভাষাগত ব্যবহার, সবই মানুষকে আকৃষ্ট করে। সংসদে তিনি গুছিয়ে এবং তথ্যভিত্তিক কথা বলেন।

তবে এরপরও মুসলিমদের মধ্যেই রাজনীতিতে ওয়াইসির কিছু সমালোচক রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, মুসলিমদের বিভাজন করছেন আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি। কখনো কখনো ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সহায়তারও অভিযোগ তোলেন কেউ কেউ।

সূত্র- আল জাজিরা।

এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী