ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন–ভাতাসহ কী কী সুবিধা পান

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। এখন অনেকের কৌতূহল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।

দুটি নিয়োগে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন

সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য নন। সংবিধান তাঁকে এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ক্ষমতা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পেশ করতে অনুরোধ জানালে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না এবং দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো আদালত কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবেন না।

ক্ষমা করার বিশেষ ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন; যদিও সংসদীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির অন্যান্য দায়িত্বের মতো এ ক্ষমতার প্রয়োগ সরকারের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।

দায়িত্ব পালনে দায়মুক্তি

রাষ্ট্রপতির পদটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাংবিধানিক দায়মুক্তি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপতিকে কোনোভাবেই পদ থেকে সরানো যায় না। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁকে অভিশংসন করা যায়। আবার শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাঁকে পদ থেকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংসদে বিবেচিত হয়। রাষ্ট্রপতির অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে। অভিযোগ বিবেচনার পর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।

শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও প্রায় একইভাবে সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। এরপর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য নজির হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই।

মেয়াদ পাঁচ বছর, সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরপর এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। পরে সেই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়, তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য নন।

আজকের ভোটে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। এ জন্য তিনি ভোটের সময় সংসদের সভাকক্ষে থাকতে এবং ভোট দিতে পারবেন না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে পারবেন।

যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন

বর্তমান সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন। একজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং আরেকজন তা সমর্থন করেন।

একজন প্রার্থী থাকলে এবং তার মনোনয়ন বৈধ হলে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর আজ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন নির্বাচনী কর্তা।

বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আয়করমুক্ত

ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে রাষ্ট্রপতির পদটির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বেশ বিস্তৃত। রাষ্ট্রপতি কী সুযোগ-সুবিধা পান, তা বলা আছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্টে। রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বেতন বাড়ানো হয়। আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকলে তিনি কোনো সরকারি সুবিধা পান না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি অবসর বা পদত্যাগের পরও কিছু সরকারি সুবিধা পান।

রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্যও বার্ষিক ভাতা রয়েছে। এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।

রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন নির্ধারিত। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধাও সরকার দিয়ে থাকে।

রাষ্ট্রপতি সরকারি কাজে বিদেশ সফরে গেলে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পান।

স্বেচ্ছাধীন তহবিল বছরে দুই কোটি টাকা

রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল। বছরে এ তহবিলের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ অর্থ ব্যয় করা যায়।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।

রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির বেতন ছাড়াও বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন, বিমানভ্রমণের বিমাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য বিস্তৃত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু সরকারপ্রধান নন

বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটির মূল বৈশিষ্ট্য এখানেই—তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, কিন্তু সরকারের প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তার আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতাকে আলাদা করে দেখা জরুরি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও তৈরি করেছে।

এ কারণে জাতীয় নির্বাচন বা বড় রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির পদটি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সংসদে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে রাষ্ট্রপতির সেই বিবেচনামূলক পরিসর অনেকটাই সীমিত থাকে।

সুতরাং রাষ্ট্রপতির পদটি একদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার সাংবিধানিক পদ, অন্যদিকে সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা হয়নি।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এআইয়ের যুগে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি: চাকরি যাচ্ছে, নাকি বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন?
একসময় একটি সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোড লিখতে হতো। ছোট একটি ত্রুটি খুঁজে বের করতেও ডেভেলপারকে ডকুমেন্টেশন, অনলাইন ফোরাম কিংবা পুরোনো কোড ঘেঁটে দেখতে হতো। নতুন কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও সময় লাগত কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস। এখন সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই কোডিং টুল কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কোড লিখে দিতে পারছে, ভুল শনাক্ত করতে পারছে, টেস্ট কেস তৈরি করছে, ডকুমেন্টেশন লিখছে এবং পুরোনো কোডের জটিল অংশ বুঝিয়ে দিতে পারছে। এমনকি সফটওয়্যারের প্রাথমিক কাঠামো তৈরিতেও সহায়তা করছে এসব প্রযুক্তি। এর ফলে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে এআই কি সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজ কেড়ে নিচ্ছে, নাকি ডেভেলপারের কাজের ধরনই বদলে দিচ্ছে? বিশ্বজুড়ে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সফটওয়্যার তৈরির অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন হলেও সফটওয়্যার ডেভেলপারের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি কমে যাচ্ছে এমন প্রবণতা এখনো স্পষ্ট নয়। বরং বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন, নিয়োগে চাওয়া দক্ষতা এবং কর্মীদের দায়িত্ব। দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার স্ট্যাক ওভারফ্লোর ২০২৫ সালের ডেভেলপার সার্ভে অনুযায়ী, ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় এআই টুল ব্যবহার করছেন অথবা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৭৬ শতাংশ। পেশাদার ডেভেলপারদের ৫১ শতাংশ প্রতিদিন এআই টুল ব্যবহার করছেন। ১৭৭টি দেশের ৪৯ হাজারের বেশি ডেভেলপার এই জরিপে অংশ নেন। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে এআইয়ের ব্যবহার শুধু কোড লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কোড তৈরি ও সম্পন্ন করা, ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধান, সফটওয়্যার পরীক্ষা, টেস্ট কেস তৈরি, ডকুমেন্টেশন, কোডের কাঠামো পরিবর্তন, পুরোনো কোড বোঝা এবং বিভিন্ন পুনরাবৃত্তিমূলক কাজেও এআই ব্যবহার হচ্ছে। গিটহাবের ২০২৪ সালের এক জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, জার্মানি ও ভারতের ২ হাজার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট পেশাজীবীর মধ্যে ৯৭ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা কোনো না কোনো সময় এআই কোডিং টুল ব্যবহার করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এসব টুল ডেভেলপমেন্টের দক্ষতা, সফটওয়্যার পরীক্ষা, কোডের মান এবং পুরোনো কোডবেজ বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হচ্ছে। এআই ব্যবহারে সাশ্রয় হওয়া সময় সিস্টেম ডিজাইন, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝার মতো কাজে ব্যয় করা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা। অর্থাৎ এআই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জায়গা দখল করছে এমন চিত্রের চেয়ে সফটওয়্যার তৈরির প্রক্রিয়ার ভেতরে এআই নতুন একটি সহকারী হিসেবে ঢুকে পড়ছে এমন চিত্রই বেশি স্পষ্ট। এআইয়ের ওপর পুরোপুরি আস্থা নেই ডেভেলপারদের এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এর দেওয়া ফলাফলের ওপর ডেভেলপারদের অন্ধ আস্থা তৈরি হয়নি। স্ট্যাক ওভারফ্লোর একই জরিপে ৪৬ শতাংশ ডেভেলপার এআই টুলের ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ৩৩ শতাংশ এআইয়ের ফলাফলের নির্ভুলতায় আস্থা রেখেছেন। ৬৬ শতাংশ ডেভেলপার জানিয়েছেন, এআইয়ের দেওয়া সমাধান অনেক সময় প্রায় সঠিক হলেও পুরোপুরি সঠিক হয় না। আবার ৪৫ শতাংশ বলেছেন, এআই দিয়ে তৈরি কোডে ত্রুটি খুঁজে ঠিক করতে কখনো কখনো আরও বেশি সময় লাগে। অর্থাৎ এআই কোড লিখে দিতে পারলেও সেই কোড সঠিক কি না, নিরাপদ কি না এবং পুরো সফটওয়্যার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখনো মানুষের কাছেই থাকছে। এখানেই সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজের পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পষ্ট। আগে একজন ডেভেলপারের বড় একটি অংশের সময় কোড লেখায় ব্যয় হতো। এখন একই ডেভেলপার এআই দিয়ে কোড তৈরি করিয়ে সেটি যাচাই, সংশোধন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং পুরো সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার কাজে বেশি সময় দিতে পারেন। নির্দিষ্ট কাজে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা এআই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় গিটহাবের গবেষণায়। গিটহাবের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোডিং কাজ কপাইলট ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ দ্রুত সম্পন্ন করেছিলেন। তবে এই ফলাফলকে পুরো সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ছিল নির্দিষ্ট একটি কোডিং কাজের ওপর পরিচালিত পরীক্ষা। অন্যদিকে স্ট্যাক ওভারফ্লোর ২০২৫ সালের জরিপে ৫২ শতাংশ ডেভেলপার জানিয়েছেন, এআই টুল বা এআই এজেন্ট তাদের উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। ফলে এআইয়ের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে চাকরি বিলুপ্তির চেয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কাজের পুনর্বণ্টনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চাকরি কি তাহলে কমে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুধু ডেভেলপারদের জরিপ নয়, বৈশ্বিক শ্রমবাজারের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় প্রতি চারটি চাকরির একটি কোনো না কোনো মাত্রায় জেনারেটিভ এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ ধরনের চাকরির হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। তবে আইএলওর বিশ্লেষণ বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রায় ৩০ হাজার পেশাগত কাজ বিশ্লেষণ করে এ মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি পেশার কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে, কিন্তু পুরো পেশাটিই এআই দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং মানে শুধু কোড লেখা নয়। একটি সফটওয়্যার সিস্টেম তৈরি করতে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বোঝা, আর্কিটেকচার তৈরি, ডেটাবেজ ডিজাইন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরীক্ষা, ডেপ্লয়মেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকের ব্যবসায়িক সমস্যা বোঝার মতো কাজও থাকে। এসব কাজের বড় অংশেই মানুষের সিদ্ধান্ত ও বিচারবোধ প্রয়োজন। সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাহিদা কি সত্যিই কমছে? যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসও ভিন্ন একটি চিত্র দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কর্মসংস্থান ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭০০টি নতুন সফটওয়্যার ডেভেলপার চাকরি যুক্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সব ধরনের পেশা মিলিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ডেটা বিজ্ঞানীর মতো প্রযুক্তিনির্ভর পেশাতেও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকের কর্মসংস্থান ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডেটা বিজ্ঞানীর ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫’-এও সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের ২০২৫ থেকে ২০৩০ সময়ে দ্রুত বাড়তে থাকা চাকরির তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির মধ্যেও সফটওয়্যার ডেভেলপার পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কোনো পূর্বাভাস নেই। তবে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার চাকরি বর্তমানের মতো থাকবে না এ বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় চাপ কি জুনিয়র ডেভেলপারদের ওপর? এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিচ্ছে এন্ট্রি লেভেল বা জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ক্ষেত্রে। কারণ রুটিন কোডিংয়ের বড় একটি অংশ এখন এআই টুল দিয়ে দ্রুত করা সম্ভব। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসানের অভিজ্ঞতায়, এআই ব্যবহারে আগে দুই ঘণ্টা লাগা কিছু কাজ অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ মিনিটে করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য খোঁজা, ডকুমেন্টের খসড়া তৈরি, কোডের সমস্যা শনাক্ত করা, নতুন ধারণা বের করা এবং প্রতিবেদন বা উপস্থাপনার প্রাথমিক কাঠামো তৈরিতে সময় অনেক কমে গেছে। তবে তার মতে, এআইয়ের তৈরি ফলাফল যাচাই করতে মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এখনো প্রয়োজন। এআইকে সরাসরি চাকরির হুমকি হিসেবে দেখার চেয়ে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে দেখা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। তবে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব বেশি হতে পারে বলে তার আশঙ্কা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আল মাহিনের অভিজ্ঞতায়, এআইয়ের কারণে কিছুটা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার আশঙ্কা, বিশেষ করে জুনিয়র পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে যারা এআইকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াবে, তাদের জন্য সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। দুই শিক্ষার্থীর বক্তব্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট এআই নিয়ে ভয় যেমন আছে, তেমনি এআইকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তারা অনুভব করছেন। বদলে যাচ্ছে জুনিয়র ডেভেলপারের সংজ্ঞা এআই-সহায়িত সফটওয়্যার তৈরির কারণে জুনিয়র ডেভেলপারের সংজ্ঞাও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে একজন সিএসই গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামিং ভাষা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কিংবা ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করতেন। এখন সেই কাজের কিছু অংশ এআই খুব দ্রুত করে দিতে পারে। মেহেদী হাসানের মতে, শুধু প্রোগ্রামিং ভাষা জানা এখন যথেষ্ট নয়। একজন ডেভেলপারের ফ্রন্টএন্ড, ব্যাকএন্ড ও ডেটাবেজের সম্পর্ক, এপিআই, গিট, ক্লাউড, ডেপ্লয়মেন্ট ও সিআই/সিডি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিস্টেম ডিজাইন ও সফটওয়্যার আর্কিটেকচারের প্রাথমিক ধারণা এবং এআই টুল কার্যকরভাবে ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিবর্তনটি এখানেই। এআই যদি প্রাথমিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক কোড লিখে দিতে পারে, তাহলে একজন নতুন ডেভেলপারের মূল্যায়ন শুধু সে কত দ্রুত কোড লিখতে পারে—এতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সে সমস্যাটি কতটা বুঝতে পারে, এআইয়ের তৈরি কোড যাচাই করতে পারে কি না এবং পুরো সিস্টেম কীভাবে কাজ করে তা বোঝে কি না এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রেও দ্রুত বাড়ছে এআই বাংলাদেশের বাস্তবতাতেও এআই ব্যবহারের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। টেলিনর এশিয়ার ‘ডিজিটাল লাইভস ডিকোডেড ২০২৫’ গবেষণায় বাংলাদেশের ১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ করা হয়। এতে ৯৬ শতাংশ ব্যবহারকারী নিয়মিত এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৮৮ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হার ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ৪৪ শতাংশ। এআই ব্যবহারকারীদের মধ্যে কনটেন্ট তৈরি ও তথ্য বিশ্লেষণ উল্লেখযোগ্য ব্যবহারক্ষেত্র ছিল। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীদের ৪২ শতাংশ কোড লেখার টুল ব্যবহার করেন। তবে একই গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারীদের মাত্র প্রায় অর্ধেক জানিয়েছেন যে তাদের প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক এআই কৌশল রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে এআই গ্রহণের গতি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক নীতিমালা তৈরির গতির চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি কি সংকটে? বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটি সেবা খাতের আকারও ছোট নয়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি আইটি ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠান এবং ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্টস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টেলিকম, কম্পিউটার ও তথ্যসেবা থেকে দেশের সেবা আয় ছিল ৭২৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৬৭২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের তথ্যেও বাংলাদেশের আইটি সেবা রপ্তানিতে ওঠানামার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে পুনরুদ্ধারের চিত্র দেখা যায়। ২০২০-২১ অর্থবছরে আইসিটি সেবা রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৩৬ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭৩৮ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমে হয় ৬৬৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৬৭২ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭২৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ এআই আসার পর বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাত দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এমন চিত্র এসব রপ্তানি তথ্য দিচ্ছে না। বরং বড় প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ কাজের ধরন কী হবে। বদলে যাচ্ছে দক্ষতার চাহিদা বাংলাদেশের ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির দক্ষতার ঘাটতি-সংক্রান্ত তথ্যেও নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ১৫০টি আইটি ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠানের ওপর করা জরিপে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং ভাষা, সফটওয়্যার টেস্টিং, ডেটাবেজ এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের চাহিদা পাওয়া গেছে। সফটওয়্যার টেস্টিং প্রশিক্ষণে ৮১ শতাংশ এবং ডেটাবেজ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ ছিল। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু কর্মী কমানোর দিকে যাচ্ছে এমন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। এখানে এআই নতুন একটি স্তর যোগ করছে। এখন একজন ডেভেলপারের শুধু কোড লেখার দক্ষতা থাকলেই হচ্ছে না; এআই দিয়ে তৈরি কোড যাচাই, সিস্টেম আর্কিটেকচার বোঝা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়িক সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরির দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা কী ভাবছে? বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর করা সাম্প্রতিক গবেষণাতেও এআই নিয়ে দ্বৈত মনোভাবের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে করা এক গবেষণা ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই যত চাকরি নষ্ট করবে তার চেয়ে বেশি চাকরি তৈরি করবে এমন মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। একই সময়ে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এআইয়ের কারণে দক্ষতার অমিল বা স্কিল মিসম্যাচ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬ শতাংশ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য এআই-জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪ শতাংশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮ শতাংশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এআইকে শুধু চাকরি হারানোর কারণ হিসেবে দেখছে না; বরং ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে টিকে থাকার জন্য এআই-জ্ঞানকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা হিসেবেও দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এআইয়ের প্রভাব শুধু সফটওয়্যার কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ নেই। কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষাব্যবস্থাও পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। এসিএম, আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি এবং এএএআই-এর সিএস২০২৩ কারিকুলামে এআইকে কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষার মধ্যে আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মূল কম্পিউটার বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান বাদ দেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর মৌলিক ধারণা, এআই নৈতিকতা এবং এর সামাজিক প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসিএম-এর জেনারেটিভ এআই ও কারিকুলামবিষয়ক আলোচনাতেও রুটিন কোডিং বা শুধু সিনট্যাক্স শেখানোর পাশাপাশি উচ্চতর পর্যায়ের ধারণা, সমস্যা সমাধান এবং মৌলিক কম্পিউটার বিজ্ঞান জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এআই কোড লিখতে পারলেও প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক জ্ঞানের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং একজন শিক্ষার্থী এআইয়ের তৈরি কোড বুঝতে, যাচাই করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারছে কি না সেটিই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের ডেভেলপার কেমন হবে? সব তথ্য এক জায়গায় রাখলে সফটওয়্যার শিল্পের পরিবর্তনের একটি চিত্র স্পষ্ট হয়। আগের সফটওয়্যার ডেভেলপারের বড় দক্ষতা ছিল প্রোগ্রামিং ভাষা জানা এবং কোড লেখা। ভবিষ্যতের ডেভেলপারের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সিস্টেম আর্কিটেকচার, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটাবেজ, ক্লাউড, সমস্যা সমাধান, এআই টুল ব্যবহার, কোড যাচাই এবং মানুষের তত্ত্বাবধান। গিটহাবের গবেষণায়ও ডেভেলপাররা জানিয়েছেন, এআই ব্যবহারে সময় বাঁচিয়ে তারা সিস্টেম ডিজাইন, সহযোগিতামূলক কাজ এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝার মতো কাজে বেশি সময় দিতে পারছেন। স্ট্যাক ওভারফ্লোর জরিপে এআই ব্যবহারের হার যেমন বেড়েছে, তেমনি এআইয়ের ফলাফল যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতের ডেভেলপার হয়তো শুধু ‘কোড লেখক’ থাকবেন না। তিনি হয়ে উঠবেন এআই-সহায়িত সমস্যা সমাধানকারী—যিনি প্রয়োজন অনুযায়ী এআই দিয়ে কোড তৈরি করবেন, সেই কোডের ভুল ধরবেন, নিরাপত্তা যাচাই করবেন এবং পুরো সিস্টেমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবেন। তাহলে সংকট কোথায়? সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির সামনে কোনো সংকট নেই এমনটাও বলা যায় না। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে সেই কাজগুলোর ক্ষেত্রে, যেগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক, পূর্বানুমানযোগ্য এবং সহজে স্বয়ংক্রিয় করা যায়। একই সঙ্গে নতুনদের শিল্পে প্রবেশের পথও বদলে যেতে পারে। যে কাজগুলো দিয়ে একজন জুনিয়র ডেভেলপার আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন, সেগুলোর কিছু অংশ এআই করে ফেলতে পারলে এন্ট্রি-লেভেল ডেভেলপারকে শুরু থেকেই আরও বিস্তৃত দক্ষতা দেখাতে হতে পারে। তবে এর বিপরীতে এআই নতুন ধরনের কাজেরও সৃষ্টি করছে। এআই ইন্টিগ্রেশন, তথ্য বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, এআই-সহায়িত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সিস্টেম আর্কিটেকচার এবং এআইভিত্তিক পণ্যের মতো ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে এআইয়ের কারণে কর্মী কমানোর কথা ভাবছে, অন্যদিকে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতার কর্মী নিয়োগ এবং বিদ্যমান কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার পরিকল্পনাও করছে। শেষ পর্যন্ত এআই কী বদলাচ্ছে? সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে এআইয়ের প্রভাবকে শুধু ‘চাকরি যাবে’ কিংবা ‘চাকরি বাড়বে’ এই দুই ভাগে দেখলে বাস্তব পরিবর্তনের বড় অংশটি বাদ পড়ে যায়। বর্তমান তথ্য বরং বলছে, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের রুটিন কাজের একটি অংশ দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে, এআই-সহায়িত ডেভেলপমেন্টে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে ডেভেলপারদের কাজের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশ্লেষণেও জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রে পুরো চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কর্মসংস্থানের ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের পূর্বাভাসেও পেশাটির বিলুপ্তির কোনো চিত্র নেই; বরং ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার কর্মসংস্থান বর্তমানের মতো থাকবে না এটি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। একজন ডেভেলপারের মূল্য শুধু তিনি কত দ্রুত কোড লিখতে পারেন, তার ওপর নির্ভর না করে তিনি কত ভালোভাবে সমস্যা বুঝতে পারেন, এআইয়ের ফলাফল যাচাই করতে পারেন, সিস্টেম ডিজাইন করতে পারেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন এবং প্রযুক্তিকে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে পারেন তার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবে। অর্থাৎ, এআই সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিকে সরিয়ে দিচ্ছে এমন প্রমাণের চেয়ে এআই সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির *কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে* এমন প্রমাণই এখন বেশি দৃশ্যমান। প্রশ্ন তাই শুধু ‘এআই কতজনের চাকরি নেবে’ নয়। বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার জন্য আগামী দিনের কর্মী কতটা প্রস্তুত? আরটিভি/টিআর
406984
পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ, অতঃপর...
২০২৪ সালে বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীরে জীবন্ত বাইম মাছ প্রবেশের ঘটনা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাছটি তার পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকে অন্ত্রের দেয়াল ফুটো করে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ এ বিরল ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।
পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ, অতঃপর...
শত শত প্রজাতির ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমি
পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিগুলোর একটি চিলির আতাকামা।
শত শত প্রজাতির ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমি
বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লোমশ ম্যামথকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন এনে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী তৈরির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেস। তবে কবে নাগাদ এ ধরনের প্রাণীর জন্ম হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
আজ বিশ্ব হাসি দিবস
হাসি মানুষের যে কোনো অসুখের সবচেয়ে ভালো ওষুধ। মানবজীবনে হাসির গুরুত্ব অনেক। সময়কে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে হাসির কোনো বিকল্প নেই। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ব হাসি দিবস। প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়।চিকিৎসকদের ভাষায়, সারাদিনকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য সকালের ১ মিনিটের হাসিই যথেষ্ট। হাসি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ থেকেও দূরে রাখে। ১৯৬৩ সাল। ওরচেস্টার ম্যাসাচুসেটসের শিল্পী হার্ভে বল নিজের একটি হাসিখুশি মুখের ছবি দেন। কালক্রমে সেটাই সদিচ্ছা এবং আনন্দের প্রতীক হয়ে ওঠে। কিন্তু বাণিজ্য বড় দায়। হার্ভে দেখেন সেই হাসিখুশি মুখ এমন সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে যার ফলে ধীরে ধীরে ছবির আসল মানেটাই বদলে যাচ্ছে। উদ্বিগ্ন হার্ভে ভাবেন, এক কাজ করা যাক। হাসির জন্য একটা দিন রাখলে কেমন হয়। সেই দিনটা হাসিখুশিতে কাটানো এবং সহৃদয় আচরণের জন্য উৎসর্গ করা হবে। সেই শুরু। প্রথমবার বিশ্ব হাসি দিবস পালিত হয় ১৯৯৯ সালে, উরচেস্টারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সহৃদয়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর মুখ্য উদ্দেশ্য। তারপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটা পালিত হচ্ছে। ২০০১ সালে মারা যান হার্ভে। তার স্মৃতিতে তৈরি হয় ‘হার্ভে বল ওয়ার্ল্ড স্মাইল ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনই প্রতি বছর বিশ্ব হাসি দিবসের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করে চলেছে। হাসির জন্য একটি প্রতীকীও আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হলুদ একটি মুখের হাসু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় হাসি। হলুদ একটি মুখে কালো বিন্দুর দুটি চোখ, একটি চওড়া হাসি আপনার দিনটি ভালো করতে পারে। ১৯৭০ এর দশকে হাস্যোজ্জ্বল মুখ কার্টুন, কমিকস এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য ব্যবহৃত হত। আরটিভি/টিআর
আজ বিশ্ব হাসি দিবস
আরও পড়ুন
সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
সাংবাদিকদের জনআস্থা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির