ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাস । ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যের ‘স্বভাবকবি’ হিসেবে পরিচিত গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর তিনি মারা যান। প্রেম, বিরহ, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, মানবজীবন ও সামাজিক অবিচার ছিল তার কবিতার প্রধান বিষয়। সহজ-সরল ভাষায় তীব্র আবেগ ও গভীর অনুভূতি প্রকাশের কারণে বাংলা সাহিত্যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি তৎকালীন ঢাকা জেলার ভাওয়াল পরগণার জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রামনাথ দাস ও মা আনন্দময়ী দেবী। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কবি ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারান। ভাওয়াল রাজপরিবারের সহায়তায় তার পড়াশোনা শুরু হলেও তা বেশি দূর এগোয়নি। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা লেখার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়।

কৈশোরেই তার কবিপ্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। জয়দেবপুরের বিদ্যোৎসাহিনী সভা ও ভাওয়ালের প্রজাহিতৈষিণী সভায় তিনি নিজের লেখা কবিতা পাঠের সুযোগ পান। তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ভাওয়ালের রাজা কালীনারায়ণ রায় তার পড়াশোনার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করেছিলেন।

১৮৭৭ সালে গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়াল রাজকুমার রাজেন্দ্র নারায়ণের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে ভাওয়াল রাজপরিবারের শাসন ও দেওয়ান কালীপ্রসন্ন ঘোষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ তাকে বিপাকে ফেলে। একপর্যায়ে রাজবাড়ির চাকরি হারানোর পাশাপাশি নিজ এলাকা জয়দেবপুর ছাড়তেও বাধ্য হন। পরে তিনি মুক্তাগাছা, শেরপুর ও মুন্সীগঞ্জে বসবাস করেন।

জীবনের এই সংঘাত ও দুঃখ-কষ্ট তার কবিতায় গভীরভাবে ফুটে ওঠে। তার কবিতায় প্রেম ও বিরহের পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দেশপ্রেম এবং মানুষের জীবনসংগ্রামের কথাও উঠে এসেছে। এ কারণেই তার কবিতায় একদিকে যেমন আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে তীব্র প্রতিবাদী সুর।

মুন্সীগঞ্জে অবস্থানকালে তিনি মগের মুল্লুক নামে ব্যঙ্গাত্মক রচনা প্রকাশ করেন। এটি পরে বই আকারেও প্রকাশিত হয় এবং পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে মগের মুল্লুক, নির্বাসিতের আবেদন, ভাওয়াল, হেমাঙ্গিনী ঘোষ, জন্মভূমি, বাঙালী, আমার ভালোবাসা, রমণীর মন, সামান্য নারী ও দিন ফুরায়ে যায়রে আমার। তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে প্রেম ও ফুল, কুঙ্কুম, কস্তূরী, চন্দন, ফুলরেণু, বৈজয়ন্তী ও শোক ও সান্ত্বনা উল্লেখযোগ্য।

গোবিন্দচন্দ্র দাসের কবিতার একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সরল ভাষায় প্রকাশ করা। বিশেষ করে প্রেম ও বিরহের কবিতায় তার গভীর আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম স্ত্রী সারদাসুন্দরীর মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তার ব্যক্তিগত শোক ও জীবনসংগ্রামও পরবর্তী কবিতায় নানা ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

গোবিন্দচন্দ্র দাসের কবিতায় ব্যক্তিগত বেদনার পাশাপাশি সমাজের দুঃখ-দারিদ্র্যের চিত্রও উঠে এসেছে। ‘আমার চিতায় দিবে মঠ’ কবিতায় তিনি লিখেছেন—

“ও ভাই বঙ্গবাসী, আমি মর্লে,
তোমারা আমার চিতায় দিবে মঠ!”

দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও স্বদেশচ্যুত মানুষের যন্ত্রণা এই কবিতায় তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

তার কবিতায় যেমন প্রেম ও বিরহের আবেগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে স্বদেশ ও মানুষের প্রতি গভীর টান। ‘জন্মভূমি’ কবিতায় তিনি লিখেছেন—

“জননী গো জন্মভূমি তোমারি পবন
দিতেছে জীবন মোরে নিশ্বাসে নিশ্বাসে!”

জন্মভূমির মাটি, প্রকৃতি ও মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের প্রকাশ ঘটেছে এই কবিতায়। আবার ‘ভাওয়াল’ কবিতায় নিজের জন্মভূমির প্রতি গভীর টান প্রকাশ করে লিখেছেন—

“ভাওয়াল আমার অস্থিমজ্জা
ভাওয়াল আমার প্রাণ!”

তেমনি ‘মগের মুল্লুক’ কবিতায় দেখা যায় তীব্র ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদ। ‘দিন ফুরায়ে যায়রে আমার’ কবিতায় জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সময়, মৃত্যু ও অপূর্ণতার বেদনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী হয়ে উঠেছে।

গোবিন্দচন্দ্র দাসের সাহিত্যজীবন ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। দারিদ্র্য, পারিবারিক শোক, চাকরি হারানো ও নানা ধরনের নিপীড়নের মধ্যেও তিনি লেখা চালিয়ে গেছেন। জীবনের শেষভাগেও অসুস্থতা ও আর্থিক সংকট তাকে ঘিরে ছিল। একসময় বিষফোঁড়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস তাকে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।

রোগ, শোক ও দারিদ্র্যের মধ্যে ১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর ঢাকায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

বাংলা সাহিত্যে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয় শুধু স্বভাবকবি হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। তার কবিতায় উনিশ শতকের পূর্ববাংলার প্রকৃতি, মানুষের জীবন, প্রেম-বিরহ, দেশপ্রেম এবং সামাজিক বাস্তবতার যে ছবি উঠে এসেছে, তা তাকে বাংলা কবিতার ইতিহাসে স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে। আজ তার ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সেই কবির সাহিত্যকর্ম ও জীবনসংগ্রাম নতুন করে স্মরণ করা হচ্ছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 
সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ গরম কফি, কাজের ফাঁকে আড্ডা কিংবা বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে কফিতে চুমুক—অনেকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে এই পানীয়।
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে
অনেকেই নানান কারণে টিন সার্টিফিকেট করেছেন। কিন্তু তা আর কাজে আসছে না। তাই জেনে নিন যেভাবে অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট চাইলেই বাতিল করা যায়।
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ 
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস।
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ 
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প
সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে বিকেল, সময় বদলের সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। সকালের নরম আলোয় গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে পথের ওপর। ব্যস্ত পায়ে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় ক্লাসে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্পে মেতে ওঠে, কেউ আবার প্রিয়জন কিংবা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটায়।  প্যারিস রোড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার প্রলম্বিত এ রাস্তা। দৈর্ঘ্যে খুব বেশি না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের শত স্মৃতির সাক্ষী এই প্যারিস রোড। ভালোবাসা-বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না, একাকিত্ব-নিঃসঙ্গতায় যুগের পর যুগ ধরে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী রাস্তাটি।  সবুজের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াঘেরা পথ আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। দুই পাশে সারি সারি গাছ, প্রশস্ত পথ, নির্মল পরিবেশ আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় এই সড়ক। এখানে পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না, বরং তৈরি করে অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প। বিকেল নামতেই প্যারিস রোড যেন আরও প্রাণ ফিরে পায়। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, ছবি তোলা কিংবা নিছক হাঁটাহাঁটিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কেউ আসে মনের কথা বলতে, কেউ আসে দিনের ক্লান্তি দূর করতে। আবার কারও কাছে এই পথ একান্তই নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জায়গা। বর্ষার বৃষ্টিতে প্যারিস পায় নতুন আবহ। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে মেতে ওঠেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বৃষ্টির সৌন্দর্য। কখনো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে পথচারীদের ছোটাছুটি, আবার কখনো ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে চলা—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্যারিস রোড হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের অন্যতম ঠিকানা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় প্রতিদিন সরব থাকে প্যারিস রোড। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেকের কাছেই এটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা যেমন এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তেমনি শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি হয়ে ওঠে স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটি বিশেষ জায়গা। প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এর সবুজ আবহ। ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যও বদলে যায়। বর্ষায় ভেজা পাতার সবুজ, শরতে নির্মল আকাশ, শীতে কুয়াশার আবরণ কিংবা বসন্তে ফুলের রঙ—প্রতিটি ঋতুতেই প্যারিস রোড যেন নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়। ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি। প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা, ক্লাস শেষে দীর্ঘ আড্ডা, কোনো বিশেষ দিনের ছবি কিংবা নিছক বিকেলের হাঁটাহাঁটি, ছোট ছোট এসব মুহূর্তই সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠে মূল্যবান স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হয়ে গেলেও প্যারিস রোডের কথা তাই সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, প্যারিস রোডে হাঁটলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও একটু নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে কাটানো সময়গুলো পরে হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।  রাজশাহীর রাজপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, প্যারিস রোড শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি জায়গা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গাছপালা আর ভেজা রাস্তার দৃশ্যটা অসাধারণ লাগে। এখানে কিছু সময় কাটালে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।  দিন শেষে যখন ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে আসে, তখনও প্যারিস রোড তার নিজস্ব সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলো, পথের ওপর দীর্ঘ ছায়া আর নীরবতার মধ্যে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন মানুষ, সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ। এত বিশেষত্ব থাকলেও প্যারিস রোডের জন্মের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাদামাটা। ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের এই গগন শিরীষ গাছ লাগানো হয়। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। তিনি এ গাছগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী মোহাম্মাদ ইউনুসকে। তার হাত ধরেই লাগানো হয় গাছগুলো। তখন এটি ছিল নেহাৎ বৃক্ষরোপণের একটি উদ্যোগ। জনশ্রুতি আছে, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কিছু ছবি তুলে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। বন্ধু দেখে বিস্মিত হয়ে বলে এটি কোন দেশের ছবি। সেই শিক্ষার্থী তখন বলে দেয় এটা আমাদের ক্যাম্পাসের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্যারিস রোডের ছবিটিও। এরকম আরও অনেক গল্প রয়েছে।  এছাড়াও জনশ্রুতি আছে ১৯৮০-র দশকে ‘রোড টু সোয়াদ’ কিংবা ‘রোড টু প্যারিস’ নামের চলচ্চিত্রগুলোতে যে রাস্তা দেখানো হয়, সেসব রাস্তার সঙ্গে এই রাস্তাটির মিল থাকায় এর নাম হয় প্যারিস রোড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্যারিস শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু প্রত্যেকের গল্প আলাদা। কারও কাছে এটি বন্ধুত্বের স্মৃতি, কারও কাছে ভালো লাগার জায়গা, আবার কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলগুলোর ঠিকানা। সময় এগিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা আসে-যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু প্যারিস রোড থেকে যায় একইভাবে নতুন মানুষকে স্বাগত জানিয়ে, নতুন গল্পের অপেক্ষায়। হয়তো এ কারণেই রাবির প্যারিস রোড শুধু একটি পথ নয়; এটি এমন এক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন নতুন গল্প।  লেখক : ইসমাইল হোসেন সায়েম  শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আরটিভি/ এসকেডি
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প