
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
একদিন সেই হিসাবেরও ইতি টানতে হলো। চিরচেনা ক্যাম্পাস, গাহি সাম্যের গান মুক্তমঞ্চ, ট্রাম্প পোল, চক্রবাক কাফেটেরিয়া, চুরুলিয়া মঞ্চ কিংবা টং দোকানের ‘অমৃত’ চায়ের স্বাদ ফেলে ফিরতে হলো কর্মযুদ্ধে। আমার আগেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অগ্রজরা। নিয়মের ব্যত্যয় হবে না অনাগত দিনেও।
দেখতে দেখতে হাঁটি হাঁটি পা পা করে দেড় যুগ পেরিয়েছে আমাদের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগ। চড়াই-উতরাইয়ের এই পথচলায় জমা হওয়া টুকরো স্মৃতিগুলোকে একত্র করতে আমাদের এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। জানি না কতটুকু পারব। তবে চেষ্টা করতে দোষ কোথায়?
সেই চেষ্টা থেকে ‘প্রাণের মাঝে’ ফিরতে নানা আয়োজন। কার কী ভাবনা, চলুন তাদের মুখ থেকেই জেনে নেওয়া যাক....
২০১০ সালে এই বিভাগটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই যাত্রার স্মৃতি রোমন্থন করলেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী আমানুল ইসলাম। বললেন, বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিভাগটিতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন হচ্ছে, এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই।
একই ব্যাচের শিক্ষার্থী খালেদ ইবনে ইউসুফ উল্লাস বললেন, কখনও ভাবিনি, আবার সবার মাঝে ফিরতে পারব।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে ছোট করে ডাকা হবে প্যাগসা বলে। এটা ইংরেজিতে রূপান্তর করে বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে একই জায়গার সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বললেন, প্যাগসা মানেই শিকড়ের টান, ক্যাম্পাসের স্মৃতি বন্ধন এবং একসঙ্গে পথ চলার গল্প।
তিনি বলেন, বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ— আমাদের সেই দিনগুলো ছিল এক স্বপ্নিল অধ্যায়ের নাম। ক্যাম্পাসের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখা থেকে শুরু করে শেষ দিনের বিদায়ের মুহূর্ত— প্রতিটি স্মৃতি আজও মনকে ছুঁয়ে যায়। শিক্ষকদের স্নেহমাখা ক্লাস, বন্ধুদের কলরবে ভরা ক্যাম্পাস, রাত জেগে গ্রুপ স্টাডি, পরীক্ষার আগের রাতের তুমুল ব্যস্ততা— সবই ছিল এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ফুটবল আর ক্রিকেটের রোমাঞ্চ, বিভাগীয় ট্যুরে পাহাড়-সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যাওয়া, পিকনিকের সেই হইচই আর গান— সবই যেন আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
একই ব্যাচের শিক্ষার্থী সোলাইমান কবির বলেন, সংগঠন হোক সবার, অর্জনও হোক সবার।
তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী নিলয় মাহমুদ রুবেল সোজাসাপটা বলে দিলেন, তৈরি হলো একটি মালা।
এভাবেই জমে উঠল কথার খেলা। স্মৃতি থেকে গল্প ও সঙ্গে চায়ের আড্ডা হওয়া উচিত ছিল। সেজন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে সবাইকে। তার আগে, আরও কিছু মন্তব্য জেনে নেওয়া যাক।
তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিল আহমেদ বলেন, ১৬ বছরে অসংখ্য গল্প তৈরি হয়েছে, হচ্ছে।
পুরানো সেই দিনের কথা মনে পড়ছে ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম ব্যাচ থেকেও। সবাই আকুল প্রাণের মাঝে আসতে।
অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী রমজান বললেন, এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যেন শিক্ষা, গবেষণা, ক্যারিয়ার ভাবনা ও সৃজনশীলতার নবদ্বার উন্মোচিত করে।
সংগঠনের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন একই ব্যাচের সিফাতী জান্নাত মীম। তিনি বলেন, অ্যালামনাই যেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ধারণ করে চলে।
আরও অনেকের কথা রয়েছে। নতুন নতুন মুখ। আরও গল্প হবে সামনে। কিছুদিন পরই। অপেক্ষা ৬ নভেম্বরের জন্য। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে- লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
লেখক: প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
আরটিভি/এমএইচজে

