ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাণের মাঝে আয়

সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ান

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।

একদিন সেই হিসাবেরও ইতি টানতে হলো। চিরচেনা ক্যাম্পাস, গাহি সাম্যের গান মুক্তমঞ্চ, ট্রাম্প পোল, চক্রবাক কাফেটেরিয়া, চুরুলিয়া মঞ্চ কিংবা টং দোকানের ‘অমৃত’ চায়ের স্বাদ ফেলে ফিরতে হলো কর্মযুদ্ধে। আমার আগেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অগ্রজরা। নিয়মের ব্যত্যয় হবে না অনাগত দিনেও।

দেখতে দেখতে হাঁটি হাঁটি পা পা করে দেড় যুগ পেরিয়েছে আমাদের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগ। চড়াই-উতরাইয়ের এই পথচলায় জমা হওয়া টুকরো স্মৃতিগুলোকে একত্র করতে আমাদের এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। জানি না কতটুকু পারব। তবে চেষ্টা করতে দোষ কোথায়?

সেই চেষ্টা থেকে ‘প্রাণের মাঝে’ ফিরতে নানা আয়োজন। কার কী ভাবনা, চলুন তাদের মুখ থেকেই জেনে নেওয়া যাক....

২০১০ সালে এই বিভাগটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই যাত্রার স্মৃতি রোমন্থন করলেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী আমানুল ইসলাম। বললেন, বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিভাগটিতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন হচ্ছে, এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই।

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী খালেদ ইবনে ইউসুফ উল্লাস বললেন, কখনও ভাবিনি, আবার সবার মাঝে ফিরতে পারব।

অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে ছোট করে ডাকা হবে প্যাগসা বলে। এটা ইংরেজিতে রূপান্তর করে বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে একই জায়গার সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হাসান বললেন, প্যাগসা মানেই শিকড়ের টান, ক্যাম্পাসের স্মৃতি বন্ধন এবং একসঙ্গে পথ চলার গল্প।

তিনি বলেন, বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ— আমাদের সেই দিনগুলো ছিল এক স্বপ্নিল অধ্যায়ের নাম। ক্যাম্পাসের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখা থেকে শুরু করে শেষ দিনের বিদায়ের মুহূর্ত— প্রতিটি স্মৃতি আজও মনকে ছুঁয়ে যায়। শিক্ষকদের স্নেহমাখা ক্লাস, বন্ধুদের কলরবে ভরা ক্যাম্পাস, রাত জেগে গ্রুপ স্টাডি, পরীক্ষার আগের রাতের তুমুল ব্যস্ততা— সবই ছিল এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ফুটবল আর ক্রিকেটের রোমাঞ্চ, বিভাগীয় ট্যুরে পাহাড়-সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যাওয়া, পিকনিকের সেই হইচই আর গান— সবই যেন আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী সোলাইমান কবির বলেন, সংগঠন হোক সবার, অর্জনও হোক সবার।

তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী নিলয় মাহমুদ রুবেল সোজাসাপটা বলে দিলেন, তৈরি হলো একটি মালা।

এভাবেই জমে উঠল কথার খেলা। স্মৃতি থেকে গল্প ও সঙ্গে চায়ের আড্ডা হওয়া উচিত ছিল। সেজন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে সবাইকে। তার আগে, আরও কিছু মন্তব্য জেনে নেওয়া যাক।

তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিল আহমেদ বলেন, ১৬ বছরে অসংখ্য গল্প তৈরি হয়েছে, হচ্ছে।

পুরানো সেই দিনের কথা মনে পড়ছে ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম ব্যাচ থেকেও। সবাই আকুল প্রাণের মাঝে আসতে।

অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী রমজান বললেন, এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যেন শিক্ষা, গবেষণা, ক্যারিয়ার ভাবনা ও সৃজনশীলতার নবদ্বার উন্মোচিত করে।

সংগঠনের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানালেন একই ব্যাচের সিফাতী জান্নাত মীম। তিনি বলেন, অ্যালামনাই যেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ধারণ করে চলে।

আরও অনেকের কথা রয়েছে। নতুন নতুন মুখ। আরও গল্প হবে সামনে। কিছুদিন পরই। অপেক্ষা ৬ নভেম্বরের জন্য। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে- লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।

লেখক: প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
রোববার (১ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
হ্যালোইন উৎসব কি, জেনে নিন পালনের নিয়ম
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব। পশ্চিমা দেশগুলোতে এর উৎপত্তি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও উৎসবটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।  তাই এ বছরও ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হবে বছরের অন্যতম মজার উৎসব হ্যালোইন। তাই আসুন জেনে নেওয়া যাক হ্যালোইন আসলে কী? ভুতুড়ে এই উৎসবটির ইতিহাস প্রায় ২,০০০ সালের পুরনো। এটি মূলত মৃত আত্মাদের স্মরণ করতে পালন করা হয়। অনেকে এই দিনকে ভূতের মতো করে সাজার জন্য পালন করে থাকেন। হ্যালোইন মূলত সাধুদের শহিদ এবং যারা মারা গেছেন তাদেরসহ মৃতদের সম্মান জানানোর দিন। বিড়ালের কান এবং ভ্যাম্পায়ার ফ্যাং থেকে শুরু করে সবুজ মুখের পেইন্ট পর্যন্ত, লোকেরা ভুতুড়ে চেতনাকে আলিঙ্গন করতে সমস্ত ধরণের পোশাক পরে। প্রায় ২,০০০ বছর আগে বর্তমান ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডে বসবাস করতো ‘কেল্টিক জাতি’। নভেম্বরের প্রথম দিনটি তারা ‘সাহউইন’ হিসেবে পালন করতো।  তাদের ধারণা ছিল অক্টোবরের শেষ দিন সবচেয়ে খারাপ হবে। সে রাতে সকল প্রেতাত্মারা মানুষের ক্ষতি করবে। তাই কেল্টিক জাতির মানুষরা এই দিনে বিভিন্ন ধরনের ভূতের মুখোশ ও কাপড় পরতো। হ্যালোইন যেভাবে পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে উদযাপিত হয়। এগুলো বেশ মজাদার এবং ভুতুড়ে। এ দিন শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্করা একইভাবে পোশাক পরেন। আর “ট্রিক-অর-ট্রিটিং” শিশুদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। কারণ বাচ্চারা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ক্যান্ডি সংগ্রহ করে ঘরে ঘরে যায়।  বড়রা পার্টিতে যোগ দিতে ভুতুড়ে বাড়িতে যান বা হরর সিনেমা দেখেন। তবে কিছু জায়গার মানুষ আচার-অনুষ্ঠান বা সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৃতদের সম্মান করেন। আরটিভি/এসআর
হ্যালোইন উৎসব কি, জেনে নিন পালনের নিয়ম
আজ বিশ্বজুড়ে হ্যালোইন উৎসব, ভূতুড়ে সাজে মাতবেন কোটি মানুষ
ভূত, প্রেত, ডাইনি কিংবা ভ্যাম্পায়ারের সাজে সেজে ওঠার দিন আজ। কোথাও কুমড়ো কেটে তৈরি হচ্ছে ভুতুড়ে মুখ, কোথাও বাড়ির দরজায় ঝুলছে কৃত্রিম মাকড়সার জাল।
আজ বিশ্বজুড়ে হ্যালোইন উৎসব, ভূতুড়ে সাজে মাতবেন কোটি মানুষ
আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস
আজ ৩১ অক্টোবর, বিশ্ব সঞ্চয় দিবস। ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং মানুষকে নিয়মিত অর্থ জমানোর অভ্যাসে উৎসাহিত করতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।
আজ বিশ্ব সঞ্চয় দিবস