ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
কাল্পনিক ছবি

মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের। প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা ও তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর ২ নভেম্বর পালন করেন বিশেষ দিন ‘অল সোলস ডে’ বা প্রয়াত আত্মাদের স্মরণ দিবস।

দিনটি মূলত মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এ উপলক্ষে অনেকে সমাধিস্থলে গিয়ে কবর পরিষ্কার করেন, ফুল দেন এবং মোমবাতি জ্বালান। পাশাপাশি গির্জায় বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়।

রোমান ক্যাথলিক ও ইস্টার্ন অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের কাছে দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া অ্যাংলিকান ও কিছু প্রোটেস্ট্যান্ট গোষ্ঠীর মধ্যেও দিনটি পালনের রীতি প্রচলিত। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর যেসব আত্মা স্বর্গে প্রবেশের আগে শুদ্ধিলাভের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয় এ দিনে।

অল সোলস ডে পালনের ইতিহাসও বেশ প্রাচীন। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে মৃতদের জন্য প্রার্থনার উল্লেখ পাওয়া যায় বাইবেলের ‘টু ম্যাকাবিস’ গ্রন্থে। ষষ্ঠ শতক নাগাদ পশ্চিমা খ্রিস্টধর্মে মৃতদের আত্মার উদ্দেশে প্রার্থনার রীতি প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। পরে একাদশ শতকে ক্লুনির অ্যাবট সেন্ট ওডিলো ২ নভেম্বরকে প্রয়াতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার দিন হিসেবে পালনের নির্দেশ দেন। ধীরে ধীরে পশ্চিমা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এ রীতি।

দিনটি উপলক্ষে অনেক পরিবার বাড়িতেও প্রয়াত স্বজনদের ছবি সাজিয়ে রাখেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধব একত্র হয়ে স্মৃতিচারণ করেন। প্রিয়জনদের জীবনের নানা ঘটনা, পছন্দের বিষয় এবং একসঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্তগুলো ফিরে দেখেন।

প্রিয়জনরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাদের স্মৃতি ও ভালোবাসা যে অমলিন, সেই বার্তাই বহন করে ‘অল সোলস ডে’। প্রয়াতদের স্মরণ, তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং আত্মার শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
রোববার (১ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
আরও পড়ুন
আজ প্রিয়জনকে গোলাপ দেওয়ার দিন
প্রিয়জনদের খুশি রাখার সহজ উপায়