
সোমবার গভীর রাত থেকে যে গ্রহণের ছায়া পড়েছিল, মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটার আগেই তা পূর্ণ গ্রাস করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ততক্ষণে সবাই জেনে গেছেন, আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আইন লঙ্ঘনের অপরাধে সাকিবকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হচ্ছে। বাকি ছিল শুধু বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা। বিকেলের দিকে তাও হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। এর মধ্যে থাকছে এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। সাকিব নিজেও সংবাদ সম্মেলনে এসে তার ভুল স্বীকার করে নিয়েছে, আর এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এক বিষাদময় দিন পাড় করেছে।
সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়। বিশ্ব আসরেও একজন প্রথম সারির তারকা। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন। স্বাভাবিকভাবেই দেশে-বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে তিনি এই ভুলটা কিভাবে করলেন? কেন জুয়াড়িদের প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে (আকসু) জানালেন না? এর সুলুক সন্ধান করতে গিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাকিব এমনিতেই একটু অন্তরমুখী ধরনের মানুষ। প্রায় সবকিছুতেই ‘ড্যামকেয়ার’ ভঙ্গিতে চলেন। এই ঘটনাটিকেও তিনি ‘ড্যামকেয়ার’ করে গেছেন। যে কারণেই তাকে লঘু পাপে গুরুদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে।
এতো গেল পণ্ডিতদের ভাবনার কথা। কিন্তু যারা সাকিবকে ভালোবাসেন, সাকিবের খেলা দেখতে দিনের পর দিন নাওয়া-খাওয়া হারাম করে ফেলেন, তারা কিন্তু অতশত ভাবতে রাজি নন। তাদের একটাই কথা সাকিব ষড়যন্ত্রের শিকার। সাকিবকে মাঠে দেখতে চান তারা। তাদের এই আবেগ আইনের গ্যাড়াকলে অন্তঃসারশূন্য মনে হলেও একেবারে অমূলক নয়।
---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: বিসিবি সবকিছুই জানতো: সাবের হোসেন চৌধুরী
---------------------------------------------------------------
এরই মধ্যে বাংলাদেশে ক্রিকেট দল পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ভারতে গেছে। সেই দলে সাকিব নেই এটা কিছুতেই মানতে পারছে না তার ভক্তরা। কারণ এখনকার টিনেজাররা সাকিবের খেলা দেখেই বড় হয়েছে। তাই সাকিবের ওপর কোনো খড়গ নেমে এলে তারা যুক্তিকে পাশে রেখে একটু আবেগতাড়িত হবেন এটাই স্বাভাবিক।
শুধু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের একান্ত ভক্তরাই নয়, তার এই নিষেধাজ্ঞায় পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরাই মুষড়ে পড়েছেন। কারণ মাগুরায় জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেমন কালিমা পড়েছে, ঠিক তেমনি ভারত সফরে তার না থাকা বাংলাদেশের দলের জন্যও অপূরণীয় এক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তবে যা কিছুই হোক না কেন আগামী এক বছর দলের সেরা তারকাকে মাঠে দেখা যাবে না এটাই বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমাদের ক্রিকেট অগ্রসরগামী হবে সেটাই প্রত্যাশা টাইগার ভক্তদের।
তারপরও একটু কথা থেকে যায়। আইনের কাছে হয়তো আবেগের কোনও মূল্য নেই। কিন্তু লাখো টাইগার ভক্তদের কথা মনে রেখে আইসিসি কি পারে না সাকিবের শাস্তি আরেকটু কমিয়ে আনতে। সাকিব তো শুধু ক্রিকেট থেকে নেয়নি, ক্রিকেটকেওতো সাকিব কিছু না কিছু দিয়েছে।
(লেখক: গণমাধ্যম কর্মী)
জেবি/ওয়াই




