ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এইডস রোগে আক্রান্তের অর্ধেকই পুরুষ সমকামী, সংক্রমণের হার বেশি ঢাকায়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

এইচআইভি এইডস মরণব্যাধি রোগ। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক দেশে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মরণব্যাধি এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বাড়ছে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা।

দেশের সিরাজগঞ্জ ও বরিশালে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা। সিরাজগঞ্জে ৫ বছরে ২৫৫ রোগী শনাক্ত, মারা গেছে ২৬ জন। তবে এখনই ‘রেড জোন’ বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বরিশালেও ২০ জন এইচআইভি পজিটিভ। একই সিরিঞ্জে মাদক গ্রহণ, রোগের তথ্য গোপন, সচেতনতার অভাব ও অনিরাপদ যৌন সম্পর্ককে দায়ী করছেন চিকিৎসকেরা।

সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের তথ্য মতে, গত পাঁচ বছরে এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২৫৫ জন। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের ২২৬ জন, বাকিরা অন্য জেলার। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৬ রোগী।

এদিকে, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বরিশালেও গত এক বছরে ২০ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে ১১ জনই শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে এক বছরে নতুন রোগী বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। এসব রোগীর প্রায় অর্ধেকই পুরুষ সমকামী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছর সবচেয়ে বেশি এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা জেলায়। এ জেলায় নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৩৩৪ জন। এরপর কুমিল্লা জেলায় ১০৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রায় ১০০ জন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভাগ হিসাবে চলতি বছর রাজশাহী বিভাগে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে সিরাজগঞ্জ জেলায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সমকামীরা সমাজে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কে কার হাত ধরে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হচ্ছে, তা জানা না গেলেও তাদের মাধ্যমে যে সুস্থরা আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই ইঙ্গিত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম বলছে, দেশে ২০১৫ সালে পুরুষ সমকামীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১১ হাজার। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার হয়েছে। দেশে শনাক্ত হওয়া রোগীদের সর্বশেষ তথ্য উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাদেশে মোট শনাক্ত রোগীর প্রায় ৫০ শতাংশই পুরুষ সমকামী হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছে। আজ বিশ্ব এইডস দিবস। এ দিবস সামনে রেখে এইডস রোগীদের বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এমন স্পর্শকাতর তথ্য।

পুরুষ সমকামী কেন বাড়ছে, এর ব্যাখ্যা তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের ম্যানেজার (ডেটা অ্যান্ড আইটি) মো. আলাউদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়া, সমাজে রোগটির ভীতি, অপবাদ কমা এবং সরকারি-বেসরকারিভাবে এইডস প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কর্মসূচি বাড়ছে। দিন শেষে টেস্ট ও স্ক্রিনিং বাড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যার মধ্যে সমকামী পুরুষ শনাক্ত বেশি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (টিবিএল অ্যান্ড এএসপি) তথ্যে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন আনুমানিক ২ হাজার জন। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৩৮ জন। এ সময়ে এইডসে মারা গেছেন ২০০ জন, যা আগের বছরের ১৯৫ জনের চেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সমকামী পুরুষের আচরণ ঝুঁকিপূর্ণ। তারা সমাজের নীরব ঘাতক। রোগটি অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

এইডস রোগীদের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে আরও জানানো হয়, বিভাগ ও জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। রাজধানীর ঘনবসতি, অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এবং উচ্চঝুঁকির জনগোষ্ঠীর একাংশের নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় না আসাকে বিশেষজ্ঞরা রোগ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসাবে দেখছেন। এমন বাস্তবতায় আজ ১ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস ২০২৫। জাতিসংঘের ইউএন এইডস ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য হলো-‘সব বাধা দূর করি, এইডসমুক্ত সমাজ গড়ি’।

তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার ৩৫ বছর পর এবারই এক বছরে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী এসডিজির এইচআইভিবিষয়ক ৩.৩-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্য অর্জন করার শর্ত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৯৫ শতাংশ সম্ভাব্য এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার কথা। ৯৫ শতাংশ সংক্রমিত ব্যক্তিকে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং ৯৫ শতাংশ চিকিৎসা গ্রহণকারীর ভাইরাল লোড নিয়ন্ত্রিত রাখার কথা। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অনেকটা উলটো।

দেশে শনাক্ত মোট এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৬৩ জনের মধ্যে ২ হাজার ২৮১ জন মারা গেছেন। চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮ হাজার ৩০৯ জন রোগী।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এইচআইভি সন্দেহে ২ হাজার ৪৮৬ জনের পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮৪ জনের এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৪১, নারী ৩৮, হিজড়া ৪ জন এবং সমকামী পুরুষ ৭১ জন ছিলেন।

আরও পড়ুন

হাসপাতালের তথ্য বলছে, সংক্রমিতদের মধ্যে ১০৭ জন বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। মা-বাবার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন ১০ জন। প্রবাস থেকে সংক্রমণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন ৪২ জন। একই সময়ে হাসপাতালে এইডস সম্পর্কিত জটিলতায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়; তাদের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই মারা যান। পরবর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ২ হাজার ১৯২ জনের পরীক্ষা করা হয়। এ সময়ে ২৭৩ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে পুরুষ ২১৫, নারী ৫৭ এবং হিজড়া ১ জন।

ওই হাসপাতালের তথ্যে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমিতদের মধ্যে পুরুষ সমকামী ৭৮ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৩৯ জন এবং সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি রোগী হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন ১৩৮ জন। একই সময়ে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন রোগী।

চিকিৎসকরা জানান, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সম্প্রতি যেসব নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ বয়সে তরুণ। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছর। পাশাপাশি বিদেশফেরত শ্রমিক এবং পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে যুক্ত কিছু ব্যক্তি শনাক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরিফুল বাশার। তিনি বলেন, এইচআইভি রোগীরা নিয়মিত বিনামূল্যে ওষুধ পেলেও জটিল রোগীদের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এমআরআই, বায়োপসি, সিডি-৪ কাউন্টের মতো পরীক্ষার সুবিধা এখানে নেই। ফলে রোগীদের এসব পরীক্ষা বাইরের প্রতিষ্ঠানে করাতে হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফাঙ্গাল ও প্যারাসাইটিক সংক্রমণ দেখা গেলেও সেগুলো নির্ণয়ের উন্নত ব্যবস্থা নেই। নেই ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থাও। জনবল সংকটের কারণে জটিল রোগীর লাইফ সাপোর্ট প্রদানেও সমস্যা হয়। পাশাপাশি উন্নতমানের অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহও সীমিত।

হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. এআরএম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোগীচিত্র বদলাচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে প্রবাসফেরত পুরুষ শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের পরিবর্তন বা সচেতনতার অভাবই তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। হাসপাতালের তথ্যমতে, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রায় অর্ধেকই বিদেশফেরত শ্রমিক। উল্লেখযোগ্য অংশ আবার ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ।

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বাস্থ্য সচিব ও মহাপরিচালককে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফরকে দুই মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী মো. সাইদুর রহমানকে তার অবসরোত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। একই আইনের সম ধরায় দুই মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরও। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অধ্যাপক ডা. মো. শাদরুল আলমকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে তিনি সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশনের (সিএমই) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের উপসচিব দূর-রে শাহ্ওয়াজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। আরটিভি/কেএইচ
স্বাস্থ্য সচিব ও মহাপরিচালককে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
রোগ তালিকার শীর্ষে উচ্চ রক্তচাপ 
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’–এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে দেশের সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।  মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিএমএ ভবনে “উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এই আহবান জানানো হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।  কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে অসংক্রামক রোগ মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও, এই খাতে বাজেট বরাদ্দ খুবই সামান্য।  বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের মোট অর্থায়নের মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম ব্যয় হয় অসংক্রামক রোগ সংক্রান্ত বাজেটে। এই সীমিত বরাদ্দ কার্যকরভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে, বরাদ্দকৃত অর্থও যথাযথভাবে ব্যবহার হয় না বলে জানানো হয় কর্মশালায়। বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান নিশ্চিত করা গেলে দেশে উচ্চ রক্তচাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে  কমবে। একইসঙ্গে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ও হ্রাস পাবে। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানানো হয় কর্মশালায়। কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট-এর ডা. গীতা রানী দেবী বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে আমরা সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারবো।” এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) মো. রিয়াদ আরেফিন বলেন, “উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ উত্পাদন ও সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান একটি অগ্রাধিকার। আশা করি দ্রুতই আমরা সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবো।” কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল টুয়েন্টিফোর-এর হেড অব নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স জহিরুল আলম; জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। আরটিভি/কেএইচ
রোগ তালিকার শীর্ষে উচ্চ রক্তচাপ 
কিডনি ডায়ালাইসিস যে কারণে দরকার হয়
কিডনি বিকল হওয়ার সর্বশেষ ধাপ বা এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি। যখন একজন মানুষের কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ হারিয়ে ফেলে, তখন শরীর থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল বের করে দেওয়ার জন্য কৃত্রিম এই উপায়ের প্রয়োজন হয়। মূলত রক্ত থেকে বিষাক্ত ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন এবং বাড়তি লবণ সরিয়ে রক্ত পরিষ্কার রাখাই এর মূল কাজ। কিডনি যখন এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখন রক্তে বিষাক্ত পদার্থ জমে শরীর ফুলে যাওয়া, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী দুর্বলতার মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে হৃৎস্পন্দনে সমস্যা তৈরি হলে ডায়ালাইসিস ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়ালাইসিস প্রধানত দুইভাবে সম্পন্ন করা হয়। হেমোডায়ালাইসিস এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। হেমোডায়ালাইসিসে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে শরীরের বাইরের রক্ত পরিষ্কার করা হয়, যার জন্য সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার হাসপাতালে যেতে হয় এবং প্রতিবার প্রায় ৪ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়। আরও পড়ুন আয়রন ঘাটতি: সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে ভিন্নমত বিজ্ঞানীদের অন্যদিকে, পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস পেটের ভেতরের প্রাকৃতিক পর্দা ব্যবহার করে করা হয়, যা রোগী চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিজ বাসাতেই সম্পন্ন করতে পারেন। তবে ডায়ালাইসিস শুরু করার আগে রোগীর শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক ও পারিবারিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাতে ‘এভি ফিস্টুলা’ বা ক্যাথেটার তৈরির ছোট অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার মানসিক ধকল সামলাতে পরিবারের সক্রিয় সমর্থন প্রয়োজন। ডায়ালাইসিস একটি চলমান ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ থাকতে ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ সেবন, পরিমিত ঘুম এবং হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। শুরুতে কিছুটা দুর্বলতা বা বমি ভাব থাকলেও সময়ের সাথে শরীর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে ডায়ালাইসিস শুরু করলে এবং খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখলে একজন কিডনি রোগী দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। আরটিভি/এএইচ
কিডনি ডায়ালাইসিস যে কারণে দরকার হয়
ডেঙ্গুতে আজও দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৪
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ থামছেই না। সারাদেশে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুইজন মারা গেছেন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৪ জন ডেঙ্গুরোগী। রোববার (২১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আরও পড়ুন শিশুর সর্দি-কাশি নিউমোনিয়া নয় তো ২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ এক হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। আরটিভি/এমএ
ডেঙ্গুতে আজও দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৪
ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৪০
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪০ জন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৯০ জন এবং বাকিরা ঢাকা সিটির বাইরের। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৭৭২ জন। মারা গেছেন ৪১০ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সব জায়গায় প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। আরটিভি/আরএ
ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৪০
আরও পড়ুন
এইডস চিকিৎসায় আশার আলো
আফ্রিকার তিন দেশে এইচআইভি প্রতিরোধে টিকাদান শুরু
আজ বিশ্ব এইডস দিবস
বিশ্বে প্রথম কার্যকর এইডস টিকা তৈরি করছে রাশিয়া