
খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিলাপি, মিষ্টি, বেকারি পণ্য, চানাচুর ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবার আকর্ষণীয় করতে অসাধু ব্যবসায়ীদের একাংশ এসব রাসায়নিক ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খাদ্যে ভেজাল রোধে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে অনিয়ম শনাক্ত করছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
কাপড়ে ব্যবহারের জন্য তৈরি রঙে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু থাকতে পারে। এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে লিভার ও কিডনির ক্ষতিসহ নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। কিছু রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, হাইড্রোজ বা সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট একটি ব্লিচিং এজেন্ট, যা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। খাদ্যে অনুপযুক্তভাবে এটি ব্যবহার করলে ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। রাসায়নিকটির মাত্রা ও সংস্পর্শের ধরন অনুযায়ী শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
খাদ্যে ভেজাল ও নিষিদ্ধ রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ভোক্তাদের অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙের খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল বা নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


