ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে মিশছে বিষাক্ত সিসা: গবেষণা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে মিশতে পারে মানবদেহের জন্য বিষাক্ত ধাতু সিসা। বিশেষ করে নতুন পাত্র প্রথম কয়েকবার ব্যবহারের সময় খাবারে সিসার পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

সিসা একটি মারাত্মক বিষাক্ত ধাতু, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। গবেষকেরা এই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নিরাপদ রান্নার পাত্র উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং পরিবার পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তাগিদ দিয়েছেন।

গবেষণাটি সম্প্রতি নেচার পাবলিশিং গ্রুপের ‘জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে খাবারে কী পরিমাণে সিসা মিশছে, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি খাবারের অম্লতা (অ্যাসিডিটি), পাত্র মাজার ধরণ ও রান্নার পদ্ধতির প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকেরা দেশীয় বিভিন্ন পরিবার থেকে ব্যবহৃত ৭টি পুরোনো এবং বাজার থেকে কেনা ২০টি নতুন পাত্র নিয়ে পরীক্ষা চালান। প্রথমে পাত্রগুলোর ধাতুতে সিসার মাত্রা যাচাই করা হয়। এরপর সেগুলোতে সাদা ভাত ও খিচুড়ি রান্না করে বিশেষ পরীক্ষাগারে খাদ্য ও পানিতে সিসার পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান অ্যান্ড প্ল্যানেটারি হেলথের ‘প্রজেক্ট আনলেডেড’-এর পরিচালক ড. জেনা ফরসিথ বলেন, আমরা রান্নার পাত্র এবং তাতে রান্না করা খাবার—উভয় ক্ষেত্রেই সিসার মাত্রা পরীক্ষা করেছি। এর মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত একটি সাধারণ পাত্র কীভাবে মানুষের শরীরে সিসা প্রবেশের কারণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা প্রতিটি পাত্র থেকেই খাবারে সিসা নির্গত হয়েছে—তা পাত্রটি নতুন হোক বা পুরোনো। নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্নার সময় প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে সর্বোচ্চ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সিসা শনাক্ত হয়েছে। অথচ শিশু ও ছোট বাচ্চাদের খাবারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নির্ধারিত নিরাপদ সীমা হলো প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ মাইক্রোগ্রাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বারবার ব্যবহারে খাবারে সিসার মাত্রা কিছুটা কমলেও তা কখনোই নিরাপদ মাত্রার নিচে নামে না। এমনকি পূর্বব্যবহৃত সাতটি পাত্রের মধ্যে ছয়টিতে রান্না করা ভাতেও সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া রান্নার পাত্র কীভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে, তার ওপরও সিসা মিশে যাওয়ার মাত্রা নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে, না ঘষে ব্যবহারের তুলনায় খাবারে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা মেশে। আবার রান্নার সময় ধাতব খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করলেও সিসা নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন যে পরিমাণ ভাত খায়, তা বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, এ ধরনের পাত্রে রান্না করা খাবার খেলে একটি শিশু এফডিএ নির্ধারিত দৈনিক সহনীয় সীমার চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি সিসা গ্রহণ করতে পারে।

আইসিডিডিআর,বি-র এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ-এর সহকারী বিজ্ঞানী ড. জেসমিন সুলতানা বলেন, পরিবারগুলো অনেক যত্ন নিয়ে প্রতিদিন ভাত ও খিচুড়ি রান্না করে। সেই খাবারে রান্নার পাত্র থেকেই সিসা মিশছে কি না, তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা করতে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ছোট শিশুদের খাবার তৈরির ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে পরীক্ষিত পাত্র ব্যবহার করা দরকার। তবে স্থানীয় অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ব্যবহার করতে হলে তারের মাজুনি দিয়ে ঘষা পরিহার করা এবং টক বা অম্লীয় খাবার রান্না না করাই ভালো। অবশ্য মনে রাখতে হবে, এসব সতর্কতা পাত্রটিকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত করে না।

ড. জেনা ফরসিথ এ বিষয়ে আরও বলেন, সিসা চোখে দেখা যায় না, এর কোনো গন্ধ বা স্বাদও নেই। তাই বাইরে থেকে দেখতে সম্পূর্ণ ভালো ও চকচকে পাত্র থেকেও খাবারে সিসা মিশতে পারে। বাহ্যিক রূপ দেখে সাধারণ পরিবারের পক্ষে কোনটি নিরাপদ পাত্র, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।

বাংলাদেশে পুরোনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র বদলে নতুন পাত্র নেওয়া কিংবা পুরোনো কাপড়ের বিনিময়ে হাঁড়ি-পাতিল নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। গবেষণাটিতে সরাসরি এই বিনিময়প্রথা নিয়ে কাজ না হলেও ফলাফল বলছে, পাত্রটি নতুন বা চকচকে হলেই তা নিরাপদ ভাবার অবকাশ নেই। মূলত দেশে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক পাত্র পুরোনো স্ক্র্যাপ বা ভাঙারি ধাতু গলিয়ে তৈরি করা হয়। এসব কাঁচামাল মানসম্মতভাবে পরীক্ষা না করায় চূড়ান্ত পাত্রে সিসা থেকে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, রক্তে সিসার এমন কোনো সহনীয় মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা চলে। সিসার সংস্পর্শ শিশুদের আচরণ ও শেখার ক্ষমতার ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে।

গবেষকদের অভিমত, এ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানোর দায় কেবল সাধারণ পরিবারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে সিসা দূষণের নানা উৎসের মধ্যে অতীতে হলুদে সিসা মেশানোর প্রমাণ মিলেছিল। এখন রান্নার পাত্র থেকেও মানুষ সিসার শিকার হতে পারে, ফলে এটিকেও জাতীয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-কে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, রান্নার নিরাপদ পাত্র নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মান ও নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা, স্ক্র্যাপ ধাতু পরীক্ষা এবং উৎপাদিত পাত্র থেকে রাসায়নিক নিঃসরণ হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উৎপাদকদের নিরাপদ কাঁচামাল সরবরাহ ও মান পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

আইসিডিডিআর,বি-র প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা বিএফএসএকে রান্নার পাত্র থেকে খাবারে সিসা স্থানান্তরের বিষয়ে স্পষ্ট নিরাপত্তা মান নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিএসটিআই-এর প্রতি রান্নার পাত্রে সিসা-সংক্রান্ত মানদণ্ড প্রণয়ন ও তা কার্যকরের অনুরোধ করছি। সাশ্রয়ী দামের পাত্র মানেই তা অনিরাপদ হবে; এমনটি হওয়া উচিত নয়। সঠিক তদারকি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে এই প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, এটি পরীক্ষাগারে পরিচালিত একটি সীমিত পরিসরের গবেষণা। এতে শিশুদের শরীরে সিসা প্রবেশের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা শিশুদের সরাসরি শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নয়, বরং খাদ্য গ্রহণের একটি গাণিতিক মডেলের ভিত্তিতে প্রাক্কলন করা হয়েছে। তাই বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ও রান্নার দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

গবেষণাটি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কিং সেন্টার অন গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট’-এর সহায়তায় পরিচালিত হয়েছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালুর জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে এ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের কারণে তাঁর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মরহুম প্রধানমন্ত্রীর সেই অসমাপ্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ হার্ট সার্জারি কার্যক্রম চালু করবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামে কলেজটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ  সুরাইয়া জেরিন রনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই ডায়ালাইসিস সেবার সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া নেফ্রোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে একটি মাল্টি-হেড মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা আরো ২০টি বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, বগুড়া পুরো উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।  এ কারণে এখানে ক্যানসার ও লিভারসহ জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি  বলেন, দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫টি হাসপাতালে এই সেবা চালু হয়েছে। বগুড়াসহ যেসব হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই, সেগুলোকেও পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদের বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।  আরটিভি/এসআর  
শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট সার্জারি চালু করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭২ জনে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৬ জন। সবচেয়ে বেশি ৫২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে একই সময়ে হাম ও উপসর্গে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন আরও দুইজন। ফলে এক দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ১ হাজার ১৫৩ জন রোগী। আরটিভি/টিআর
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫২
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ৪৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।  একই সময়ে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৬ জন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন। বুলেটিনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৯৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৪ জনে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন। আরটিভি/টিআর
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫২
বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে গর্ভকালীন জটিলতা, ঝুঁকিতে মা-শিশু
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তীব্র তাপপ্রবাহ।
বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে গর্ভকালীন জটিলতা, ঝুঁকিতে মা-শিশু
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে তিন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু
চট্টগ্রামে গত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নারী–শিশুসহ তিনজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে তিন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু