
পাকিস্তানে জঙ্গিদের হাতে জিম্মি হওয়া নিরাপত্তা বাহিনী একটি কার্যালয় পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৩৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ।
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিরা প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু জেলায় ওই কার্যালয়টি দখল করে নেয়। ওই সময় কার্যালয়ের ভিতরে ছিলেন নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, সব জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ বাহিনীর দুই সদস্য নিহত এবং ১০ থেকে ১৫ জন সামরিক সদস্য আহত হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বিবৃতি অনুযায়ী, এ হামলার পিছনে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি ছিল বলে নিশ্চিত করেছে।
গত মাসে সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ করার পর হামলা জোরদার করেছে গোষ্ঠীটি। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক বছর ধরে সংঘর্ষ চলছে।
২০০৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে তারা এবং ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের দমন করা হয়েছিল। এটি আফগান তালেবানদের থেকে আলাদা। যদিও আফগানরা ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছে এবং গত বছর দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
জিম্মিদশার ঘটনাটি দুই দেশের সীমান্তের নিকটবর্তী একটি অঞ্চলে ঘটে।
এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ সংসদকে বলেন, ৩৩ জন জঙ্গির বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং তাদের ওই সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এক জঙ্গি একজন নিরাপত্তারক্ষীর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে এবং তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর জিম্মি সংকট তৈরি হয়।
জঙ্গিরা জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে নিরাপদ প্রস্থানের অনুরোধ জানিয়েছিল বলে জানা গেছে। আলোচনা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় অচলাবস্থা দেখা দেয়।
সেনা কমান্ডোরা স্থানীয় সময় সাড়ে ১২টায় পুলিশ স্টেশন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অভিযান চালায়।
এ সময় বিস্ফোরণ ও ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আসিফ সংসদে বলেন, সব সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং সব জিম্মি মুক্তি পেয়েছে। তিনি প্রাণঘাতী ঘটনার জন্য প্রাদেশিক খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারকে দায়ী করেন।
মঙ্গলবার আশপাশের স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তা বন্ধ ছিল। সেখানে পুলিশ চেকপোস্ট রয়েছে।
পাকিস্তানে মারাত্মক হামলার ঢেউয়ের মধ্যে এ ঘটনাটি ঘটল। এরমধ্যে অনেকগুলো হামলা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চলানো হয়।
রোববার বান্নুর অন্যত্র পৃথক হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি




