ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

তাজমহল তুমি কার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:২৪ পিএম

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ভিনয় কাটিয়ার তাজমহলের নাম বদলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, একজন হিন্দু শাসক তাজমহল তৈরি করেছেন। অনেক ডানপন্থী গোষ্ঠীও তার এই দাবি সমর্থন করছে। এই দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। বরং ইতিহাসবিদদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, এমনকি ভারত সরকারও মনে করে যে এই সৌধ ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের এক চমৎকার নিদর্শন।
তাজমহল কে তৈরি করেছে?
ভারতের সরকারিভাবে সংরক্ষিত ইতিহাস অনুযায়ী, মোগল সম্রাট শাহজাহান তাজমহল তৈরি করেন তার মৃত স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মরণে।
ভারতের মোগল শাসকরা এসেছিল মধ্য এশিয়া থেকে। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে তারা ভারত শাসন করে। মোগল শাসনামলে দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। পুরো ভারতবর্ষজুড়ে ইসলামী শিল্পকলা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটে।
শিল্পকলা ও স্থাপত্যের ব্যাপারে মোগলদের যে অনুরাগ, তার সবচেয়ে বড় নিদর্শন বলে গণ্য করা হয় তাজমহলকে। ভারতের প্রত্নতত্ত্ব জরিপ বিভাগ তাজমহলকে বর্ণনা করেছে ‘মোগল স্থাপত্যকলার চূড়ান্ত নিদর্শন’ হিসেবে।
তাজমহল নিয়ে ভারত সরকারের যে ওয়েবসাইট আছে, তাতে বলা হয়েছে যে ইসলামী স্থাপত্যকলার সঙ্গে ভারতের স্থানীয় স্থাপত্যকলার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা সেসময়ের স্থাপত্য রীতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহারণ এটি।
এতে আরো বলা হয়েছে, মোগলরা যখন তাজমহলের নির্মাণ কাজ শেষ করে, তখনো তারা তাদের পারস্য ও তুর্কী-মোঙ্গল শেকড় নিয়ে গর্ব অনুভব করে। কিন্তু ততদিনে তারা একইসঙ্গে নিজেদের ভারতীয় বলেও ভাবতে শুরু করেছে।
ইতিহাসবিদ রানা সাফভি বলেন, তাজমহলের ইতিহাস নতুন করে লেখার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। সেখানে যে কখনো কোনো মন্দির ছিল তার কোনো প্রমাণ নেই। তাজমহল তৈরি হওয়ার আগে সেখানে হিন্দু শাসক জয় সিংয়ের একটি ‘হাভেলি’(প্রাসাদোপম বাড়ি) ছিল।
তিনি বলেন, শাহজাহান এই হিন্দু শাসক জয় সিংয়ের কাছ থেকে হাভেলিটি কিনে নেন। এ নিয়ে একটি ‘ফরমান’ জারি করা হয়েছিল। সেটা এখনো আছে। এই ফরমানে দেখা যায় যে মোগলরা তাদের বিভিন্ন চুক্তি ও ইতিহাস রক্ষায় বেশ সচেতন ছিল।
এই ইতিহাসবিদ বলেন, ডব্লিউ ই বেগলি ও জেড এ ডেসাহাসের লেখা একটি বইতে এসব দলিল সংকলন করা আছে। এই বই পড়ে আমি উপলব্ধি করি যে এসব ভবন ও সৌধের ইতিহাস কত ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এই বই পড়েই আমি যুক্তি দিতে পারি যে তাজমহল তৈরি হয়েছে রাজা জয় সিংয়ের বাড়ির জমির ওপর এবং সেখানে কোনো ধর্মীয় ভবন থাকার কোনো উল্লেখ কোথাও নেই বলে দাবি করেন তিনি।
আরেকজন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ হারবনস মুখিয়া বলেন, শাহজাহান যে তার স্ত্রীর স্মরণে তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। ভারতের পাঠ্যবই এবং বিভিন্ন সরকারি সাইটেও তাজমহলকে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মন্দির তত্ত্ব:
তাজমহলের ইতিহাস নতুন করে লেখার দাবি ভিনয় কাটিয়ারই যে প্রথম জানিয়েছেন তা নয়। এর আগে ডানপন্থী ইতিহাসবিদ পিএন ওক ১৯৮৯ সালে প্রকাশ করা ‘তাজমহল: দ্য ট্রু স্টোরি’ বইতে এই সৌধকে ‘তেজো মহল’ বলে দাবি করেন।
বইতে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে এটি ছিল আদতে একটি হিন্দু মন্দির এবং একজন রাজপুত শাসক এটি তৈরি করেন। সম্রাট শাহজাহান এটি দখল করে সেটিকে পরে তাজমহল নাম দিয়েছেন।
ওকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা লেখক সচ্চিনানন্দ শেভডে বলেন, সরকারের উচিত ‘প্রকৃত সত্য’ উন্মোচনের জন্য একটি দল নিয়োগ করা। তাজমহল কোনো মুসলিম স্থাপত্য নয়। এটি আসলে একটি হিন্দু স্থাপত্য।
স্থাপত্য রীতি:
মিস্টার কাটিয়ার ও মিস্টার শেভডে উভয়েই যুক্তি দিয়েছেন যে তাজমহলের স্থাপত্যে অনেক হিন্দু স্থাপত্যের ছাপ রয়েছে।
তাদের মতে, তাজমহলের শীর্ষে একটি অর্ধাকৃতি চাঁদ আছে। ইসলামিক স্থাপত্যে এই চাঁদটি সাধারণত বাঁকা থাকে। কিন্তু তাজমহলের চাঁদ বাঁকা নয়। এই চাঁদ আসলে হিন্দু দেবতা শিবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া এই সৌধ চূড়ায় একটি কলসও আছে। সেখানে আমের পাতা ও উল্টে রাখা নারকেলও আছে। এগুলো হিন্দু প্রতীক। ইসলামী সংস্কৃতিতে ফুল, পশুর প্রতিকৃতি নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও তাজমহলে এসব ব্যবহার করা হয়েছে।
মুখিয়া এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, স্থাপত্য রীতি সব সময় বদলায় এবং সেখানে বহু সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে। মোগল স্থাপত্যকলাও এর ব্যতিক্রম নয়। কলস হিন্দু স্থাপত্যরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু অনেক মোগল স্থাপত্যেও এটি দেখা যায়, তাজমহলেও। মোগলদের তৈরি আরো অনেক স্থাপত্যে কলস ও পাতা দেখা যাবে।
এখন কেন এই বিতর্ক:
বহু যুগ ধরে ভারতের পর্যটন বিভাগ সেদেশে পর্যটক টেনে আনার জন্য তাজমহলকে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে তুলে ধরছে। শাহজাহান ও মমতাজ মহলের প্রেম নিয়ে অনেক কবি-লেখক রচনা করেছেন অনেক কাহিনী।
ভারতে যখন হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটছে, তখন ভিনয় কার্টিয়ার এরকম একটা বিতর্কিত দাবি তুলেছেন। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটির রাজনীতিকরা ‘হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ব’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের বিতর্কিত দাবি একইসঙ্গে রাজনীতিকদের একটা সুযোগ করে দেয় কর্মসংস্থান বা অর্থনীতির অবস্থার মতো বাস্তব ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে।
সরকার এখনো তাজমহল বিষয়ক এই দাবিকে সমর্থন করেনি। কিন্তু ডানপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলো এ নিয়ে সরব। এরকম একটি গোষ্ঠী এমন দাবি তুলেছে যে, তাজমহলে হিন্দুদের পুজা করতে দিতে হবে।
শুক্রবার রাতে বিবিসিতে প্রকাশিত খবরে এসব কথা বলা হয়েছে।
কে/এ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আফগানিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ১৫
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় জালালাবাদ শহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো ১৪ জন। খবর রয়টার্স।  আফগান সরকারের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রোববার ওই এলাকার সাবেক সিটি গভর্নরের জানাজার সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখনো কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। স্থানীয় প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র আহমদ জিয়া আবদুজজাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নানগারহর প্রদেশের গভর্নরের আরেক মুখপাত্র নুর আহমদ হাবিবি জানান, রোববার প্রদেশের এক জেলার সাবেক চেয়ারম্যানের জানাজায় এ হামলা চালানো হয়। তাৎক্ষণিক কেউ এ হামলায় দায়-দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবান ও আইএসের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় তোলো নিউজ চ্যানেল এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রথমে হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে। পরবর্তীতে এ সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গেলো বৃহস্পতিবার রাজধানী কাবুলে শিয়া সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ও সংবাদ সংস্থার কার্যালয়ে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হন। পরে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করে। ভয়াবহ ওই হামলার শোক কাটিয়ে না উঠতেই ফের হামলা চালালো সন্ত্রাসীরা। এপি/এসএস
আফগানিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ১৫
স্ত্রী-সন্তানের পর চলে গেলেন নিজেও
বউ এবং দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ইতালি প্রবাসী কামরুল ইসলাম নিলয়। মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই ছেলের পর নিজেও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনার পর নিলয় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় মারা যান। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই ঘটনাস্থলে নিহত হন নিলয়ের স্ত্রী তানিয়া হোসেন(৩০) এবং তাদের ছেলে ইউসা হোসাইন(৮) ও আযান হোসেন(৩)। তারা ওমরাহ করতে ইতালি থেকে গত শনিবার সৌদি আরবে গিয়েছিলেন বলে জেদ্দা কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, নিলয়ের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ায়। নিহতদের মরদেহ মক্কার আল-হেরা ও আল-নূর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মক্কা প্রবাসী নয়ন শেখ জানান, বৃহস্পতিবার ওমরাহ পালন শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা যাচ্ছিলেন নিলয়। পাহাড়ি পথে তাদের প্রাইভেট কারের চাকা পাংচার হয়ে পাশের খাদে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। জুয়েল নামে নিলয়ের এক স্বজন ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনিও আহত হয়েছেন। নিলয়ের চাচাতো ভাই সরকার আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর মারাত্মক আহত অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করে মক্কা কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এপি/কে
স্ত্রী-সন্তানের পর চলে গেলেন নিজেও
যৌন নির্যাতন থেকে ৫১ মাদ্রাসা ছাত্রী উদ্ধার
ভারতের উত্তরপ্রদেশে এক মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের কবল থেকে ৫১ ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার  উদ্ধার হওয়া ওই ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লক্ষ্ণৌয়ের সাহাদতগঞ্জের জামিয়া খাদিজাতুল লিলানওয়াত মাদ্রাসার ডিরেক্টর কাজি মোহাম্মদ তৈয়ব জিয়াকে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অত্যাচার, যৌন হেনস্থা, ধর্ষণের চেষ্টার মতো অভিযোগ জানিয়েছে ছাত্রীরা। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। জানা গেছে, মাঝেমধ্যেই কাগজের টুকরো পড়ে থাকতে দেখা যেত মাদ্রাসার পাশের রাস্তায়। তবে তাতে কেউ তেমন সাড়া দেননি। হয়তো ভেবেছিলেন, আবাসিক মাদ্রাসার বাচ্চা মেয়েগুলোর কাজ। কিন্তু একদিন এক পথচারীর সামনে একটি কাগজের টুকরো এসে পড়লে, তিনি তা খুলে দেখেন যে সেখানে লেখা রয়েছে, ‘আমাদের বাঁচান’। দেরি না করে তিনি খবর দেন মাদ্রাসার মালিককে। তারপর তিনি যোগাযোগ করেন পুলিশের সঙ্গে। শুক্রবার রাত ন’টা নাগাদ প্রশাসন ও পুলিশের একটি যৌথ বাহিনী হানা দেয় ওই মাদ্রাসায়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৫১ জন নাবালিকাকে। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চল, তা ছাড়া অন্যান্য রাজ্য থেকেও ওই মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আসত ছাত্রীরা। মোট ছাত্রীসংখ্যা ছিল ১২৬। তার মধ্যে শুক্রবার ওই সময়ে মাদ্রাসায় ৫১ জন ছাত্রী ছিল। এসএসপি দীপক কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বড় দল মাদ্রাসায় হানা দিলে হইচই পড়ে যায়। পালাতে পারেনি কাজি। তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসার ভিতরে যে এই কাজ চলছে, তার কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন মাদ্রাসার মালিক। তিনি ওই মাদ্রাসা থেকে বেশ কিছুটা দূরে অন্যত্র থাকতেন। দীপক কুমার বলেন, ‘গোমতী নগরের বাসিন্দা ১৫ বছরের এক কিশোরী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছে, তাদের উপর যৌন নির্যাতন চালাতো ওই কাজি। আরো ৭ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছে সে।’ উদ্ধার হওয়া আর এক ছাত্রী জানিয়েছে, কাজির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে রাজি না হলেই মারধর করা হতো তাদের। উদ্ধার হওয়া ছাত্রীদের আপাতত সেফ হোমে পাঠানো হয়েছে। এপি/এএ
যৌন নির্যাতন থেকে ৫১ মাদ্রাসা ছাত্রী উদ্ধার
ইরানে বিক্ষোভ চলতে থাকলে শক্ত হাতে দমনের হুমকি সরকারের
ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চলতে থাকলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে দেশটির বিপ্লবী বাহিনী। খবর বিবিসি। দেশটিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জীবনমান নিম্নমুখী হয়েছে। এমন অভিযোগে তৃতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভ চলছে। বিপ্লবী বাহিনীর কমান্ডার অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীরা দ্রব্যমূল্যের বাইরে রাজনৈতিক ইস্যুতে স্লোগান দিচ্ছে এবং তারা সরকারি সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। ইরানের এক সংবাদ সংস্থাকে ব্রিগেডিয়ার ইসমাইল কাওসারি বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা যদি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদেই রাস্তায় নামত, তাহলে তারা সরকার বিরোধী স্লোগান দিত না। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারী এবং সরকারি সম্পদ ধ্বংসকারীদের পরে জবাবদিহি করতে হবে এবং আজকের বিক্ষোভের জন্য কঠিন মূল্য দিতে হবে। ২০০৯ সালে সংস্কারের দাবীতে ব্যাপক বিক্ষোভের পর এই প্রথম দেশটিতে এরকম বড় প্রতিবাদ হচ্ছে। শুক্রবার দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে অন্য শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ হচ্ছে। রোববার খোরামাবাদ, যানজান ও আহভাজ শহরে মিছিল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পদত্যাগ ও তার নিপাত যাওয়ার দাবীতে স্লোগান দেয়া হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনস গার্ড বা বিপ্লবী বাহিনীর সঙ্গে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ এবং এই বাহিনী দেশে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা চালু রাখতে বদ্ধ পরিকর। মূলত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও তা এখন সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। শনিবার  ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশে কোন বিক্ষোভে অংশ না নিতে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু শনিবার সামাজিক মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় পোস্ট থেকে ইরান জুড়ে আরো বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে অংশ নেয়। শনিবার রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম দাবি করে, সরকারের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ব্যাপক বিক্ষোভও ইরানের সরকার কঠোরভাবে দমন করেছিল। এপি/এএ
ইরানে বিক্ষোভ চলতে থাকলে শক্ত হাতে দমনের হুমকি সরকারের
বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে কেনিয়ায় নিহত ৩০
কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলের একটি সড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। রোববার ভোরের দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আরো কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া। রিফট উপত্যকা পুলিশের প্রধান জিরো অ্যারোমি হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ৩০ জন মারা গেছে। নাকুরু শহরের কাছে ভোর তিনটার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে সব মরদেহ উদ্ধার ও আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নাকুরু-এলদোরেত মহাসড়কে কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বুসিয়া থেকে নাকুরুগামী একটি বাসের সঙ্গে নাকুরু থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পুলিশ জানায়, চলতি মাসে এ মহাসড়কে নিহতের সংখ্যা একশ’তে পৌঁছেছে। জিরো অ্যারোমি বলেন, সংঘর্ষে দুই গাড়ির চালকও মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে তিন বছরের এক শিশুও রয়েছে। আহতদের উদ্ধারের পর নাকুরু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী হাসপাতালের বিছানা থেকে বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাসের পেছনের আসনে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। কেনিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে প্রত্যেক বছর দুর্ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এপি/এএ
বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে কেনিয়ায় নিহত ৩০
আরও পড়ুন
পুরুষ ছাড়াই হজে যেতে পারবেন ভারতের নারীরা : মোদি
শিকাগোতে গুলিতে নিহত ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক
বহুবিবাহ বন্ধের দাবি উঠেছে ভারতে
দাবায় ১৪ বছর পর আবারও বিশ্বসেরা আনন্দ