
কাতারের দোহায় ইসরাইলি হামলার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা খালিল আল-হাইয়া। ইসরাইলি হামলায় তার ছেলে ও সহকর্মীরা নিহত হওয়ার পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে এলেন।
কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হামাসের প্রতিনিধি দলের প্রধান আল-হাইয়া, আল-আরাবি টেলিভিশনে প্রচারিত একটি রেকর্ডকৃত বার্তায় বক্তব্য দেন। খবর আল মায়াদির।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
বক্তব্যের শুরুতে আল-হাইয়া দোহায় ইসরাইলি হামলায় নিহত তার ছেলে ও সহকর্মীদের জন্য শোক প্রকাশ করেন। তবে তিনি আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত বেদনা ফিলিস্তিনি জাতির সম্মিলিত ত্যাগ থেকে আলাদা নয়। আজ আমরা যন্ত্রণা ও গৌরব—দুয়ের ছায়াতেই বাস করছি।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, নিজের পরিবারের সদস্যের মৃত্যু আর গাজায় নিহত হাজারো ফিলিস্তিনির মৃত্যুর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। আমি আমার সন্তান ও গাজায় দখলদার বাহিনীর হাতে নিহত কোনো ফিলিস্তিনি শিশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব ক্ষয়ক্ষতির পেছনে একটিই মূল কারণ— দখলদার ইসরাইলের অব্যাহত অপরাধ। তিনি তার ছেলেসহ নিহতদের ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের রক্তই মুক্তির পথ প্রশস্ত করছে।
হামাসের এই জ্যেষ্ঠ নেতা গাজার ধৈর্য ও দৃঢ়তাকে জাতীয় ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা এই বৃহৎ পরিবারের অংশ — ফিলিস্তিনি জাতির পরিবার, বিশেষ করে গাজার মানুষ, যারা আজ তাদের সংগ্রাম, ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে গোটা জাতিকে প্রতিনিধিত্ব করছে— এমন ত্যাগ যা ইতিহাসে বিরল।
আল-হাইয়া শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে চলা ফিলিস্তিনের সংগ্রাম-এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বর্তমান যুদ্ধ সেই দীর্ঘ ঐতিহাসিক লড়াইয়েরই ধারাবাহিকতা, যা ইসরাইলি ও পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চলছে।
তিনি ফিলিস্তিন মুক্তির লক্ষ্যে হামাসের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই মুক্তি হবে নদী থেকে সাগর পর্যন্ত। এসময় তিনি দখলদারদের ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ ও পশ্চিমা সহযোগিতার’ মুখেও দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
আরটিভি/আর/এসআর




