
ভারতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নাশকতা ষড়যন্ত্র মামলায় দুই বাংলাদেশিসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কলকাতার একটি আদালত। ভারতজুড়ে বোমা হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনার প্রমাণ মিললে দীর্ঘ তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন কলকাতার সিটি সেশনস কোর্টের বিশেষ এনডিপিএস বিচারক রোহন সিনহা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি হলেন, জামালপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে এনাম এবং মোহাম্মদ রুবেল ওরফে রফিক। এছাড়া আরও তিনজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের মাওলানা ইউসুফ শেখ (৩১), আসামের মোহাম্মদ সাহিদুল ইসলাম (২২) এবং জাবিরুল ইসলাম (৩০)। এর মধ্যে রুবেল ও জাবিরুল ২০১৪ সালের বহুল আলোচিত খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় আগেও দণ্ডপ্রাপ্ত।
কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) জানায়, জেএমবি সদস্যরা অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় প্রবেশ করে ভারতজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ করা। উদ্দেশ্য ছিল—বাংলাদেশে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের ‘বাধা’ দূর করা এবং রোহিঙ্গা ও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া।
বাংলাদেশি দুই সদস্য ভুয়া ভারতীয় নথি ব্যবহার করে ভারতে ঢুকেছিল। বিশেষ আদালত তাদের ফরেনার্স অ্যাক্টের ধারা ১৪-এর অধীনেও অতিরিক্ত দণ্ড দিয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাওলানা ইউসুফকে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে (ধারা ১২১এ) অতিরিক্ত যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এসটিএফ বনগ্রাম, বসিরহাট, কোচবিহার এবং আসামে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক, আইইডি তৈরির উপকরণ, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় হামলার নকশা, জেএমবির সাংগঠনিক কাঠামোর নথি, নগদ টাকা, ল্যাপটপ ও এসডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।
তবে প্রমাণের ঘাটতির কারণে আরেক অভিযুক্ত আবদুল কালাম ওরফে আজাদ-কে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এসকে




