ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কেন ওয়াকফ নিয়ে অবস্থান বদল রাজ্যের?

ডয়চে ভেলে

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৩ পিএম
ওয়াকফ আন্দোলন। সংগৃহীত ছবি

পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তির বিশদ তথ্য কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের? ভারতে মুসলমানদের ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য সরকারি খাতায় নথিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। গোড়ায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় এই আইন কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

হঠাৎ তারা সিদ্ধান্ত বদল করে এই আইন অনুযায়ী তথ্য দিতে বলেছে পোর্টালে। ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তি এ রাজ্যে ৮২ হাজার ৬০০-র বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ভবন, ভূসম্পত্তি ওয়াকফের অধীনে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ এস্টেটের সংখ্যা আট হাজারের উপরে। দেশের অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও তথ্য আপলোড করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি পোর্টাল উমিদ-এ।

কেন্দ্রীয় সরকার এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছিল ছয় মাস আগে। এই সময়সীমা শেষ হতে চলেছে পাঁচ ডিসেম্বর। নির্দেশ জারির পরে রাজ্যে এ নিয়ে গন্ডগোল হয়, হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। রাজ্য সরকার জানিয়ে দেয় পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ আইন কার্যকর হবে না। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চলছিল।

গত সপ্তাহে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, তারা ওয়াকফ আইন বলবৎ করার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে না। এরপরে রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু দপ্তর প্রত্যেক জেলায় বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানায়, ওয়াকফ সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করতে হবে। একদিকে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। তার মধ্যে ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান সংগ্রহ করে আপলোড করা যথেষ্ট কঠিন হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের তথ্য পোর্টালে দিতে হচ্ছে। কোনো বিশেষ সম্পত্তি কোন বছরে ওয়াকফের অধীনে এসেছিল, তার এলাকা কতটা, কে রক্ষণাবেক্ষণ করেন, এই সম্পত্তির মূল্য কত ইত্যাদি নানাবিধ তথ্য পোর্টালে দিতে হচ্ছে।

কিন্তু আর মাত্র দিন তিনেকের মধ্যে আদৌ কি সম্ভব সব তথ্য পোর্টালে তুলে দেওয়া? এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী ও জমিয়তে উলেমা ইন হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, তিনি যাতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই সংক্রান্ত সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি করেন। নেপথ্যে রাজনীতি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে। তৃণমূল সহ বিরোধীদের বক্তব্য, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে এই আইন আনা হয়েছে।

বিজেপির দাবি, জমি মাফিয়ারা মুসলমানদের জমি গ্রাস করে নিচ্ছে। জমি ওয়াকফের অধীনে সরকারি খাতায় নথিবদ্ধ হলে জমি কেড়ে নেয়া যাবে না। কিন্তু আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী রাজ্যের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা গোড়া থেকে এর বিরোধিতা করেছি, এখনো করছি। রাজ্য সরকার কেন এতদিন পরে অবস্থান বদল করল, তার জবাব দিতে হবে।

তৃণমূল সরকার প্রথমে বিরোধিতা করে কেন এখন এই আইন কার্যকর করছে? সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি বিরোধী দলগুলি শাসিত রাজ্যের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে আপলোড করতে বলছে, সেভাবে আপলোড করে রাখা হোক। আপলোড করে না রাখলে, পরে টেকনিক্যালি এইসব ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো নিয়ে আইনি সমস্যা হতে পারে। ওয়াকফ আইনের যে সমস্ত ধারাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তৃণমূল সেটাকে মেনে নেয়নি। আমার সঙ্গে ওয়াকফ কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরানেরও কথা হয়েছে।

পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীরও বক্তব্য আমি দেখেছি। ওদের পরিষ্কার বক্তব্য যে, আমাদের প্রতিবাদ আছে। কিন্তু যদি নিয়ম মেনে আপলোড না করা হয়, তাহলে সম্পত্তিগুলো নিয়ে সমস্যা হবে। সেজন্য আপলোড করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মইদুল ইসলাম বলেন, তৃণমূল দুদিকেই খেলছে। এসআইআর-এর ক্ষেত্রেও যেটা হলো, প্রথমে বিরোধিতা করল, কিন্তু পরে মেনেও নিল। এখন এসআইআর যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, সেজন্য চেষ্টাও চালাচ্ছে বিএলএ-র মাধ্যমে। আবার নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখছে। ওয়াকফের ক্ষেত্রেও একই জিনিস। প্রথমে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে ছিল, এখনও তৃণমূলের অবস্থান ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে। কিন্তু আবার এই বিলটা যেহেতু পাশ হয়ে গিয়েছে, সেক্ষেত্রে এটাকে মেনে নিতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক শিবাজীপ্রতিম বসু বলেন বলেন, তৃণমূলকে তো সব সম্প্রদায়ের ভোটের কথা ভাবতে হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ভোট ধরে রাখার পাশাপাশি এটাও ভাবতে হচ্ছে যে হিন্দুদের ভোট যেন সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে না চলে যায়। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার হাতে টাকা পৌঁছয় বা তারা বিভিন্ন সুবিধা পান। অর্থাৎ সংখ্যালঘুরা উপকৃত হন রাজ্যের কাছ থেকে। ওয়াকফে কোন রাজা, আগেকার পুরোনো নবাব, আগেকার অমুক-তমুক কাদের টাকা আছে, তার দ্বারা গরিব মুসলমানের কী উপকার হবে, তাদের জানা নেই। তাদের কাছে সরকারি প্রকল্প বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই ওয়াকফের নথি পোর্টালে তোলার সিদ্ধান্তে তৃণমূলের বিশেষ সমস্যা হবে বলে মনে করেন না পর্যবেক্ষকরা।

মইদুল বলেন, আমার মনে হয় না খুব একটা বেশি এদিক-ওদিক হবে। কারণ মুসলিম ভোট এত তাড়াতাড়ি শিফট করে না। বিজেপির বিরুদ্ধে যিনি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হবেন, তাকেই মুসলিমরা সমর্থন করবে। এটা হতেই পারে যে এক-একটা জায়গায় হয়তো কংগ্রেস কিংবা বামের কোনো পছন্দের প্রার্থী লড়াই করলেন। কিন্তু আমার মনে হয় না, একটা-দুটো জায়গা ছাড়া তৃণমূল থেকে সংখ্যালঘু ভোটাররা সরে যাবে।

শিবাজীপ্রতিম বলেন, রাজ্যের সাধারণ মুসলমান দরিদ্র, ওয়াকফের ব্যাপারে তারা জানেন না। তাদের যদি কেউ প্ররোচিত না করে, যেমন মুর্শিদাবাদে হয়েছিল, তাদের খুব একটা কিছু এসে যায় না এই ওয়াকফের কী হল না হল। ওয়াকফের যে সম্পত্তি, তাতে কোনো অংশীদারিত্ব নেই সাধারণ মুসলমানদের।

তার মতে ওয়াকফ বোর্ডের যারা মাথা, তারা অনেক ক্ষেত্রে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিরও মাথা। তার ফলে তারা খুব সহজেই তারা সাধারণ মুসলমানদের প্রভাবিত করতে পারেন। কিন্তু ওয়াকফের সম্পত্তির তথ্য ডিজিটাইজেশন যদি হয়, তাতে যে সাধারণ মুসলমানরা খুব বিপদে পড়বেন এমনটা নয়। তাই তারা তৃণমূলের দিকেই থাকবে। ভোটার তালিকার সমীক্ষা সাধারণ মুসলমানদের ক্ষেত্রে বড় সমস্যার বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন

শিবাজী বলেন, মুসলমানদের সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হচ্ছে এসআইআর। এর ফলে তাদের এখন অস্তিত্বের সংকট। ওয়াকফ নিয়ে কী আর মাথা ঘামাবেন তারা? এখন তাদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও খসড়া তালিকা, চূড়ান্ত তালিকায় শেষমেশ কী হবে, তা নিয়ে অনেকে চিন্তিত। তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে কি না, তা নিয়েও ভাবনা রয়েছে। তাই মুসলমান প্রধান এলাকায় এনুমারেশন ফর্ম পূরণ বেশি হয়েছে। যেহেতু তাদের অস্তিত্বে টান পড়েছে, তাই তারা তৃণমূলের পাশে থাকবে।

এআইএমআইএম বা মিম, আইএসএফ যে দলগুলির নেতৃত্বে মুসলমান নেতারা রয়েছেন, তারা ওয়াকফকে সামনে রেখে তৃণমূলকে কি বেগ দিতে পারবেন?

মইদুল বলেন, এআইএমআইএম এখানে খুব একটা বেশি ফায়দা তুলতে পারবে না, কিন্তু আইএসএফের একটা সংগঠন আছে, একজন বিধায়ক আছে। আইএসএফ এটাকে ইস্যু করতে পারে। বাম-কংগ্রেসও কিছুটা ইস্যু করতে পারে। কয়েকটি পকেটে হয়ত তারা মুসলিম ভোট পেতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না সামগ্রিক চিত্রটা খুব একটা বেশি এদিক-ওদিক হবে। মুসলিমদের কাছে এখনো মূল বিবেচ্য হচ্ছে, কীভাবে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখবে। এটাই তাদের কাছে মূল ভাবনার বিষয়। এই মুসলমান সম্প্রদায় বাম আমলে, যখন তৃণমূল ও বিজেপির বোঝাপড়া ছিল, তারা বামেদের ভোট দিত। বিজেপিকে রোখাই সংখ্যালঘুদের মূল লক্ষ্য।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
ভারতে নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হলো হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে এক ২৮ বছর বয়সী নারীকে চলন্ত গাড়িতে তুলে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। পৈশাচিক এই নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বর্বরোচিত এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। খবর এনডিটিভির।  পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী রাতে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুই যুবক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভ্যানগাড়িতে তোলে। কিন্তু গাড়িটি গন্তব্যে না গিয়ে গুরগাঁও সড়কের নির্জন পথে চলতে শুরু করে। চলন্ত গাড়ির ভেতর আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে পাশবিক নির্যাতন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। আরও পড়ুন ‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী রাত ৩টার দিকে ফরিদাবাদের এসজিএম নগরের কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। এতে ওই নারীর মুখ ও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ওই অবস্থায় তিনি কোনোমতে তার বোনকে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর জখম হওয়ায় তার মুখে ১০-১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী তিন সন্তানের জননী এবং পারিবারিক কলহের কারণে বর্তমানে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছেন। ঘটনার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে এক বান্ধবীর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তিনি। পথে এই ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন তিনি। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত জবানবন্দি গ্রহণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। ভারতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও দেশটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, রাতের রাস্তায় নারীরা এখনো কতটা অসুরক্ষিত। আরটিভি/এআর 
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি হিন্দু দম্পতিদের কেবল একটি সন্তানে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তত দুই অথবা তিন সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তার বার্তা হলো—তারা যেন সাত-আট সন্তান না নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।  মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জন্মহার অস্বাভাবিক বেশি, বিপরীতে হিন্দুদের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুরা যদি সন্তান সংখ্যা না বাড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের ঘর ও সম্পদ দেখভাল করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আসামের জনমিতি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।  আরও পড়ুন নতুন বছরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগতে পারে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি তার ছাত্র রাজনীতির সময়কার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় তাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ৩১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। হিমন্ত শর্মার আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ওরা (বাংলাদেশ) প্রায়ই বলে উত্তর-পূর্ব ভারত আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। এর জন্য যুদ্ধ করার দরকার নেই, জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ পেরোলে তা আপনা-আপনি হয়ে যাবে।  হিমন্ত শর্মা তার বক্তব্যে বিরোধী দল কংগ্রেসকেও একহাত নেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের ভেতর থেকে মুসলমানদের জন্য ৪৮টি আসন সংরক্ষণের দাবি তোলা হচ্ছে এবং দলটির ‘ইকোসিস্টেম’ পুরোপুরি সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।  আরটিভি/এআর 
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল বুধবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ এই নেতার অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্কের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মন্ত্রীরা তাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় আসছেন। ইতোমধ্যেই তাদের আগমনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠেয় এই জানাজায় দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিশ্বমঞ্চে যে শোকের ছায়া নেমেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর তারই এক জোরালো প্রতিফলন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে প্রটোকল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেহরাদুনে এবার ‘চীনা সন্দেহে’ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিপুরার এক মেধাবী শিক্ষার্থী। গত ৯ ডিসেম্বর কেনাকাটা করতে গিয়ে একদল যুবকের বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় ২৪ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল চাকমাকে। টানা ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত অ্যাঞ্জেলের বাবা একজন বিএসএফ জওয়ান; যিনি সীমান্তে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।  নিহত অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪) দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ এর শিক্ষার্থী ছিলেন।  আরও পড়ুন ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) অ্যাঞ্জেলের মরদেহ তার নিজ শহর আগরতলায় আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ পুরো দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র চেহারার কারণে তাদের সন্তানদের ‘চীনা’ বলে অপমান করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল উগ্র যুবক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল তার ছোট ভাই মাইকেল দোজের সাথে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের গতিরোধ করে এবং ‘চীনা’ বলে গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেল শান্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা চীনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার জন্য কি কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে হবে? এই তর্কের মাঝেই অভিযুক্তরা ধারালো ছুরি দিয়ে অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে। মাইকেলকেও গুরুতর জখম করা হয়।  এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে দুইজন নাবালক। তবে মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ অবাস্থি এখনও পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ তার সন্ধান দিতে পারলে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্মিলিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছাত্র সংগঠনগুলো রাজপথে নেমে এসেছে। তারা জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।  তিপ্রা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যুৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তর-পূর্বের মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে, অথচ তাদেরই নিজ দেশে ‘চীনা’ বলে অপমানিত হতে হয়। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয় বরং দেশের ঐক্যের ওপর বড় আঘাত। উল্লেখ্য, অ্যাঞ্জেল চাকমার এই হত্যাকাণ্ড সম্প্রতি ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে শ্রমিকদের ওপর চলা নির্যাতনের বীভৎস স্মৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্রেফ সন্দেহের বশে অনেককে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।   আরটিভি/এআর 
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা বারবার আলোচনায় এলেও, ভারত সরকার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণেই এই বহিষ্কারের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।  রিয়াদের ভারতীয় মিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে সৌদি আরব থেকে কয়েক হাজার ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬ জন এবং ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ জনে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, কাজের অনুমতি ছাড়া চাকুরি করা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন তাজমহল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীর সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বহিষ্কারের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসি মিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪১৪ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বাড়লেও সৌদি আরবের সংখ্যার ধারেকাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক বা শিকাগো থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই বা তিন অংকের ঘরে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাবে আরও দেখা যায় যে, শুধুমাত্র সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১ হাজার ৪৬৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫ জন এবং বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও কয়েকশ ভারতীয় নাগরিক বহিষ্কৃত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের উদ্ধার এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে ভারতীয় মিশনগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রম আইন নিয়ে ভারতীয় কর্মীদের সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে নয়াদিল্লি। আরটিভি/এআর 
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব