
সংঘাত, সহিংসতা আর চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে আরও একটি বছর পার করল বিশ্ববাসী। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে আফ্রিকা—২০২৫ সালে পৃথিবীর কোনো প্রান্তই অস্থিরতা থেকে মুক্ত ছিল না। গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা থেকে শুরু করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের লড়াই—সব মিলিয়ে বছরটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী সময়।
গাজায় ২০২৩ সালে শুরু হওয়া নারকীয় তাণ্ডব ২০২৫ সালেও থামেনি। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি হলেও উপত্যকাটিতে এখনো নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের ভয়াবহ সংঘাত বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন মদদে হামলা চললেও শেষ মুহূর্তে মধ্যস্থতায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। তবে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইসরায়েলি আগ্রাসন বছরজুড়েই অব্যাহত ছিল।
ইউরোপের মাটিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গড়িয়েছে চতুর্থ বছরে। যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় মধ্যস্থতা চললেও শান্তি অধরাই রয়ে গেছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার সুদানে সাড়ে তিন বছরের গৃহযুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। কঙ্গো, নাইজার ও মালিতে জঙ্গিগোষ্ঠীর অপতৎপরতা আর ক্ষমতার লড়াই লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। খরা ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে মহাদেশটিতে তৈরি হয়েছে চরম খাদ্য সংকট।
২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়াও ছিল রণক্ষেত্র। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৪ দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু ভয়াবহ যুদ্ধ অঞ্চলটিকে অস্থির করে তোলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরে বিশ্বজুড়ে ‘শুল্ক যুদ্ধ’ শুরু করলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার মেঘ ঘনীভূত হয়।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবানল, ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যায় এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার বছর।
আরটিভি/এআর




