
নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যে দুর্বৃত্তরা দুটি গির্জায় সশস্ত্র হামলায় ডজনের বেশি উপাসককে অপহরণ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে দেশটির এক শীর্ষ চার্চ নেতা দাবি করেছেন মোট অপহৃতের সংখ্যা ১৬০ জনেরও বেশি।
কাদুনা রাজ্য পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (১৭ জানুয়ারি) সকাল প্রায় ১১টা ২৫ মিনিটে আফোগো ওয়ার্ডের কুরমিন ওয়ালি নামে বনঘেরা একটি এলাকায় অবস্থিত দুটি গির্জায় অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় সশস্ত্র বন্দুকধারীরা। তবে কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম এবং সড়ক যোগাযোগ খারাপ হওয়ায় হামলার পরপরই নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে উত্তর নাইজেরিয়ার খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড জন হায়াব রয়টার্সকে ফোনে জানান, মোট ১৭২ জন উপাসককে অপহরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এখনও ১৬৩ জন বন্দি অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, চার্চের প্রবীণদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৭২ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং ৯ জন পালিয়ে যায়।
নাইজেরিয়ায় বড় পরিসরের অপহরণের ঘটনার পর প্রাথমিক সংখ্যায় প্রায়ই বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণত শুরুতে কম সংখ্যা জানায় আর স্থানীয় সম্প্রদায় বা ধর্মীয় সংগঠন তুলনামূলক বেশি সংখ্যার কথা বলে। অতীতেও কাদুনা রাজ্যের একটি ক্যাথলিক স্কুলে অপহরণের ঘটনায় এমন বিভ্রান্তি দেখা গিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করে বন্দিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় বনাঞ্চলভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় সাম্প্রতিক সময়ে গণ-অপহরণ বেড়েছে। তারা গ্রাম, স্কুল ও উপাসনালয়ে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/এমএইচজে/এসআর


