ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অজানা ১৬ তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে ইতিহাসে আলোচনা কম নয়। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের দৈনন্দিন জীবন, অভ্যাস ও অভিজ্ঞতার অনেক দিক আজও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে হওয়া আলোচনায় উঠে এসেছে এমনই কিছু বিস্ময়কর তথ্য। সেখান থেকে বাছাই করা ১৬টি না জানা তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. রোমানিয়া ২ বার যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল

১৯১৬ সালের আগস্টে মিত্রশক্তির চাপে রোমানিয়া প্রথমবার যুদ্ধে নামে। তবে ১৯১৭ সালে রাশিয়া যুদ্ধ থেকে সরে গেলে চারদিক থেকে শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে তারা কেন্দ্রীয় শক্তির সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়। পরে ১৯১৮ সালের নভেম্বরে সেই চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করে যুদ্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবার মিত্রশক্তির পক্ষে যোগ দেয়।

২. ট্যাংকের আসল নাম ছিল ‘ল্যান্ডশিপ’

ট্যাংকের প্রথম নাম ছিল ‘ল্যান্ডশিপ’। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এগুলোকে ‘ওয়াটার ট্যাংক’ বলা হতো। সেই ছদ্মনামই পরে স্থায়ী হয়ে যায়।

৩. ফরাসি সৈনিকদের ডাকনাম ছিল ‘পইলু’

ফরাসি সৈনিকদের বলা হতো ‘পইলু’, যার অর্থ ‘লোমশ মানুষ’। দীর্ঘদিন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার ফলে তাদের অগোছালো চেহারা থেকেই এই নামের উৎপত্তি।

৪. দাড়ি কামানো বাধ্যতামূলক

গ্যাস মাস্ক ঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য সৈনিকদের ক্লিন শেভ থাকতে হতো। যুদ্ধ শেষে এই অভ্যাসই সমাজে ফ্যাশনে পরিণত হয়।

৫. অদৃশ্য কালি হিসেবে ব্যবহৃত হতো বীর্য

গোপন বার্তা পাঠাতে একসময় বীর্য ব্যবহার করা হতো অদৃশ্য কালি হিসেবে। বিষয়টি আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান স্যার ম্যানসফিল্ড স্মিথ-কামিং।

৬. সবসময় ট্রেঞ্চে থাকতেন না সৈনিকরা

সৈনিকদের নিয়মিতভাবে সামনের ট্রেঞ্চ ও পেছনের এলাকায় বদলি করা হতো। তবে জার্মান সৈনিকরা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ট্রেঞ্চে অবস্থান করতেন।

৭. ইঁদুর শিকার করে পোশাক মেরামত

অনেকে ট্রেঞ্চে ইঁদুর শিকার করে তাদের চামড়া দিয়ে পোশাকের ছেঁড়া অংশ সেলাই করতেন।

৮. বড়দিনে সাময়িক যুদ্ধবিরতি

১৯১৪ সালের বড়দিনে জার্মান ও ব্রিটিশ সৈনিকদের মধ্যে অলিখিত যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তারা একসঙ্গে গান গেয়েছে, এমনকি ফুটবলও খেলেছে।

৯. দাঁতের দুরবস্থা

ব্রিটিশ সৈনিকদের দাঁতের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাদের জন্য আলাদা মাংস কাটা যন্ত্র দেওয়া হয়। এখান থেকেই রয়্যাল আর্মি ডেন্টাল কর্পস গঠিত হয়।

১০. ‘ড্রামরোল’ গোলাবর্ষণ

এক ধরনের লাগাতার গোলাবর্ষণ চলত, যার শব্দ ড্রাম বাজানোর মতো শোনাত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন গোলাবর্ষণে বহু সৈনিক মানসিকভাবে ভেঙে পড়তেন।

১১. যুদ্ধের মধ্যেও চলত গসিপ

ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও সৈনিকদের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল নিজেদের ট্রেঞ্চের অন্যদের নিয়ে গল্পগুজব।

আরও পড়ুন

১২. মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণ এলোমেলো

হঠাৎ একটি গোলা, একটি গুলি যেকোনো সময় মৃত্যু আসতে পারত। এই ধীরে ধীরে সৈন্য কমে যাওয়াকে বলা হতো ‘ওয়েস্টেজ’।

১৩. লাশ, মাছি আর ইঁদুর

মৃতদেহে বসা মাছি খাবার, জামাকাপড় এমনকি মানুষের শরীরেও বসত। ইঁদুর ছিল সর্বত্র।

১৪. সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল উকুন

একজন প্রবীণ সৈনিকের মতে, ট্রেঞ্চ জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল উকুন। দিন-রাত চুলকানি থেকে মুক্তি মিলত না।

১৫. কাদায় ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি

ট্রেঞ্চের পাশের কাঠের পথ থেকে পড়ে গেলে কাদায় আটকে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অনেক জায়গায় মাটির নিচে চাপা পড়া পুরোনো লাশ বেরিয়ে আসত।

১৬. দীর্ঘ অপেক্ষা আর মৃত্যুর মিছিল

বেশিরভাগ সময়ই যুদ্ধ মানে ছিল অপেক্ষা। তবে ভার্দুনের মতো এলাকায় অল্প জায়গায় লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছে। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করে সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের কাছে পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের অদূরে একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জাতিসংঘের কাছে পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক
রাস্তার মাঝখানে বাঘের ঘুম, আটকে রইল পর্যটকদের গাড়ি
ভারতের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানের একটি কাদাময় সড়কে হঠাৎ তৈরি হলো যানজট। অন্য কোনো যানবাহন বা দুর্ঘটনা নয়, বরং বনের রাজা বাঘ নিশ্চিন্তে দুপুরের ঘুম দেওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। রাজস্থানের বিখ্যাত এ অভয়ারণ্যে সাফারিতে বেরিয়ে পর্যটকরা এমনই এক অভাবনীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। যার ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এলেনা নামে এক বিদেশি পর্যটক তার ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই তা ভাইরাল হয়।  ভিডিওটিতে দেখা যায়, ধুলোবালি ঘেরা সাফারির আঁকাবাঁকা রাস্তার ঠিক মাঝখানে আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে একটি বিশালদেহী বাঘ। আর তাকে না জাগিয়ে বা বিরক্ত না করে পথের ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৩০টি পর্যটকবাহী জিপ। বাঘটিকে একটু কাছ থেকে দেখার জন্য পর্যটকদের মধ্যে ফিসফিসানি আর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে এক নীরব ব্যস্ততা তৈরি হয়। বেশ কিছু সময় ঘুমিয়ে নেওয়ার পর বাঘটি ধীরে সুস্থে উঠে দাঁড়ায়, সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের মতো শরীর দোলা দিয়ে একটু আলসেমি ভাঙে, এবং উপস্থিত জিপের মানুষগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে শান্ত পায়ে বনের গহীনে মিলিয়ে যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে এলেনা রসিকতা করে লিখেছেন, ভারতের চিরচেনা যানজটের অভিজ্ঞতা যদি রাজকীয় হতে হয়, তবে তা এমনই হয়। তার এ পোস্টটিতে প্রায় ছয় লক্ষাধিক ভিউ এবং হাজার হাজার লাইক পড়েছে।  নেটিজেনরাও মন্তব্য বাক্সে মজার সব মন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, বনের রাজা যে নিজের ইচ্ছামতোই চলবেন; তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি। কেউ বা কমেন্ট করেছেন, বাঘটি হয়তো পর্যটকদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিল যে জঙ্গলটি আসলে কার শাসনে চলে। সূত্র: এনডিটিভি আরটিভি/এসআর  
রাস্তার মাঝখানে বাঘের ঘুম, আটকে রইল পর্যটকদের গাড়ি
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
নিষেধাজ্ঞা, চাপ কিংবা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মুখে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না এবং দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। 
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ