
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে ইতিহাসে আলোচনা কম নয়। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের দৈনন্দিন জীবন, অভ্যাস ও অভিজ্ঞতার অনেক দিক আজও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে হওয়া আলোচনায় উঠে এসেছে এমনই কিছু বিস্ময়কর তথ্য। সেখান থেকে বাছাই করা ১৬টি না জানা তথ্য তুলে ধরা হলো:
১. রোমানিয়া ২ বার যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল
১৯১৬ সালের আগস্টে মিত্রশক্তির চাপে রোমানিয়া প্রথমবার যুদ্ধে নামে। তবে ১৯১৭ সালে রাশিয়া যুদ্ধ থেকে সরে গেলে চারদিক থেকে শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে তারা কেন্দ্রীয় শক্তির সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়। পরে ১৯১৮ সালের নভেম্বরে সেই চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করে যুদ্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবার মিত্রশক্তির পক্ষে যোগ দেয়।
২. ট্যাংকের আসল নাম ছিল ‘ল্যান্ডশিপ’
ট্যাংকের প্রথম নাম ছিল ‘ল্যান্ডশিপ’। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এগুলোকে ‘ওয়াটার ট্যাংক’ বলা হতো। সেই ছদ্মনামই পরে স্থায়ী হয়ে যায়।
৩. ফরাসি সৈনিকদের ডাকনাম ছিল ‘পইলু’
ফরাসি সৈনিকদের বলা হতো ‘পইলু’, যার অর্থ ‘লোমশ মানুষ’। দীর্ঘদিন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার ফলে তাদের অগোছালো চেহারা থেকেই এই নামের উৎপত্তি।
৪. দাড়ি কামানো বাধ্যতামূলক
গ্যাস মাস্ক ঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য সৈনিকদের ক্লিন শেভ থাকতে হতো। যুদ্ধ শেষে এই অভ্যাসই সমাজে ফ্যাশনে পরিণত হয়।
৫. অদৃশ্য কালি হিসেবে ব্যবহৃত হতো বীর্য
গোপন বার্তা পাঠাতে একসময় বীর্য ব্যবহার করা হতো অদৃশ্য কালি হিসেবে। বিষয়টি আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান স্যার ম্যানসফিল্ড স্মিথ-কামিং।
৬. সবসময় ট্রেঞ্চে থাকতেন না সৈনিকরা
সৈনিকদের নিয়মিতভাবে সামনের ট্রেঞ্চ ও পেছনের এলাকায় বদলি করা হতো। তবে জার্মান সৈনিকরা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ট্রেঞ্চে অবস্থান করতেন।
৭. ইঁদুর শিকার করে পোশাক মেরামত
অনেকে ট্রেঞ্চে ইঁদুর শিকার করে তাদের চামড়া দিয়ে পোশাকের ছেঁড়া অংশ সেলাই করতেন।
৮. বড়দিনে সাময়িক যুদ্ধবিরতি
১৯১৪ সালের বড়দিনে জার্মান ও ব্রিটিশ সৈনিকদের মধ্যে অলিখিত যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তারা একসঙ্গে গান গেয়েছে, এমনকি ফুটবলও খেলেছে।
৯. দাঁতের দুরবস্থা
ব্রিটিশ সৈনিকদের দাঁতের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাদের জন্য আলাদা মাংস কাটা যন্ত্র দেওয়া হয়। এখান থেকেই রয়্যাল আর্মি ডেন্টাল কর্পস গঠিত হয়।
১০. ‘ড্রামরোল’ গোলাবর্ষণ
এক ধরনের লাগাতার গোলাবর্ষণ চলত, যার শব্দ ড্রাম বাজানোর মতো শোনাত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন গোলাবর্ষণে বহু সৈনিক মানসিকভাবে ভেঙে পড়তেন।
১১. যুদ্ধের মধ্যেও চলত গসিপ
ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও সৈনিকদের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল নিজেদের ট্রেঞ্চের অন্যদের নিয়ে গল্পগুজব।
১২. মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণ এলোমেলো
হঠাৎ একটি গোলা, একটি গুলি যেকোনো সময় মৃত্যু আসতে পারত। এই ধীরে ধীরে সৈন্য কমে যাওয়াকে বলা হতো ‘ওয়েস্টেজ’।
১৩. লাশ, মাছি আর ইঁদুর
মৃতদেহে বসা মাছি খাবার, জামাকাপড় এমনকি মানুষের শরীরেও বসত। ইঁদুর ছিল সর্বত্র।
১৪. সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল উকুন
একজন প্রবীণ সৈনিকের মতে, ট্রেঞ্চ জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল উকুন। দিন-রাত চুলকানি থেকে মুক্তি মিলত না।
১৫. কাদায় ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি
ট্রেঞ্চের পাশের কাঠের পথ থেকে পড়ে গেলে কাদায় আটকে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অনেক জায়গায় মাটির নিচে চাপা পড়া পুরোনো লাশ বেরিয়ে আসত।
১৬. দীর্ঘ অপেক্ষা আর মৃত্যুর মিছিল
বেশিরভাগ সময়ই যুদ্ধ মানে ছিল অপেক্ষা। তবে ভার্দুনের মতো এলাকায় অল্প জায়গায় লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছে। সূত্র: ইয়াহু
আরটিভি/এমএইচজে


