
করোনা মহামারীর পর চালু হওয়া ‘ঘর থেকে কাজ করা’ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে এক অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে যুক্তরাজ্যে। লন্ডন কাউন্সিলের এক সরকারি কর্মকর্তা একই সময়ে অন্তত পাঁচটি পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড হাতিয়ে নিয়েছেন বলে আদালতে অভিযোগ উঠেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে এই মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সি কাশিম চৌধুরী নামের ওই ব্যক্তি জালিয়াতির ৯টি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে মোট আটটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড উপার্জন করেছেন কাশিম। এর মধ্যে ২০২৩ সালের মে মাসেই তিনি একসঙ্গে পাঁচটি পূর্ণকালীন চাকরি করছিলেন।
হিসাব অনুযায়ী, এই পাঁচটি চাকরির জন্য তার সাপ্তাহিক কাজের চুক্তিবদ্ধ সময় ছিল ১৮৩ ঘণ্টা! অথচ একটি পূর্ণ সপ্তাহে মোট ঘণ্টা রয়েছে ১৬৮টি (২৪ ঘণ্টার ৭ দিন)। অর্থাৎ, সপ্তাহের মোট সময়ের চেয়েও বেশি ঘণ্টা চাকরির খাতায় দেখিয়ে তিনি বেতন তুলছিলেন।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চাকরি শুরু করার পর ২০২১ সালের এপ্রিলে তিনি পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগেও চাকরি নেন।
এভাবে একের পর এক স্বাস্থ্য বিভাগ, হোম অফিস, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির মতো সংস্থায় একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যান তিনি। নতুন চাকরি নেওয়ার সময় তিনি আগের চাকরির কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন।
একাধিক চাকরির চাপ সামলাতে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভুয়া অসুস্থতা ও ‘সিক লিভ’ ব্যবহার করতেন। কোভিড মহামারীর সময়ের দূরবর্তী কাজের সুযোগকে তিনি পুরোপুরি অপব্যবহার করেছিলেন।
আদালতে বলা হয়, তিনি ‘উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা’র অজুহাত দেখিয়েছিলেন এবং অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার কথা বলে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি নিয়েছিলেন।
তবে কাজের চাপ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি ধরা পড়ে যান। ২০২৩ সালের মে মাসে ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির (ইউকেএইচএসএ) ম্যানেজার অ্যালিশা অ্যাডামস তার অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে একটি ভিডিও কলের আয়োজন করেন।
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় অ্যালিশা জানান, ওই মিটিংয়ে কাশিমকে দেখতে অসুস্থ লাগানোর জন্য মুখে মেকআপ মেখে এসেছিলেন। কিন্তু মিটিং চলাকালীন তার কপালে মেকআপ সরে গিয়ে আসল চামড়া বেরিয়ে পড়ে এবং তার মুখ ও গলার রঙের ভিন্নতাও ধরা পড়ে যায়।
প্রসিকিউটর লুসি অর্গান আদালতকে জানান, ম্যানেজারের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তিনি ভিডিও কলে কতটা হাস্যকর রকমের মিথ্যা আশ্রয় নিয়েছিলেন, এটি তারই প্রমাণ। এ ছাড়া ভুলবশত অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ইমেইল আইডি দিয়ে মিটিংয়ে যোগ দেওয়ায় তার একাধিক চাকরির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকার্য চলছে।
আরতিভি/এসএস


