ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় কোনো আপস করবে না পাকিস্তান: শাহবাজ শরিফ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আফগান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং তালেবান বাহিনীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। খবর জিও নিউজের।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ড এবং দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান প্রয়োজনে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না এবং যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান বাহিনীর পক্ষ থেকে চালানো উসকানিমূলক হামলার জবাবে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী একাধিক সফল পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে।

নিরাপত্তা সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীর এসব নিখুঁত হামলায় আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহীদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পোস্ট এবং বড় আকারের গোলাবারুদের গুদাম ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এতে বিদ্রোহীদের ব্যাপক জনবল ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সামরিক অভিযানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, চিফ অব আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের দক্ষ ও আপসহীন নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যেকোনো অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের সেনাবাহিনী কেবল উন্নত প্রশিক্ষণেই সমৃদ্ধ নয়, বরং জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো শত্রু শক্তি যদি আমাদের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়, তবে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

একই সময়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় দেশ হলেও তার সীমানায় কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালানো হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।

উল্লেখ্য,পাক-আফগান সীমান্তে আফগান বাহিনীর অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন গযব লিল-হক’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় কমপক্ষে ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে / মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ
প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে দক্ষ ধাত্রীসেবা বা মিডওয়াইফারির কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে।
মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের নতুন করে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি সই হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুসজ্জিত সামরিক বিমান উড়িয়ে এবং ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন।
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক ও সংকটময় সময় পার করছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এমন সময় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধ, সংঘাত ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অতীতের স্মরণীয় ঘটনাগুলোও ফিরে আসছে আলোচনায়। জাতিসংঘের ইতিহাসের এমন কিছু স্মরণীয় ও আলোচিত মুহূর্ত নিচে তুলে ধরা হলো— ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ভাষণ (১৯৬০)  জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের রেকর্ডটি কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দখলে। ১৯৬০ সালে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এই সময়ে তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কড়া সমালোচনা করেন এবং কিউবান বিপ্লবের আদর্শ তুলে ধরেন। Politics নিকিতা ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০) ১৯৬০ সালের অধিবেশনে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিজের টেবিলে সজোরে ঘুষি মারতে থাকেন। এই অধিবেশন ঘিরেই তার জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করার ঐতিহাসিক কিংবদন্তি চালু হয়। হুগো চ্যাভেজ ও ‘শয়তানের গন্ধ’ (২০০৬) ২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ পডিয়ামে উঠে বুকে ক্রস আঁকেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। আজও এখানে গন্ধকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’ গাদ্দাফির সনদ ছিঁড়ে ফেলা (২০০৯)  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০০৯ সালে ১৫ মিনিটের সময়সীমা ভেঙে টানা ১০০ মিনিট বক্তব্য দেন। নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের একটি পাতা ছিঁড়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুড়ে ফেলেন তিনি। নেতানিয়াহুর কার্টুন বোমা (২০১২)  ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অগ্রগতি বোঝাতে অধিবেশনে বোমার একটি বড় কার্টুন চিত্র প্রদর্শন করেন এবং একটি লাল কালি দিয়ে সেখানে সীমারেখা টানেন। ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)  ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং দেশটির নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেন। Politics(Right) গিলাদ এরদানের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)  ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের একটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান একটি ছোট পেপার শ্রেডার মেশিন দিয়ে অধিবেশনের সামনেই জাতিসংঘ সনদের প্রচ্ছদ পাতা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’  সম্প্রতি জাতিসংঘের মূল ভবনে প্রবেশের সময় এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করলেও জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত এস্কেলেটরের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামে চাপ দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। এসব নাটকীয় ঘটনা ছাড়াও দীর্ঘ ভাষণ ও ক্লান্তিকর সূচির কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব নেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। সূত্র: ওয়াননিউজ আরটিভি/এসআর
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের বৈঠক
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ