ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস। ছবি: সংগৃহীত

‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে’—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন মতামতকে সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে আনা একটি প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব।

যদিও এটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও আদালতের এই পরামর্শমূলক মতামত ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু মামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে ও বিচারকেরা তাদের রায়েও এটি উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

বেলেমে অনুষ্ঠিত গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় এটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। এমনকি চূড়ান্ত নথিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করাকে ‘লাল রেখা’ বলে উল্লেখ করেছিল সৌদি আরব।

স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ এর পক্ষে ভোট দেয়। আর কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী দেশ কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত ছিল।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আইসিজের পরামর্শমূলক মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছে। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে। উত্থাপিত আইনি বিষয়গুলো নিয়ে মহাসচিবকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো ভিত্তি ওয়াশিংটন দেখছে না।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এপি জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অন্যান্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল।

ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, এটি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের একে অপরের সঙ্গে সৎ থাকা উচিত। কারণ ক্ষতি বাস্তব এবং এটি ইতোমধ্যে আমাদের দ্বীপ ও উপকূলজুড়ে পৌঁছে গেছে—যেখানে খরা ও ফসলহানির মুখে পড়ছে বহু সম্প্রদায়।

তিনি আরও বলেন, যেসব রাষ্ট্র ও জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে, তারা খুবই কম ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী।

ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনের শাসনের প্রতি টেকসই প্রতিশ্রুতি আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এর ব্যতিক্রম নয়।

দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের মাতৃভূমি ধীরে ধীরে বিলীন হতে দেখছে।

তুভালুর স্থলভাগ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে মাত্র ২ মিটার উঁচু। ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির বেশিরভাগ অংশই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে ও ভবিষ্যতে পুরো জনসংখ্যাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার খরচ জোগাতে নাউরু সরকার এক অভিনব উপায় বেছে নিয়েছে। তারা ধনী বিদেশিদের কাছে নিজেদের দেশের পাসপোর্ট বিক্রি করছে।

নাউরুর পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। এই সুযোগটি ব্যবহার করেই ধনী বিদেশিরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নাউরুর নাগরিকত্ব কিনছে, আর সেই টাকা জমা হচ্ছে নাউরুর ভবিষ্যৎ স্থানান্তর তহবিলে।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। ‘ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ’ বা ‘বেঁচে থাকতে হলে ১.৫’ স্লোগানটি সেখান থেকেই এসেছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই নিরাপদ সীমা পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করে সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের কাছে পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের অদূরে একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জাতিসংঘের কাছে পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক
রাস্তার মাঝখানে বাঘের ঘুম, আটকে রইল পর্যটকদের গাড়ি
ভারতের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানের একটি কাদাময় সড়কে হঠাৎ তৈরি হলো যানজট। অন্য কোনো যানবাহন বা দুর্ঘটনা নয়, বরং বনের রাজা বাঘ নিশ্চিন্তে দুপুরের ঘুম দেওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। রাজস্থানের বিখ্যাত এ অভয়ারণ্যে সাফারিতে বেরিয়ে পর্যটকরা এমনই এক অভাবনীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। যার ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এলেনা নামে এক বিদেশি পর্যটক তার ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই তা ভাইরাল হয়।  ভিডিওটিতে দেখা যায়, ধুলোবালি ঘেরা সাফারির আঁকাবাঁকা রাস্তার ঠিক মাঝখানে আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে একটি বিশালদেহী বাঘ। আর তাকে না জাগিয়ে বা বিরক্ত না করে পথের ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৩০টি পর্যটকবাহী জিপ। বাঘটিকে একটু কাছ থেকে দেখার জন্য পর্যটকদের মধ্যে ফিসফিসানি আর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে এক নীরব ব্যস্ততা তৈরি হয়। বেশ কিছু সময় ঘুমিয়ে নেওয়ার পর বাঘটি ধীরে সুস্থে উঠে দাঁড়ায়, সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের মতো শরীর দোলা দিয়ে একটু আলসেমি ভাঙে, এবং উপস্থিত জিপের মানুষগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে শান্ত পায়ে বনের গহীনে মিলিয়ে যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে এলেনা রসিকতা করে লিখেছেন, ভারতের চিরচেনা যানজটের অভিজ্ঞতা যদি রাজকীয় হতে হয়, তবে তা এমনই হয়। তার এ পোস্টটিতে প্রায় ছয় লক্ষাধিক ভিউ এবং হাজার হাজার লাইক পড়েছে।  নেটিজেনরাও মন্তব্য বাক্সে মজার সব মন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, বনের রাজা যে নিজের ইচ্ছামতোই চলবেন; তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি। কেউ বা কমেন্ট করেছেন, বাঘটি হয়তো পর্যটকদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিল যে জঙ্গলটি আসলে কার শাসনে চলে। সূত্র: এনডিটিভি আরটিভি/এসআর  
রাস্তার মাঝখানে বাঘের ঘুম, আটকে রইল পর্যটকদের গাড়ি
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
নিষেধাজ্ঞা, চাপ কিংবা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মুখে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না এবং দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। 
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
আরও পড়ুন
জাতিসংঘের কাছে পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে বোমা আতঙ্ক
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, কারা পাবেন
খাটের বদলে শিশু সন্তানকে ওভেনে রেখেছিলেন মা, অতঃপর... 
চাকরি করেই বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের সুযোগ, যেসব যোগ্যতা লাগবে