ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস তদন্ত কমিশনের প্রধান বিচারপতি লিবারহান আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অযোধ্যায় ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তদন্তে গঠিত লিবারহান কমিশনের প্রধান বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহান মারা গেছেন। রোববার (২ আগস্ট) চণ্ডীগড়ে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সোমবার পরিবার, বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯৩৮ সালের ১১ নভেম্বর চণ্ডীগড়ের কাছে জন্মগ্রহণ করেন মনমোহন সিং লিবারহান। ১৯৬৪ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭০ সালে প্রথমবার পাঞ্জাব ও হরিয়ানা বার কাউন্সিলে নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ৭ জুলাই মাদ্রাজ হাইকোর্ট এবং ১৯৯৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে তার বিচারিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের তদন্ত। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় উগ্রপন্থিদের হামলায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ১০ দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার তার নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গঠন করে।

প্রায় ১৭ বছর ধরে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে কমিশনটি ৪৩ দফা সময় বৃদ্ধি পায়। সবশেষে ২০০৯ সালের ৩০ জুন ১ হাজার ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। এটি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম বিচার বিভাগীয় তদন্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

লিবারহান কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংস কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল উগ্রপন্থিদের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও উগ্র ডানপন্থি সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।

যদিও পরবর্তীতে অভিযুক্ত কয়েকজন কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতা আদালতে বেআইনি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে খালাস পান, তবুও লিবারহান কমিশনের প্রতিবেদন ভারতীয় রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন

বিচারপতি লিবারহানের মৃত্যুতে পাঞ্জাবের সিনিয়র অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অনু চাতরাথ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক একজন বিচারক। আদালতের পরিবেশ যতই উত্তপ্ত হোক না কেন, তার রসবোধ ও প্রজ্ঞা সবসময় পরিস্থিতিকে শান্ত রাখতে সহায়তা করত।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন হালজেন। বেলজিয়ামের কে ইউ লিউভেন থেকে ১৯৬৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন এই বিজ্ঞানী। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে হালজেনকে এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ মেরুর বরফকে কাজে লাগিয়ে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হালজেন। তার এই চিন্তাই পরবর্তী সময়ে ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ তৈরির ভিত্তি তৈরি করে।  প্রায় এক ঘনকিলোমিটার আয়তনের বিশাল বরফস্তরের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য আলোকসংবেদী সেন্সর। এসব যন্ত্রের সাহায্যে মহাবিশ্বের দূরবর্তী শক্তিশালী বিভিন্ন উৎস থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা সামনে আনেন হালজেন। কোনো নিউট্রিনো যখন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেখানে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ মেরুর স্বচ্ছ ও গভীর বরফে স্থাপিত সংবেদনশীল সেন্সরের সাহায্যে সেই আলোর সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব। গবেষণার জন্য দক্ষিণ মেরুর বরফকে উপযোগী করে তোলে এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাইরের নানা ধরনের প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত এই বিশাল বরফস্তর এবং ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা গবেষণার জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করে। হালজেনের ধারণা তাই পরবর্তী সময়ে অন্য গবেষকদের সমর্থন পায় এবং দক্ষিণ মেরুতে সেন্সর স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ১৯০১ সাল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই বিভাগে ১১৯ বার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী নোবেলজয়ী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার পেয়েছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী আর্থার আসকিন। ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল অর্জন করেন তিনি। আরটিভি/এসআর
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
করমুক্ত ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ দিতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার একটি নির্বাহী আদেশে সড়কে করমুক্ত লাল রঙের ডিজেল (রেড-ডাইড ডিজেল) ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
করমুক্ত ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ দিতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ
উত্তাল দিল্লি, আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।
উত্তাল দিল্লি, আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
কল রিসিভ করতেই ফোনের পর্দায় নগ্ন নারী, যে পরিণতি হলো তরুণের
অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল। কল রিসিভ করতেই ফোনের পর্দায় ভেসে ওঠে এক নগ্ন নারীর ছবি। এরপর ওই তরুণের ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে দাবি করে শুরু হয় ভয় দেখানো।
কল রিসিভ করতেই ফোনের পর্দায় নগ্ন নারী, যে পরিণতি হলো তরুণের
বাবরি মসজিদ প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর পর বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
বাবরি মসজিদ প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী
শপথ নিলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি
এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি
মুক্তি পেলেন সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক