ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস তদন্ত কমিশনের প্রধান বিচারপতি লিবারহান আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অযোধ্যায় ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তদন্তে গঠিত লিবারহান কমিশনের প্রধান বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহান মারা গেছেন। রোববার (২ আগস্ট) চণ্ডীগড়ে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। সোমবার পরিবার, বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১৯৩৮ সালের ১১ নভেম্বর চণ্ডীগড়ের কাছে জন্মগ্রহণ করেন মনমোহন সিং লিবারহান। ১৯৬৪ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭০ সালে প্রথমবার পাঞ্জাব ও হরিয়ানা বার কাউন্সিলে নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ৭ জুলাই মাদ্রাজ হাইকোর্ট এবং ১৯৯৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে তার বিচারিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের তদন্ত। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় উগ্রপন্থিদের হামলায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ১০ দিন পর, ১৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার তার নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গঠন করে।

প্রায় ১৭ বছর ধরে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে কমিশনটি ৪৩ দফা সময় বৃদ্ধি পায়। সবশেষে ২০০৯ সালের ৩০ জুন ১ হাজার ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। এটি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম বিচার বিভাগীয় তদন্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

লিবারহান কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংস কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল উগ্রপন্থিদের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও উগ্র ডানপন্থি সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।

যদিও পরবর্তীতে অভিযুক্ত কয়েকজন কট্টরপন্থি রাজনৈতিক নেতা আদালতে বেআইনি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে খালাস পান, তবুও লিবারহান কমিশনের প্রতিবেদন ভারতীয় রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন

বিচারপতি লিবারহানের মৃত্যুতে পাঞ্জাবের সিনিয়র অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অনু চাতরাথ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক একজন বিচারক। আদালতের পরিবেশ যতই উত্তপ্ত হোক না কেন, তার রসবোধ ও প্রজ্ঞা সবসময় পরিস্থিতিকে শান্ত রাখতে সহায়তা করত।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মিসিসিপিতে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের দাবি ট্রাম্পের, বাড়বে কর্মসংস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে করছাড়, কর্মসংস্থান, কৃষি সহায়তা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
মিসিসিপিতে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের দাবি ট্রাম্পের, বাড়বে কর্মসংস্থান
হোয়াইট হাউসে হ্যালোইন উৎসবের ঘোষণা দিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হ্যালোইন উৎসব।
হোয়াইট হাউসে হ্যালোইন উৎসবের ঘোষণা দিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প
কারাগার ভেঙে পালালেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনি, চলছে তল্লাশি
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে কারাগার থেকে পালিয়েছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক খুনি।
কারাগার ভেঙে পালালেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনি, চলছে তল্লাশি
‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ধর্ষণ করেন ট্রাম্প: সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াট্রিস কিউল।
‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলেই ধর্ষণ করেন ট্রাম্প: সাবেক মিস সুইজারল্যান্ড
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন
চীনের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মকর্তা সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওই কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, গত ২২ অক্টোবর ফুকুদা মারা যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এক বছর জাপানের নেতৃত্ব দেন ফুকুদা। আবের প্রথম দফার প্রধানমন্ত্রিত্ব মাত্র ১২ মাস স্থায়ী হয়েছিল। ক্ষমতায় থাকাকালে ফুকুদা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন এবং তৎকালীন চীনা প্রেসিডেন্ট হু চিনতাওকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান। ২০০৮ সালের মে মাসে হুর ওই সফরের মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান জাপান সফর করেন। দুই নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে ‘অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। জনসমর্থন কমে যাওয়ায় ফুকুদা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০১২ সালে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তবে বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ফুকুদা ২০১৪ সালে চীন সফর করেন। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার এই উদ্যোগ শির সঙ্গে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আবের দ্বিতীয় দফার শাসনামলে অনুষ্ঠিত একটি শীর্ষ বৈঠকের পথ সুগম করে। বেইজিং তাকে ‘পুরোনো বন্ধু’ হিসেবে স্মরণ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মি. ইয়াসুও ফুকুদা চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু ছিলেন এবং চীন-জাপান সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন। গুও জিয়াকুন ‘জাপানের প্রবীণ প্রজন্মের রাষ্ট্রনায়কদের সততা ও দায়িত্ববোধের’ কথা উল্লেখ করেন এবং ‘জাপানের বর্তমান নেতৃত্বকে’ গভীরভাবে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। চীনের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করা তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। আরটিভি/টিআর
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন
আরও পড়ুন
হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী
শপথ নিলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি
এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না: প্রধান বিচারপতি
মুক্তি পেলেন সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক