ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের চূড়ান্ত নথি থেকে নিজের নাম কাটার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল ও ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনাটির শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে জানায়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।

রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় খোঁজ শুরু হয়। তবে ঠিক তার পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে।

পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’।

অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে অবস্থানকালে হত্যা, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর বিচারে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটির নিজস্ব আলাদা একটি তদন্তকাজ শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

দুই বছরের পরিকল্পনা ও ৯০ হাজার ডলার লেনদেন

এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার মূল তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া।

তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়।

দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল।

অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনে বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার দায়ে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে।

এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে।

ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’

কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া
৩১ বছর বয়সেই ১২টি উচ্চতর ডিগ্রি, থামছেন না জেমি
বয়স মাত্র ৩১ বছর। এরই মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল, অক্সফোর্ড, স্ট্যানফোর্ডসহ বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২টি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা জেমি বিটন।
৩১ বছর বয়সেই ১২টি উচ্চতর ডিগ্রি, থামছেন না জেমি
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ঘুমন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা 
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির গ্লেন অ্যালপাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একদল হামলাকারী গ্লেন অ্যালপাইনের একটি দোতলা বাড়িতে প্রবেশ করে। ওই সময় বাড়িটিতে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারীরা সরাসরি ২৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর ঘরে গিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহত মার্কো তাপিয়ার (২৩) পেশাগত লিঙ্কডইন পেজ অনুসারে, তাপিয়া সিডনি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র এবং ইঞ্জিনিয়ার্স উইদাউট বর্ডারস ইউটিএস-এর একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।  নিহত মার্কো তাপিয়া; সিডনি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত   ঘটনার পর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে আলামত সংগ্রহ করে। বাড়িটির সামনের দরজাসহ বিভিন্ন স্থান খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তারা। ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেচেন অ্যাটকিনস জানান, হামলায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আরও পড়ুন নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার তিনি বলেন, নিহত তরুণের বিরুদ্ধে বড় কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। শুধু একটি সড়ক-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। তার পরিবারের সদস্যরা তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি এলোমেলোভাবে কোনো বাড়িতে হামলার ঘটনা নয়। বরং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অপরাধজগতের পরিচিত ব্যক্তি দাবি করেন, হামলাকারীরা ভুল ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। নির্বাসনে থাকা অপরাধী চক্রের কথিত সহপ্রতিষ্ঠাতা ইজাইয়া উতাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ভুল ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এমনকি সঠিক বাড়িতেও যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সিডনিতে সাম্প্রতিক সময়ে ভুল পরিচয়ের কারণে সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৮৫ বছর বয়সী ক্রিস বাগসারিয়ানকে ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে কনডেল পার্কে নিজের বাড়ির সামনে প্লাম্বার জন ভার্সাচিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকেও ভুল পরিচয়ের ঘটনা বলে সন্দেহ করেছিল। সিডনিতে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের বিরোধীদলীয় নেতা কেলি স্লোয়ান। তিনি বলেন, চলতি বছরেই শহরটিতে ৫০টি গুলির ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস মিনস বলেন, সহিংস অপরাধ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও পুলিশকে আরও বেশি সম্পদ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সরকার বিপুল পরিমাণ সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে যেকোনো তথ্য থাকলে তা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ছোট কোনো তথ্যও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে। নিহত তরুণের মৃত্যুর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নাইন নিউজ সিডনি, দ্য সিনিয়র    আরটিভি/জেএমএ 
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ঘুমন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা 
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মন্তব্যে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দেওয়া দুটি বিশেষ তরমুজ নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তার মন্তব্যকে ‘যৌনতাবাদী’ ও অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি। এ নিয়ে আলবানিজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে দুটি বিশেষ ধরনের তরমুজ উপহার দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। পরে ‘বুশ ডিপ’ নামের একটি অনুষ্ঠানে সেই উপহার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান আলবানিজ। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও কৌতুকশিল্পী নিকি অসবোর্ন তরমুজ দুটির প্রসঙ্গ তুলে কৌতুক করেন। এরপর আলবানিজ বলেন, ‘তিনি দুটি এনেছিলেন, আর সেগুলো সুন্দর।’ এ সময় তার মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি বলেন, আলবানিজের মন্তব্য ছিল ‘যৌনতাবাদী কৌতুক’। তার মতে, ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া উপহার নিয়ে এমন মন্তব্য দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। আরও পড়ুন ইউক্রেন অভিমুখে ৫ লাখ নতুন সৈন্য পাঠাচ্ছেন পুতিন! অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ । ছবি: সংগৃহীত   ইয়ামাগামি আরও বলেন, জাপানে এসব বিশেষ তরমুজ অত্যন্ত মূল্যবান ও সম্মানের উপহার হিসেবে বিবেচিত হয়। একটি তরমুজের দাম ৩০ হাজার ইয়েনেরও বেশি হতে পারে। তিনি আলবানিজকে উদ্দেশ করে বলেন, জাপানের মিষ্টি ও রসালো তরমুজ উপভোগ করার সময় সেগুলোকে নারীর শরীরের সঙ্গে তুলনা না করে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এর পর অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল আলবানিজের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে আলবানিজ নিজের মন্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাননি। এক বিরোধী সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নটির বক্তব্য তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তার সরকার দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। আলবানিজের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও। অর্থমন্ত্রী ক্যাটি গ্যালাঘার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিরোধী ও কিছু গণমাধ্যম যেভাবে ব্যাখ্যা করছে, তা তার উদ্দেশ্য ছিল না। সমাজসেবা মন্ত্রী তানিয়া প্লিবেরসেকও মন্তব্যটির ভিন্ন ব্যাখ্যাকে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন। এর আগে একই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কাইলি মিনোগকে নিয়ে মন্তব্য করেও সমালোচনায় পড়েছিলেন আলবানিজ। উপস্থাপক তাকে কাইলি মিনোগ, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান ও বিনোদনশিল্পী রোন্ডা বার্চমোরকে নিয়ে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন। জবাবে আলবানিজ কাইলি মিনোগকে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি তিনজনকেই নিয়ে মন্তব্য করেন। পরে ওই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান তিনি। এবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তরমুজ নিয়ে মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আরটিভি/জেএমএ 
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মন্তব্যে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
হঠাৎ বদলে গেল বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশের নাম
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ ও ঐতিহ্যবাহী পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র’ (Republic of Naoero)। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং জানান, শুধু দেশের নামই নয়, আন্তর্জাতিক পরিচিতিমূলক কোডেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে এত দিন নাউরুর নাগরিকদের ‘নাউরুয়ান’ বলা হলেও এখন থেকে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘দেই-নাওয়েরো’ নামে পরিচিত হবেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নাওয়েরো’ নামটি নতুন নয়; এটিই দ্বীপটির মূল ঐতিহ্যবাহী নাম। বহিরাগতদের উচ্চারণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ‘নাউরু’ ব্যবহার করা হলেও স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে দেশটি সব সময়ই ‘নাওয়েরো’ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং দেশটির সংবিধানেও এই নামের উল্লেখ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রস্তাবের আইনি প্রক্রিয়া শেষে নাম পরিবর্তন কার্যকর হলো।  প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং বলেন, এই পদক্ষেপে দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা নতুন মর্যাদা পাবে। আরও পড়ুন বার্ড ফ্লুর হুমকিতে অস্ট্রেলিয়ার ‘লিটল পেঙ্গুইন’, মারা যেতে পারে ৪০ শতাংশ মাত্র ১২ হাজার জনসংখ্যার নাওয়েরো আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় বিচারে বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্রতম স্বাধীন রাষ্ট্র। ১৯৬৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। সত্তর দশকে ফসফেট খনিজ থেকে অর্জিত বিপুল অর্থ দেশকে সমৃদ্ধ করলেও পরবর্তীতে সেই শিল্প ধসে পড়ায় অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে তারা। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন দেশটির প্রধান অস্তিত্ব সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা, সামুদ্রিক জাহাজ এবং সরকারি নথিপত্রে নতুন নাম ও কোড ব্যবহার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও নতুন নাম নিবন্ধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলের নাম বদলে নিজস্ব ঐতিহ্যে ফেরার এই তালিকায় এর আগে এসওয়াতিনি ও তুর্কিয়ে যুক্ত হয়েছিল, এবার যুক্ত হলো নাওয়েরো।আরটিভি/এআর 
হঠাৎ বদলে গেল বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশের নাম
আরও পড়ুন
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
১৮০ দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রকাশ করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র, আবেদন শেষ ২৩ সেপ্টেম্বর
পাকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ হাতছাড়া