
যুক্তরাষ্ট্রে ‘জব লক’ পরিস্থিতিতে লাখ লাখ কর্মী। স্বাস্থ্যবিমার জন্য এমন চাকরিতে থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেটি তারা আর করতে চান না। কারণ চাকরি ছাড়লে হারাতে পারেন স্বাস্থ্যবিমা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী এই পরিস্থিতিতে রয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।
ওয়েস্ট হেলথ–গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকা-এর গবেষণায় এই প্রবণতাকে ‘জব লক’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় কর্মীরা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়তে বা নতুন চাকরিতে যেতে পারছেন না। ২০২১ সালের তুলনায় এ ধরনের কর্মীর হার ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
গবেষণাটি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমাকে প্রধান স্বাস্থ্যসুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা ২ হাজার ৩২২ জন কর্মীর তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ নিয়মিতভাবে বহন করতে তাদের সমস্যা হয়। একই সঙ্গে ৫১ শতাংশ মানুষ আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ হার।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঋণে থাকা কর্মীদের মধ্যে ‘জব লক’-এর হার আরও বেশি। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক চিকিৎসা ঋণ রয়েছে এমন কর্মীদের ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা এমন চাকরিতে থেকে যাচ্ছেন, যেটি তারা ছাড়তে চান। চিকিৎসা ঋণ নেই এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ২১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য ব্যয়কে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা মনে করেন এমন কর্মীদের মধ্যেও প্রায় ৪৮ শতাংশ চাকরি ছাড়তে পারছেন না স্বাস্থ্যবিমার কারণে। আর যাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে তীব্র মানসিক চাপ রয়েছে, তাদের মধ্যে এই হার ৫৩ শতাংশ।
নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। জরিপে ৩০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়ছেন না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ।
দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এক বা একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যবিমার কারণে চাকরি ছাড়তে পারছেন না। এমন কোনো রোগ নেই—এমন কর্মীদের মধ্যে এই হার ১৭ শতাংশ। তিন বা তার বেশি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে।
গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা অনেক ক্ষেত্রে চাকরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এর প্রভাব শুধু চিকিৎসা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চাকরি পরিবর্তন, বেতন বৃদ্ধি, পেশাগত উন্নতি এমনকি নতুন ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্তেও স্বাস্থ্যবিমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখন এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ পছন্দের চাকরি ছেড়ে ভালো সুযোগ নেওয়ার বদলে বর্তমান চাকরিটিই ধরে রাখছেন—শুধু স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি এড়াতে। আর স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় যত বাড়ছে, এই ‘জব লক’ প্রবণতাও তত বেশি কর্মীর পেশাগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
আরটিভি/ এসকেডি


