
ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে হার্নান্দেজ নামে এক অভিবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় আইসের হাতে আটক হয়েছেন। পরে অন্য এক অভিবাসী তাকে হাসপাতালে নেন। তার আইনজীবী জোসে মেহিয়ার দেওয়া তথ্য মতে, হার্নান্দেজকে হাসপাতালে পরীক্ষার পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ফোলাভাব এবং মাথায় আঘাত শনাক্ত হয়।
আইনজীবীর ভাষ্য মতে, ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তার কাছে এসে থামে। সেখান থেকে দুই ব্যক্তি নেমে তাকে ধাওয়া করেন। তারা কারা, তা বুঝতে না পেরে হার্নান্দেজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
হার্নান্দেজের দাবি, পালানোর সময় তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর তিনি জ্ঞান হারান। কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান, তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলাভাব রয়েছে।
জ্ঞান ফেরার পর হার্নান্দেজ তার হাসপাতালের বিছানার পাশে দুই আইস কর্মকর্তাকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। তিনি কীভাবে আহত হয়েছেন জানতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ হার্নান্দেজের বক্তব্যের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগের দাবি, আটকের সময় হার্নান্দেজ সাড়া দিচ্ছিলেন এবং তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার পর তাকে আটক করতে আইস কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেন।
তবে কীভাবে ওই হার্নান্দেজের মুখে গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীর জোসে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় আইস কর্মকর্তারা তার পাশে ছিলেন বলেও হার্নান্দেজ অভিযোগ করেছেন। এদিকে তার স্ত্রী ও সৎ সন্তান প্রায় তিন দিন পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি আটক হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর আইস হার্নান্দেজের পায়ে জিপিএস নজরদারি যন্ত্র পরিয়ে দেয় এবং তাকে ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কয়েক দিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি অনুভব করলে হার্নান্দেজ আবার হাসপাতালে যান। সেখানে তাকে পুনরায় মস্তিষ্কে আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনি আরও দুই দিন হাসপাতালে ছিলেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর হার্নান্দেজ তার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউনিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকে তিনি নিয়মিত কাজ করে আসছেন এবং পরিবারকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চেয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করেন।
এখন প্রশ্ন হলো, আইস কর্মকর্তারা হার্নান্দেজকে আটক করার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেই সময় তিনি কীভাবে এত গুরুতরভাবে আহত হলেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাকে আটক করতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে হার্নান্দেজের পক্ষ থেকে আটকের পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে।
আরটিভি/এমএম




