ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসের হাতে অভিবাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
নিচ থেকে মাঝে আহত হার্নান্দেজ : ছবি সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে হার্নান্দেজ নামে এক অভিবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় আইসের হাতে আটক হয়েছেন। পরে অন্য এক অভিবাসী তাকে হাসপাতালে নেন। তার আইনজীবী জোসে মেহিয়ার দেওয়া তথ্য মতে, হার্নান্দেজকে হাসপাতালে পরীক্ষার পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ফোলাভাব এবং মাথায় আঘাত শনাক্ত হয়।

আইনজীবীর ভাষ্য মতে, ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তার কাছে এসে থামে। সেখান থেকে দুই ব্যক্তি নেমে তাকে ধাওয়া করেন। তারা কারা, তা বুঝতে না পেরে হার্নান্দেজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

হার্নান্দেজের দাবি, পালানোর সময় তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর তিনি জ্ঞান হারান। কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান, তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলাভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন

জ্ঞান ফেরার পর হার্নান্দেজ তার হাসপাতালের বিছানার পাশে দুই আইস কর্মকর্তাকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। তিনি কীভাবে আহত হয়েছেন জানতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ হার্নান্দেজের বক্তব্যের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগের দাবি, আটকের সময় হার্নান্দেজ সাড়া দিচ্ছিলেন এবং তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার পর তাকে আটক করতে আইস কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেন।

তবে কীভাবে ওই হার্নান্দেজের মুখে গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

আইনজীবীর জোসে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় আইস কর্মকর্তারা তার পাশে ছিলেন বলেও হার্নান্দেজ অভিযোগ করেছেন। এদিকে তার স্ত্রী ও সৎ সন্তান প্রায় তিন দিন পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি আটক হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন

হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর আইস হার্নান্দেজের পায়ে জিপিএস নজরদারি যন্ত্র পরিয়ে দেয় এবং তাকে ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

কয়েক দিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি অনুভব করলে হার্নান্দেজ আবার হাসপাতালে যান। সেখানে তাকে পুনরায় মস্তিষ্কে আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনি আরও দুই দিন হাসপাতালে ছিলেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর হার্নান্দেজ তার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউনিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকে তিনি নিয়মিত কাজ করে আসছেন এবং পরিবারকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চেয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করেন।

এখন প্রশ্ন হলো, আইস কর্মকর্তারা হার্নান্দেজকে আটক করার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেই সময় তিনি কীভাবে এত গুরুতরভাবে আহত হলেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাকে আটক করতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে হার্নান্দেজের পক্ষ থেকে আটকের পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা। আরটিভি/ এসকেডি
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
আরও পড়ুন
ভোটার হতে রংপুর গিয়েছিলেন রোহিঙ্গা যুবক, অতঃপর...
পাইকগাছায় ৪৮ ঘণ্টায় ১৪ জন আটক, চুরি যাওয়া ট্রাক উদ্ধার
খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক
জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক থেকে আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক