
যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন নাগরিক স্বামীকে বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে গিয়ে আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হাতে আটক হয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক মা। কেন্টাকির লুইসভিলে গত ১২ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে। আটকের সময় ওই নারীর সঙ্গে ছিলেন তার মার্কিন নাগরিক স্বামী এবং তাদের দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তান।
নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ওই নারীর নাম আর্মেল বন্ডোঙ্গা। তিনি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর নাগরিক। ২০১৩ সালে শিশু বয়সে বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। বন্ডোঙ্গার আইনজীবী আরিয়ানিত ওসমানি জানান, বন্ডোঙ্গা ও তার স্বামী টেরেন্স ব্র্যাডশ বৈবাহিক সূত্রে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বৈধ করার চেষ্টা করছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তারা নির্ধারিত ইন্টারভিউতে অংশ নিতে ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে যান।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউ শেষ হওয়া মাত্রই বন্ডোঙ্গাকে আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি লুকিয়ে না থেকে নিজেই নিয়ম মেনে ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউতে হাজির হয়েছিলেন। স্ত্রী আটক হওয়ার পর দেড় বছরের ছোট সন্তানকে সামলানো এবং পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব এখন একাই পালন করছেন তার মার্কিন স্বামী ব্র্যাডশ।
তবে এই আটকের ঘটনায় ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে আইস। সংস্থাটি নিউজউইককে জানায়, বন্ডোঙ্গা ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও ২০১৪ সালের মার্চে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি অনুমোদিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। আইসের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই এক ইমিগ্রেশন বিচারক বন্ডোঙ্গার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ‘রিমুভাল অর্ডার’ (দেশত্যাগের আদেশ) জারি করেছিলেন। অর্থাৎ তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার আইনি সিদ্ধান্ত আগে থেকেই কার্যকর ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, কোনো মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কোনো বিদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ স্ট্যাটাস বা গ্রিন কার্ড পান না। ইউএসসিআইএস-এর নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, পরিবারের সদস্যের করা ইমিগ্রেশন আবেদন কোনো ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধতা দেয় না কিংবা তার বিরুদ্ধে থাকা রিমুভাল কার্যক্রম বন্ধ করে না।
বন্ডোঙ্গার আইনজীবী এই আটকের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। কেন্টাকির ডেমোক্র্যাট স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিমা কুলকার্নিও এই আইনি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তবে আইসের বক্তব্য, বন্ডোঙ্গাকে সব ধরনের আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং চূড়ান্ত আদেশের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বৈধ করার চেষ্টায় থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো রিমুভাল অর্ডার, ভিসা ওভারস্টে বা ইমিগ্রেশন কোর্টের মামলা ঝুলে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা কিংবা গ্রিন কার্ডের আবেদন চলমান থাকা সত্ত্বেও আইসের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। বন্ডোঙ্গা বর্তমানে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন এবং তার পরিবার পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য লড়ছে।
আরটিভি/এআর




