ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানকে ‘সর্বকালের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক আঘাতের’ ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইরান তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে দেশটি এখন কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়ার পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানকে আর্থিক, বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন

এ সময় তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, নিবন্ধিত জাহাজ ব্যবহার এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি। এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থ প্রবাহ বন্ধে তেল, নৌ ও আর্থিক খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। তবে নতুন এই পদক্ষেপে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র এবার ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা চীন, তুরস্ক ও ইরাকের ওপর দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

তবে চীনের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ বেইজিং এরই মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে নতি স্বীকার না করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইরানকে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে নতুন পদক্ষেপের পথে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়।  ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি।  ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে।  কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।  ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে।  আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়। আরটিভি/এসআর
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতি শেষে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী।
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
ফ্লোরিডায় ওজন কমানোর নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নকল ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক বিক্রির একটি আন্তর্জাতিক চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
ফ্লোরিডায় ওজন কমানোর নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা
আরও পড়ুন
ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী, বাড়তে পারে ইরানের প্রভাব
সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব: ইরানের রাষ্ট্রদূত
ইরানে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ
জবির সেমিনারে যাচ্ছেন ইরান-রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত