ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতন পান যে দেশের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বার্ষিক পারিশ্রমিক প্যাকেজ ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়াবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা। খবর বিবিসির।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিঙ্গাপুর সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও শীর্ষ সরকারি পদধারীদের বার্ষিক বেতন বাড়ানো হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ওংয়ের বার্ষিক পারিশ্রমিক প্যাকেজে ১৪ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ১১ লাখ মার্কিন ডলার যোগ হবে।

তবে বর্ধিত অর্থ নিজের জন্য রাখবেন না ওং। আগামী পাঁচ বছর বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থ দাতব্য কাজে দান করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বেতন বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ওং বলেছেন, যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন। সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, উচ্চ বেতন মন্ত্রীদের ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়ানোর প্রবণতা কমাতে সহায়তা করে।

তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগের মধ্যে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বেতন বাড়ানোর আগেও লরেন্স ওং বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা। বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় ২২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে।

তালিকায় ওংয়ের পরেই রয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি। তিনি বছরে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার বেতন পান। সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের বার্ষিক বেতন প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরে ৪ লাখ ডলার এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার বেতন পান।

বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ওং স্বীকার করেছেন, সিঙ্গাপুরের অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় মন্ত্রীদের বেতন অনেক বেশি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে মধ্যম মাসিক আয় ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার।

ওং বলেন, ব্যবসায়ী নেতা ও শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে আসতে রাজি করাতে তিনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ব্যক্তির কেউ কেউ রাজনীতিতে যোগ দিলে বর্তমান পেশা থেকে বড় অঙ্কের আয় হারাবেন।

তিনি বলেন, আমরা তাদের উপার্জনের সঙ্গে আর্থিকভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারি না। তবে তাদের ক্যারিয়ার ছেড়ে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধাকে আমরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠিন করে তুলছি না।

ওং আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে আমি বিশ্বাস করি, এর ফলে আমি এবং ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীরা আরও যোগ্য সিঙ্গাপুরীয়দের সামনে এগিয়ে আসতে এবং দেশের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে আরও ভালো সুযোগ পাব।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের মূল বেতন প্যাকেজ প্রায় ১১ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার। নতুন কাঠামোতে তা বেড়ে প্রায় ১২ লাখ ডলার হবে। তবে মেয়াদের শেষ নাগাদ অধিকাংশ মন্ত্রী প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ওং। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তাদের বেতন বাড়বে।

মন্ত্রীদের বেতন প্যাকেজের একটি অংশ নির্ধারিত হয় দেশটি নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে কি না, তার ওপর। এর মধ্যে বেকারত্বের হার, মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির মতো সূচক রয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাপানে হঠাৎ জোড়া ভূমিকম্প
পূর্ব জাপানে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। 
জাপানে হঠাৎ জোড়া ভূমিকম্প
জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যান তিনি। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’
জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
শান্ত-সৌম্য চেহারা। পরনে স্যুট, গলায় টাই। হাতে ছোট একটি ব্রিফকেস। দেখলে মনে হতে পারে আর দশজন সাধারণ যাত্রীর মতোই তিনি। কিন্তু বিমানে ওঠার পরই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ব্রিফকেসে বোমা থাকার দাবি করে ছিনিয়ে নেন বিমান। এরপর ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে উড়ন্ত বিমান থেকে ঝাঁপ দেন অন্ধকারে। তারপর? আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বরের। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে এসে সিয়াটলের একটি একমুখী টিকিট কেনেন এক ব্যক্তি। টিকিটে নাম দেন ‘ড্যান কুপার’। বয়স আনুমানিক চল্লিশের মাঝামাঝি। বিমানে উঠে অর্ডার করেন বারবন ও সোডা। বিকেল ৩টার কিছু পর এক বিমানবালার হাতে একটি নোট তুলে দেন তিনি। নোটে লেখা ছিল, তার ব্রিফকেসে বোমা রয়েছে এবং বিমানবালাকে তার পাশে বসতে হবে। পরে ব্রিফকেসটি সামান্য খুলে তার ভেতরে তার ও লাল রঙের কাঠির মতো বস্তু দেখান তিনি। এরপর পাইলটের কাছে পাঠানো হয় তার দাবি। চারটি প্যারাসুট এবং ২০ ডলারের নোটে ২ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে এটাই ছিল ছিনতাইকারীর শর্ত। সিয়াটলে বিমান অবতরণের পর মুক্তিপণের অর্থ ও প্যারাসুট বিমানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ৩৬ যাত্রীকে ছেড়ে দেন তিনি। তবে কয়েকজন ক্রু সদস্যকে জিম্মি রেখে বিমানটিকে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাত ৮টার কিছু পর। সিয়াটল ও রেনোর মাঝামাঝি কোথাও উড়ছিল বিমানটি। হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশ দিয়ে প্যারাসুট ও মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও এরপর আর কোনোদিন দেখা যায়নি তাকে। ঘটনার পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শুরু করে ‘নরজ্যাক’ নামে বিশাল তদন্ত। বিমানে তল্লাশি চালানো হয়, শত শত মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই ৮০০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু একে একে সবাই বাদ পড়তে থাকেন। তদন্তকারীরা বিমানে খুঁজে পান একটি কালো জে.সি. পেনি টাই। পরে সেখান থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। উদ্ধার করা হয় দুটি প্যারাসুট ও একটি ক্যানভাসের ব্যাগ। তবে ছিনতাইকারী কোন প্যারাসুট ব্যবহার করেছিলেন এবং লাফ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল তা আর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার কয়েক মাস পর রিচার্ড ফ্লয়েড ম্যাককয় নামে এক ব্যক্তিকে একই ধরনের বিমান ছিনতাই ও প্যারাসুটে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিমানবালাদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায় তাকে ডি.বি. কুপার হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। এদিকে, তদন্তকারীদের একটি বড় অংশের ধারণা, ভয়ংকর সেই লাফের পর হয়তো বেঁচেই ছিলেন না কুপার। কারণ তার ব্যবহৃত প্যারাসুটটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল না। তার পোশাক ও জুতা ছিল দুর্গম বনাঞ্চলে অবতরণের জন্য অনুপযোগী। তার ওপর ছিল রাতের অন্ধকার এবং প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ। তবে ১৯৮০ সালে রহস্যে যোগ হয় নতুন অধ্যায়। কলম্বিয়া নদীর কাছে এক বালক পচে যাওয়া একটি প্যাকেট খুঁজে পায়। ভেতরে ছিল ৫ হাজার ৮০০ ডলার। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো কুপারকে দেওয়া মুক্তিপণের অর্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাহলে কি নদী বা জঙ্গলে কোথাও মৃত্যুবরণ করেছিলেন কুপার? নাকি বিপুল অর্থ নিয়ে সফলভাবেই পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি? আরেকটি বিষয় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। সংবাদমাধ্যমে ‘ডি.বি. কুপার’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও ‘ডি.বি.’ আসলে ছিল ভুলবশত ছড়িয়ে পড়া একটি নাম। মূল ছিনতাইকারী নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ড্যান কুপার নামে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তদন্ত করেও রহস্যের কোনো চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনি এফবিআই। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১২ জুলাই সংস্থাটি জানায়, মামলাটিতে বরাদ্দকৃত তদন্ত সম্পদ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর কেটে গেছে আরও অনেক বছর। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই রাতের প্রশ্নগুলো আজও রয়ে গেছে কে ছিলেন ড্যান কুপার? প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল? আর মুক্তিপণের বাকি টাকা কোথায় গেল? উত্তর মেলেনি কোনো প্রশ্নেরই। তাই মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসী বিমান ছিনতাইয়ের এই কাহিনি আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। সূত্র: এফবিআই আরটিভি/এসকে
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
শান্ত-সৌম্য চেহারা। পরনে স্যুট, গলায় টাই। হাতে ছোট একটি ব্রিফকেস। দেখলে মনে হতে পারে আর দশজন সাধারণ যাত্রীর মতোই তিনি। কিন্তু বিমানে ওঠার পরই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ব্রিফকেসে বোমা থাকার দাবি করে ছিনিয়ে নেন বিমান। এরপর ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে উড়ন্ত বিমান থেকে ঝাঁপ দেন অন্ধকারে। তারপর? আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বরের। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে এসে সিয়াটলের একটি একমুখী টিকিট কেনেন এক ব্যক্তি। টিকিটে নাম দেন ‘ড্যান কুপার’। বয়স আনুমানিক চল্লিশের মাঝামাঝি। বিমানে উঠে অর্ডার করেন বারবন ও সোডা। বিকেল ৩টার কিছু পর এক বিমানবালার হাতে একটি নোট তুলে দেন তিনি। নোটে লেখা ছিল, তার ব্রিফকেসে বোমা রয়েছে এবং বিমানবালাকে তার পাশে বসতে হবে। পরে ব্রিফকেসটি সামান্য খুলে তার ভেতরে তার ও লাল রঙের কাঠির মতো বস্তু দেখান তিনি। এরপর পাইলটের কাছে পাঠানো হয় তার দাবি। চারটি প্যারাসুট এবং ২০ ডলারের নোটে ২ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে এটাই ছিল ছিনতাইকারীর শর্ত। সিয়াটলে বিমান অবতরণের পর মুক্তিপণের অর্থ ও প্যারাসুট বিমানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ৩৬ যাত্রীকে ছেড়ে দেন তিনি। তবে কয়েকজন ক্রু সদস্যকে জিম্মি রেখে বিমানটিকে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাত ৮টার কিছু পর। সিয়াটল ও রেনোর মাঝামাঝি কোথাও উড়ছিল বিমানটি। হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশ দিয়ে প্যারাসুট ও মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও এরপর আর কোনোদিন দেখা যায়নি তাকে। ঘটনার পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শুরু করে ‘নরজ্যাক’ নামে বিশাল তদন্ত। বিমানে তল্লাশি চালানো হয়, শত শত মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই ৮০০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু একে একে সবাই বাদ পড়তে থাকেন। তদন্তকারীরা বিমানে খুঁজে পান একটি কালো জে.সি. পেনি টাই। পরে সেখান থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। উদ্ধার করা হয় দুটি প্যারাসুট ও একটি ক্যানভাসের ব্যাগ। তবে ছিনতাইকারী কোন প্যারাসুট ব্যবহার করেছিলেন এবং লাফ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল তা আর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার কয়েক মাস পর রিচার্ড ফ্লয়েড ম্যাককয় নামে এক ব্যক্তিকে একই ধরনের বিমান ছিনতাই ও প্যারাসুটে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিমানবালাদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায় তাকে ডি.বি. কুপার হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। এদিকে, তদন্তকারীদের একটি বড় অংশের ধারণা, ভয়ংকর সেই লাফের পর হয়তো বেঁচেই ছিলেন না কুপার। কারণ তার ব্যবহৃত প্যারাসুটটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল না। তার পোশাক ও জুতা ছিল দুর্গম বনাঞ্চলে অবতরণের জন্য অনুপযোগী। তার ওপর ছিল রাতের অন্ধকার এবং প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ। তবে ১৯৮০ সালে রহস্যে যোগ হয় নতুন অধ্যায়। কলম্বিয়া নদীর কাছে এক বালক পচে যাওয়া একটি প্যাকেট খুঁজে পায়। ভেতরে ছিল ৫ হাজার ৮০০ ডলার। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো কুপারকে দেওয়া মুক্তিপণের অর্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাহলে কি নদী বা জঙ্গলে কোথাও মৃত্যুবরণ করেছিলেন কুপার? নাকি বিপুল অর্থ নিয়ে সফলভাবেই পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি? আরেকটি বিষয় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। সংবাদমাধ্যমে ‘ডি.বি. কুপার’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও ‘ডি.বি.’ আসলে ছিল ভুলবশত ছড়িয়ে পড়া একটি নাম। মূল ছিনতাইকারী নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ড্যান কুপার নামে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তদন্ত করেও রহস্যের কোনো চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনি এফবিআই। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১২ জুলাই সংস্থাটি জানায়, মামলাটিতে বরাদ্দকৃত তদন্ত সম্পদ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর কেটে গেছে আরও অনেক বছর। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই রাতের প্রশ্নগুলো আজও রয়ে গেছে কে ছিলেন ড্যান কুপার? প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল? আর মুক্তিপণের বাকি টাকা কোথায় গেল? উত্তর মেলেনি কোনো প্রশ্নেরই। তাই মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসী বিমান ছিনতাইয়ের এই কাহিনি আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। সূত্র: এফবিআই আরটিভি/এসকে
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
মাটির ৪০০ ফুট গভীরে থিম পার্ক!
মাটির প্রায় ৪০০ ফুট গভীরে তৈরি হয়েছে এক অভিনব থিম পার্ক। রোমানিয়ার প্রাচীন লবণ খনি স্যালিনা তুরদাকে রূপ দেওয়া হয়েছে নজরকাড়া এক ভূগর্ভস্থ বিনোদনকেন্দ্রে। ইতিহাস ও বিনোদনের মেলবন্ধনে তৈরি এই জায়গা দেখতে প্রতিবছর ছুটে আসেন অসংখ্য দর্শনার্থী।
মাটির ৪০০ ফুট গভীরে থিম পার্ক!