
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যান তিনি। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, জ্ঞান ফেরার পর তিনি রাগান্বিত ও বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। তার দুই হাত ফুলে গেছে, এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে, নিউমোনিয়া হয়েছে এবং খাবার গিলতে পারছেন না।
১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে আছেন।
ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর কয়েকদিন পাইককে মস্তিষ্কের দিক থেকে মৃত বলে ধারণা করা হয়েছিল। তাকে কৃত্রিম জীবনধারণ ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। তবে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হঠাৎ তিনি কথা বলতে শুরু করেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জরুরি শুনানিতে আদালত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ইনজেকশনের নল, সিরিঞ্জ, প্যাকেট, নির্দেশনাপত্র ও লেবেল রয়েছে। পাইকের মানসিক অবস্থা-সংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।
এদিকে টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
আইনজীবীদের অভিযোগ, হাসপাতালে পাইকের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে বিছানার সঙ্গে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


