
ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েছেন চীনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তার প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বাড়ায় দ্রুত বেড়েছে তার সম্পদের পরিমাণ।
ব্লুমবার্গের ধনী ব্যক্তিদের সূচক অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী জ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০১৯ সালের মার্চে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ছয় বছরের কিছু বেশি সময়ে তার সম্পদ আট গুণেরও বেশি বেড়েছে।
টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত জ্যাংয়ের এই উত্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কঠোর নিয়ন্ত্রক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
কে এই জ্যাং ইমিং?
২০১২ সালে বেইজিংয়ের একটি চার কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাং ইমিং। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় সাফল্য ছিল টুটিয়াও নামের একটি অ্যালগরিদমনির্ভর সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম।
এরপর বাইটড্যান্স চীনে দৌইন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকটক চালু করে। ২০২১ সালে তিনি বাইটড্যান্সের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এখনো কোম্পানিটির ৫০ শতাংশের বেশি ভোটাধিকার তার হাতে রয়েছে।
যেভাবে বাইটড্যান্সের উত্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে জ্যাং ইমিং প্রকৌশলী হিসেবে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পরে কিছুদিন মাইক্রোসফটেও কাজ করেন। এরপর তিনি ৯৯ফ্যাং নামে একটি আবাসন খোঁজার প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এই পরিবর্তন তিনি শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন। ২০১২ সালে তাই বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন। তার ধারণা ছিল, ব্যবহারকারীর খোঁজ বা সামাজিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর না করে যন্ত্রের শেখার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা ধরনের বিষয়বস্তু সাজানো।
এই প্রযুক্তিই টুটিয়াওকে চীনের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপে পরিণত করে।
২০১৬ সালে চীনে দৌইন চালু করে বাইটড্যান্স। পরের বছর আন্তর্জাতিক বাজারে আসে টিকটক। পরে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে মিউজিক্যালি কিনে সেটিকে টিকটকের সঙ্গে একীভূত করা হয়। এরপর বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় টিকটক। বর্তমানে এর সক্রিয় ব্যবহারকারী এক বিলিয়নেরও বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ
বাইটড্যান্স এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি দৌবাও নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি বড় আকারের ভিডিও ও বহুমাধ্যমভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু ব্লুমবার্গকে বলেন, জ্যাং ইমিং পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। তবে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তীব্র প্রতিযোগিতাই এখন বাইটড্যান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিয়ন্ত্রক চাপ ও বিতর্ক
সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি বাইটড্যান্সকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি দ্বন্দ্বের মধ্যে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়ে। এর পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ অন্যতম কারণ ছিল।
চীনেও ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা এবং অ্যালগরিদম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এতসব চাপের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বাড়ায় জ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্য দিয়েই এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় উঠে এসেছেন টিকটকের এই প্রতিষ্ঠাতা।
আরটিভি/জেএমএ


