ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার শীর্ষ ধনী টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পিএম
বাইটড্যান্সের ও টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং এবং ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি । ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েছেন চীনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তার প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বাড়ায় দ্রুত বেড়েছে তার সম্পদের পরিমাণ।

ব্লুমবার্গের ধনী ব্যক্তিদের সূচক অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী জ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০১৯ সালের মার্চে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ছয় বছরের কিছু বেশি সময়ে তার সম্পদ আট গুণেরও বেশি বেড়েছে।

টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত জ্যাংয়ের এই উত্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কঠোর নিয়ন্ত্রক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

কে এই জ্যাং ইমিং?

২০১২ সালে বেইজিংয়ের একটি চার কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাং ইমিং। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় সাফল্য ছিল টুটিয়াও নামের একটি অ্যালগরিদমনির্ভর সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম।

এরপর বাইটড্যান্স চীনে দৌইন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকটক চালু করে। ২০২১ সালে তিনি বাইটড্যান্সের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এখনো কোম্পানিটির ৫০ শতাংশের বেশি ভোটাধিকার তার হাতে রয়েছে।

যেভাবে বাইটড্যান্সের উত্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে জ্যাং ইমিং প্রকৌশলী হিসেবে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পরে কিছুদিন মাইক্রোসফটেও কাজ করেন। এরপর তিনি ৯৯ফ্যাং নামে একটি আবাসন খোঁজার প্রতিষ্ঠান চালু করেন।

স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এই পরিবর্তন তিনি শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন। ২০১২ সালে তাই বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন। তার ধারণা ছিল, ব্যবহারকারীর খোঁজ বা সামাজিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর না করে যন্ত্রের শেখার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা ধরনের বিষয়বস্তু সাজানো।

এই প্রযুক্তিই টুটিয়াওকে চীনের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপে পরিণত করে।

২০১৬ সালে চীনে দৌইন চালু করে বাইটড্যান্স। পরের বছর আন্তর্জাতিক বাজারে আসে টিকটক। পরে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে মিউজিক্যালি কিনে সেটিকে টিকটকের সঙ্গে একীভূত করা হয়। এরপর বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় টিকটক। বর্তমানে এর সক্রিয় ব্যবহারকারী এক বিলিয়নেরও বেশি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ

বাইটড্যান্স এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি দৌবাও নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি বড় আকারের ভিডিও ও বহুমাধ্যমভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু ব্লুমবার্গকে বলেন, জ্যাং ইমিং পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। তবে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তীব্র প্রতিযোগিতাই এখন বাইটড্যান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নিয়ন্ত্রক চাপ ও বিতর্ক

সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি বাইটড্যান্সকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি দ্বন্দ্বের মধ্যে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়ে। এর পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ অন্যতম কারণ ছিল।

চীনেও ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা এবং অ্যালগরিদম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করে।

এতসব চাপের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বাড়ায় জ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্য দিয়েই এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় উঠে এসেছেন টিকটকের এই প্রতিষ্ঠাতা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল থেকে পরিবারসহ পালালেন বলসোনারো, ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবরের মধ্যে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। 
নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল থেকে পরিবারসহ পালালেন বলসোনারো, ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
নাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
মুসলিমদের ছাড়া ইসরায়েলের কোনো দলই সরকার গঠন করতে পারছে না
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি মুসলিম নাগরিকদের ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট এবং বিরোধী দলীয় জোট উভয় পক্ষই সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।  স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা যায়, ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের বিপরীতে নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন এবং বিরোধী জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল জয়েন্ট লিস্ট এবং রাম যৌথভাবে ১৭টি আসন অর্জন করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।  এই ফলাফলের মাধ্যমে দেশটির পার্লামেন্টে আরব আইনপ্রণেতাদের আসন সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ যোগ্য ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের হার বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফল শেষ পর্যন্ত বুথফেরত জরিপের কাছাকাছি থাকলে নেতানিয়াহুর জোট বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। তবে আইজেনকোটও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হননি। চূড়ান্ত ফলের পর ছোট দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন হতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই। আরটিভি/এসআর
মুসলিমদের ছাড়া ইসরায়েলের কোনো দলই সরকার গঠন করতে পারছে না
কে হতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
কে হতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
টিকিটের দাম ৩১ শতাংশ বেশি, থ্যাংকসগিভিংয়ে কমছে বিমানযাত্রা
যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাংকসগিভিং ছুটিতে বিমানভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করছেন অনেক মানুষ।
টিকিটের দাম ৩১ শতাংশ বেশি, থ্যাংকসগিভিংয়ে কমছে বিমানযাত্রা